Time ****** KMT(+3.00)

আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম

হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম

হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা, উনাদের তাযীম-তাকরীম করা এবং উনাদের মুবারক ছানা-ছিফত করা সমস্ত মুসলমান তথা জিন-ইনসান সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

قل لا أسألكم عليه أجرأ الا المودة في القربى. ومن يقترف حسنة نزد له فيها حسنا. ان الله غفورشكور.

অর্থ: “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, “তোমাদের কাছে কোনো কিছু চাওয়া হচ্ছে না (আর তোমাদের পক্ষে কোনো বিনিময় দেয়াও সম্ভব নয়, বরং বিনিময় দেয়ার চিন্তা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত); তবে তোমরা আমার ক্বরীব তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সদাচরণ (তাযীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত খিদমত মুবারক) করবে। যে কেউ এই মহান নেক কাজ (আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তাযীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত, খিদমত মুবারক) কববে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে আরও উত্তম প্রতিদান হাদিয়া করবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং আমলে উত্তম প্রতিদান দানকারী।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে।


হযরত আবূ মূসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,আমিইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামহযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালামসাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবীআহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস  সালাম আমরা সকলেই ক্বিয়ামতের দিন পবিত্র আরশ উনার গুম্বজ মুবারক উনার নিচে অবস্থান করবো। সুবহানাল্লাহ! (মাজমাউয যাওয়ায়িদকানযুল উম্মাললিসানুল-মীযান,শরহুল মুওয়াত্তা লিযযুরকানী)
অন্য বর্ণনায় এসেছে,“হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনিবলেননূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদমুবারক করেননিশ্চয়ই  সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালামহযরত  ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবীআহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম  হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা পবিত্র জান্নাতুল ফিরদাউসেধবধবে সাদা গম্বুজ মুবারক উনার নিচে  অবস্থান করবেনযেই গম্বুজ মুবারক উনার ছাদ হবেমহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আরশ।” 
(কানযুল উম্মাল শরীফইবনে আসাকির শরীফ)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ  করেন,“হে হাবীব ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া  সাল্লাম আপনি তাদেরকে বলুন   তারা যেন আমার বিশেষ দিনগুলোকে শ্রদ্ধারসাথে স্মরণ করে।  মহান  আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামআপনি জানিয়ে দিনআমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না।আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদিইহকাল  পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাওতাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস  সালাম  উনাদেরকে মুহব্বতকরাতাযীম-তাকরীম মুবারক করাউনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।(পবিত্রসূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

ইমামুল  আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 
বলার অপেক্ষা রাখে নাহযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে ইলম হাছিল  করা তথা উনার শান মান সম্পর্কে উপলব্ধি  উনার মুহব্বত অর্জনের কোশেশ করা।হযরত ইমামুল  আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ  আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। বিশুদ্ধ মতেতিনি পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস উনার ১৩  তারিখ পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।উনার উপ নাম মুবারক আবূল হাসান  (হাসান উনার পিতা)   আবূ তুরাব (মাটির পিতা) পিতার নাম মুবারকআবূ ত্বালিবমাতা উনার নাম মুবারক হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা।বিশেষ উপাধি মুবারক আসাদুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা(সন্তষ্টিপ্রাপ্ত) তিনি আব্দুল্লাহ নাম মুবারক- প্রসিদ্ধ। তিনি নূরে মুজাসসাম,  হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই। কুরাইশ বংশের হাশিমী শাখায় উনারপবিত্র বিলাদত শরীফ। পিতৃকুল  মাতৃকুল উভয় দিক থেকে তিনি কুরাইশ বংশোদ্ভূত।হযরতইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিকে তিনিনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই।অপরদিকে নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারকলিজার টুকরাসাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাসসালাম উনার সম্মানিত আহাল বা স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে  উনাদের শাদী বা বিবাহ মুবারকঅনুষ্ঠিত হয়।খিলাফত মুবারক গ্রহণের পূর্বে তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর  আলাইহিস সালামএবং হযরত ফারূক্বে যম আলাইহিস সালাম এবং হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালামউনাদের খিলাফত আমলে তিনি পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত যূন নূরাইন আলাইহিস সালামউনার পবিত্র শাহাদত শরীফ গ্রহণের পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন।প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবৎ  পবিত্র দায়িত্ব মুবারক যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনকরেন। নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানারসকল পবিত্র জিহাদে অনেক বেশি সাহসিকতা  বীরত্বের পরিচয় তিনিই দেন।  কারণে নূরেমুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ‘হায়দার’ লক্ববমুবারকসহ ‘যুলফিকার’ নামক একখানা তরবারি হাদিয়া মুবারক করেন। একমাত্র তাবুকঅভিযান ছাড়া সকল পবিত্র জিহাদেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। সম্মানিত বদর জিহাদে উনারসাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিহ্নিত। সম্মানিত বদর জিহাদসহ প্রতিটি পবিত্র জিহাদেতিনি ছিলেন নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারপতাকাবাহী।নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেউদ্দেশ্য করে বলেন, “হযরত হারুন আলাইহিস  সালাম তিনি যেমন ছিলেন হযরত মূসাকালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট তেমনি আপনি হচ্ছেন আমার নিকট। অর্থাৎখলীফা। তবে আমার পরে কোনো নবী নেই।’’তিনি নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেন। নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি পবিত্রইলম উনার নগরীআর হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সেই নগরীরপ্রবেশদ্বার।’’ তিনি ছিলেনপবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাফিযশ্রেষ্ঠ মুফাস্সির এবং পবিত্রহাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনাকারী রাবী।তিনি তরীক্বতপন্থী উনাদের ইমাম।

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতিরসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম” তিনি যার মাওলাআমি তার মাওলা। সুবহানাল্লাহ!মূলতউনি ওই সুমহান অজুদ মুবারক যাঁর শান মুবারক-এ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেইরশাদ মুবারক হয়েছেসব গাছগুলো যদি কলম হয়  এবং সব পানি যদি কালি হয় তবুও উনারছানা-ছিফত লিখে শেষ করা যাবেনা। সুবহানাল্লাহএক কথায়  উনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনিএবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ননবাকী সবকিছু। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহউম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম 
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহউম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারপবিত্র শান-মান  মর্যাদা-মর্তবা ফযীলত  সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী বা জীবনী মুবারক নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর  পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারককরেন হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস  সালাম তিনি মহিলাগণ উনাদেরসাইয়্যিদাহ।সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ,উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং  আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত। তাই প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছেউনার পবিত্রসাওয়ানেহে উমরী বা জীবনী মুবারক জানাউনাকে মুহব্বত  অনুসরণ-অনুকরণ  করা।বিশেষ করে সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরয হলোউনাকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম  পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা। সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহউম্মু আবীহা হযরত যাহরাআলাইহাস  সালাম তিনি  বিশ্বের সকল মহিলাদের সাইয়্যিদাহতিনি নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনার লখতে জিগারহযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিসসালাম  হযরত ইমামছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সম্মানিতা মাতানূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোশত মুবারক উনার টুকরা মুবারকএবং সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার  জনআওলাদ উনাদের মধ্যে তিনি হলেন ৭ম।সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল  জান্নাহউম্মু  আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওয়াত প্রকাশের ৩বৎসর পূর্বে  পবিত্র  জুমাদাল উখরা মাসের ২০ তারিখ ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা জুমুয়ার দিন সুবহে সাদিকের সময় 
পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন  তখন নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ছিল ৩৭ বৎসর। যেমনিভাবে আবনাউ নূরেমুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কেউ জীবিতথাকেননিতদ্রুপ হযরত যাহরা আলাইহাস  সালাম উনার থেকে ব্যতীত অন্য কোনো বানাতুরসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে কোনো বংশীয় ধারা জারি নেই। কেবলসাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বংশ মুবারকউনার মুবারক ধারা চালু হয়েছে  চালু রয়েছে। অল্প বয়স মুবারক হতেই তিনি  সম্মানিত পিতাউনার খিদমত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!  নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তায়েফ গমন  করেন তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিলজান্নাহ হযরত  যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ- ছিলেন। তায়েফ হতে তিনিদুশমনদের আঘাতে  আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ফিরে আসেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহহযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তখনো উনার সেবা শ্মশ্রুষা করেন। সুবহানাল্লাহপবিত্রবদর জিহাদের পর দ্বিতীয় হিজরী যিলহজ্জ মাসে নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরাআলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক উনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গাম্ভীর্যপূর্ণপরিবেশে  অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি উনার মোহর মুবারক ধার্য করেন  শত দিরহাম।  পরিমাণ মোহর বরকতময়বলে গণ্য করা হয়। যা মহরে ফাতিমী বা মহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম’ হিসেবে মশহুর। স্বামীগৃহে তুলে দেয়ার সময়  নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম তিনি হাদিয়া হিসেবে দশটি জিনিস  প্রদান করেন। শয়নের চৌকি মুবারকদুইটিতোষক মুবারকএকটি চাদর মুবারকপানির পাত্র মুবারকমশক মুবারককলসি মুবারক,বদনী মুবারকমাটির দুইটি পাত্র মুবারকএকটি কাঠের পেয়ালা মুবারক   যাঁতা মুবারক।সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সহযাত্রী  হিসেবে উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং বনী হাশিম  আনছার মহিলা  ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনারা সানন্দে বরের ঘর পর্যন্ত গমন করেন। মুবারক বিবাহ উনার  দশ মাস পর ১৫ই রমাদ্বান শরীফ ৩য় হিজরী হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ  গ্রহণ করেন।  ৪র্থ হিজরী ৫ই শাবান হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  হযরত ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। ৫ম হিজরীতে হযরত জয়নব আলাইহাস সালাম৬ষ্ঠ হিজরীতে হযরত  রোকাইয়া আলাইহাস সালাম, ৭ম  হিজরী সনে হযরত উম্মে কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং ৯ম  হিজরী সনে হযরত মুহসিন আলাইহিস  সালাম উনারা পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। হিজরী ১১ সনের প্রথম দিকে অর্থাৎপবিত্র ছফর শরীফ মাস  উনার মধ্যে নূরেমুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসুস্থতাকে গ্রহণ  করেন এবং ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। এতে উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি জুদাইর কারণে চিন্তিত হয়ে  পড়েন।  জুদাই উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।সাইয়্যিদাতুনিসায়ি আহলিল জান্নাহ
হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণের পরে মাত্র প্রায় ছয় মাস যমীনে ছিলেন। তিনি হিজরী ১১ সনে ৩রা রমাদ্বান  শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ  বাদ আছর পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ  করেন। উনার জানাযার নামায হযরত আলীকাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পড়ান। উনার রওজা শরীফ পবিত্র জান্নাতুলবাক্বীতে অবস্থিত।

আখিরী রসূলনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ  শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারককরেন, “হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার  থেকে  এবং আমি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে।সুবহানাল্লাহ!
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,“আয় বারে ইলাহীআল্লাহ পাকআমি  (হযরত ইমাম হাসান আলাইহিসসালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামউনাদেরকে মুহব্বত করে থাকি। আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন। আরতাদেরকেও আপনি মুহব্বত করুনযাঁরা উনাদেরকে মুহব্বত করে থাকে।” সুবহানাল্লাহ!
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,“হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইনআলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন বেহেশতী যুবক উনাদের সাইয়্যিদ।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে  মুহব্বত করো। কারণউনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মকবুল।


No comments:

Post a Comment