Time ****** KMT(+3.00)

ওয়াক্বিয়া

উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম 

উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম অন্তিম শয্যাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম! আমার বিছাল শরীফের পর আপনি দয়া করে আমার গোসল মুবারক দিবেন এবং আপনার কাপড় মুবারক দ্বারা আমার কাফনের কাপড় প্রস্তুত করবেন বলে আমি আবেদন করছি। আর আমার কবর মুবারক-এ হযরত মুনকার ও নকীর ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সুওয়ালের জাওয়াব মুবারকও দিয়ে দিবেন, এই মর্মে আরজু পেশ করছি।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আপনার সমস্ত আরজু মুবারকই আমি অবশ্য অবশ্যই পূরণ করবো।
কিছুক্ষণ পরেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম কোল মুবারকও হাত মুবারক উনার তালু মুবারক-এ মাথা মুবারক রেখে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যান্ত ইতমিনানের সাথে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম দীদার মুবারক-এ প্রস্থান করেন। সুবহানাল্লাহ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উনার গোসল মুবারক সম্পন্ন করে উনার কাপড় মুবারক দ্বারা উনাকে কাফন মুবারক পরালেন এবং নিজ হাত মুবারকে কবর মুবারক উনার মধ্যে নামালেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দাফন মুবারক সম্পন্ন করলেন, উনার কিছুক্ষণের মধ্যে সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চলে গেলেন, তখন তিনি উনার কবর মুবারক উনার পাশে অনেকক্ষণ অবস্থান মুবারক করতে থাকলেন, দীর্ঘ সময় পর হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম তিনি উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি জন্য এখানে অপেক্ষা করছেন? আপনি যে কারণে এখানে অপেক্ষা করছেন তা তো ফায়ছালা হয়ে গেছে। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হযরত মুনকার-নাকীর ফেরেশতাদ্বয় আলাইহিমাস সালাম উনাদের ডেকে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার তরফ থেকে সুওয়ালের জাওয়াব মুবারক দিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।



সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মানমর্যাদা-ফযীলত  সম্পর্কিত একটি বিশেষ ঘটনা-

নুজাহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছেএকবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরেমুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযিরহয়ে আরজি পেশ করলো যেতাদের এক ধনাঢ্য ইহুদীর মেয়ের বিবাহের অনুষ্ঠানে তিনিযেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকেযাওয়ার অনুমতি দান করেন। যে অনুষ্ঠানটি শুধু মহিলাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।

নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদী মহিলাদেরআরজি কবুল করলেন।দাওয়াত দানকারিণী ইহুদী মহিলাদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। তাদেরউদ্দেশ্য ছিলো ইহুদী মহিলারা নামি দামি পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে এবং হীরা মণিমুক্তা ওস্বর্ণালঙ্কারে সুসজ্জিত হয়ে  অনুষ্ঠানে যাবে।আর তাদের ধারণা হযরত যাহরা আলাইহাস সালামতিনি তো তাদের মতো অতো সাজসজ্জ্বা করে মজলিছে আসবেন না। কারণতিনি দুনিয়াবী এসমস্ত দ্রব্যসামগ্রী পছন্দ করেন না।যার ফলে উনার কাছে তারা তাদের বড়ত্ব,মহত্ব প্রকাশ করে উনাকে উপহাস করার চেষ্টা করবে। নাঊযুবিল্লাহ!

ইহুদী মহিলাদের এই কূট চক্রান্ত কেউনা জানলেও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার যিনি রসূলনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তো ঠিকই জানেন।ফলে বিবাহ অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম  উনার মাধ্যমে বেহেশত থেকে বেহেশতী পোশাক ওঅলঙ্কারাদি মুবারক পাঠালেন নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে।

হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেনইয়ারসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামমহান আল্লাহ  পাক তিনি এই পোশাক  অলঙ্কারআপনার মেয়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া করেছেন এবং  আরো বলেছেন,তিনি যেন এগুলো পরিধান করে ইহুদী মহিলাদের অনুষ্ঠানে যান।সুবহানাল্লাহ!

সত্যিই বেহেশতীমুবারক পোশাক  অলঙ্কারসমূহ পরিধান করে যথাসময়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালামতিনি ইহুদীমহিলাদের অনুষ্ঠানে গেলেন। তিনি যখন উনার বেমেছাল শান  সৌন্দর্য নিয়ে সেইঅনুষ্ঠানে মুবারক তাশরীফ  নিলেন তখন গায়েব থেকে নেদা (আওয়াজহলো এবংউপস্থিত সকলে তা শুনতে পেলো যে হে উপস্থিত মহিলাবর্গ! তোমরা সকলে হযরতযাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে সাদর সম্ভাষণ জানাও।’ সাথে সাথে উপস্থিতমহিলাগণ সবাই উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে মুবারকবাদ জানালো।

আর ইহুদী মহিলারা দেখতেপেলো হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার চেহারা মুবারক হতে নূর মুবারক বিচ্ছুরিত হচ্ছেএবং উনার অসাধারণ পোশাক  অলঙ্কার মুবারক দেখে তারা হতভম্ব হয়ে গেলো এবং উনারমুবারক পোশাকের সামনে তাদের পোশাক নিতান্তই নগন্য মনে হলো।শুধু তাই নয়ওইবেহেশতী পোশাক মুবারক হতে সুগন্ধী  মুবারক  বের হয়ে অনুষ্ঠানের চতুর্দিকে সুভাষিত হয়েঅপূর্ব ঘ্রাণের সৃষ্টি করলো।আর তারা সবাই বলতে লাগলো সুগন্ধী  কোথা থেকে আসছেযেসুগন্ধী মুবারক উনার সুভাষে তারা বিমোহিত হচ্ছেযার ফলে বিবাহ অনুষ্ঠানের চেয়ে হযরতযাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পোশাকের আকর্ষণ এবং সুগন্ধী মুবারক উনার সুঘ্রাণমুবারক চতুর্দিকে আলোড়ন সৃষ্টি করলো। এতে সবাই বিবাহের আনন্দ আমেজ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার  দিকে অনুপ্রাণিত  হলো সুবহানাল্লাহ!

অবশেষে ইহুদী মহিলারা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অপরূপ সৌন্দর্য মুবারকমুবারকপোশাকের  স্বকীয়তা  সুগন্ধী মুবারক উনার সুভাষে বিমোহিত হয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলোহেহযরত যাহরা আলাইহাস সালামআপনি  নয়না ভিরাম রাজকীয় পোশাক  অলঙ্কার মুবারক কোথায় পেয়েছেনতিনি বললেন,আমার আব্বাজান   আমাকে হাদিয়া করেছেন। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলোতিনিএগুলো কোথায় পেয়েছেনতিনি বললেনআমার  আব্বাজান,ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনাকে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামউনার মাধ্যমে বেহেশত থেকে হাদিয়া পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

 উত্তর শুনে দাওয়াতদানকারিণী ইহুদী মহিলাসহ উপস্থিত সকলেই হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার  নিকটক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং পবিত্র কলেমা শরীফ পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। আর ওই সমস্ত মহিলাদের মধ্যে যাদের  স্বামী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন উনারাউনাদের কাছে থেকে গেলেন আর যাদের স্বামী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেনিউনারা তাদেরকে ছেড়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম  রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পছন্দঅনুযায়ী স্বামীরূপে বরণ করে নিলেন। সুবহানাল্লাহ!

নফসের বিরোধিতা 

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেছেন

واما من خاف مقام ربه ونهى النفس عن الهوى فان الجنة هى الماوى.

আল্লাহ পাক বলে দিয়েছেন, “যে আল্লাহ পাক উনার দরবারে দাঁড়ায়ে জাওয়াব দিতে ভয় করে এবং যে নফসের বিরোধিতা করে, তার স্থান হবে মাওয়া বেহেশ্ত।” 

মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে দাঁড়িয়ে জাওয়াব দেওয়ার ভয় করতে হবে এবং আর তাই নফসের বিরোধিতা করতে হবে। নফসের তাবেদারী করা যাবে না। কোন ব্যক্তি যদি নফসের তাবেদারী করে, তাহলে তার পক্ষে কখনও কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ-এর উপর দায়িম-কায়িম থাকা সম্ভব হবে না। 

হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি খুব বড় বুযুর্গ আল্লাহ পাক-এর ওলী ছিলেন, যিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পিতা শায়খ আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পীর ছাহেব ছিলেন। তিনি বুযুর্গ ও আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। উনি একদিন এক পাহাড়িয়া এলাকা ধরে ভ্রমণ করছিলেন। উনি দেখলেন সেখানে এক পাহাড়ের গুহার কাছে কিছু লোক জমায়েত হয়ে আছে। উনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- হে ব্যক্তিরা তোমরা এই জন-মানবহীন এলাকায় সমবেত হয়ে কি করছ? লোকেরা জবাব দিল, হুযূর! এই পাহাড়ের গুহার ভিতরে একজন যোগী থাকে। সে বৎসরে একদিন বের হয়। বের হয়ে উপস্থিত লোকদের তেল-পানি ইত্যাদি যা নিয়ে আসে এগুলিতে ফুঁ দেয়। অতঃপর সে প্রস্থান করে।

যে যে নিয়তে আসে সেই নিয়তটা তার পুরা হয়ে যায়। আমরা এসেছি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই যোগী বের হয়ে আসবে। আসলেই আমরা তার ফুঁ নিব।

উনি বললেন, কোথায় আমাকে সে গুহাটা দেখিয়ে দাও। উপস্থিত লোকজন গুহাটা দেখিয়ে দিল। গুহাটির কোন দরজা-জানালা ছিল না। একটা মাত্র ছিদ্র রয়েছে।

হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি জিঙ্গাসা করলেন, তাহলে ঐ লোকটা বের হয় কিভাবে ? তারা জবাব দিল, হুযূর! লোকটি এই ছিদ্র দিয়েই বেরিয়ে আসে আবার এখান দিয়েই প্রবেশ করে থাকে।

আশ্চর্য ব্যাপার। আশা যাওয়ার জন্য কোন দরজা জানালা নেই। রয়েছে ছোট্ট একটা ছিদ্র। যেটা দিয়ে সে বের হয় এবং প্রবেশ করে।

হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি এক মূহুর্ত চিন্তা করলেন, এই যুগী লোকটা তো মানুষকে গুমরাহ্ করছে।

যেহেতু তিনি আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন, তিনি বাতাস হয়ে ঐ ছিদ্র পথে ভিতরে প্রবেশ করলেন।

উনাকে গুহার অভ্যন্তরে দেখে সেই যুগী চমকে উঠল। এখানে তো কার প্রবেশ করার কথা নয়। সে জিঙ্গাসা করল, কে ? কে আপনি ?এখানে প্রবেশ কিভাবে প্রবেশ করলেন ?

হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের পরিচয় পেশ করে বললেন, দেখ আমি আব্দুল কুদ্দুস। আমি একজন মুসলমান। তুমি এখানে কি কর? সেটা দেখার জন্য আমি এসেছি।

সে ব্যক্তি মনে মনে ভয় পেয়ে গেল। সে বললো, আমার এখানে কারো আসার পারমিশন নেই। কেন আপনি এখানে প্রবেশ করলেন? উনি বললেন, দেখ, তুমি এই ছিদ্র পথে আসা যাওয়া কর। তাই মানুষ তোমার ভক্ত হয়েছে।তোমাকে বুজুর্গ বলে মনে করছে। আর সেই সুযোগে তুমি তাদেরকে গুমরাহ করছ। আর এ কারনেই আমি এখানে এসেছি।

সে বললো, হ্যাঁ, আমি সাধনা করে এটা হাসিল করেছি। এটা আমার হক্ব, আমার প্রাপ্য।

তখন হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন ঠিক আছে, তুমি সাধনা করেছ, আচ্ছা তুমি একটা কাজ করতে পার? অর্থাৎ আমি যা বলবো তুমি সেটা হতে পারবে? তুমি কি পানি হতে পার? সে ব্যক্তি বললো, হ্যাঁ আমি পানি হতে পারি। উনি বললেন- যে তুমি পানি হও তো দেখি। সে পানি হলো। উনি উনার রুমাল দিয়ে অল্প একটু পানি ভিজায়ে রাখলেন। অতঃপর সে আবার যখন স্বাভাবিক মানুষ হয়ে গেল।

অতঃপর উনি বললেন- এখন, আমি পানি হব, তখন তুমি তোমার একটা কাপড়ের টুকরা দিয়ে সেখান থেকে কিছু পানি রেখে দিও। সে বললো ঠিক আছে। উনি পানি হলেন, সেও অনুরূপভাবে রুমালে ভিজিয়ে কিছু পানি রেখে দিল।

উনি স্বাভাবিক মানুষ হয়ে জিঙ্গসা করলেন, ভিজানো কাপড়টি কোথায়, আমাকে দেখাও তো? সে তার ভিজা রুমালটা দেখাল। রুমালটি আতর-গোলাপের স্যরভে পরিপূর্ণ ছিল। হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি একটা রুমাল দেখিয়ে ঐ যোগীকে বললেন, এটা তোমার পানিতে পরিণত অবস্থায় ভিজিয়ে রাখা রুমাল। দেখতো এ থেকে কিসের ঘ্রাণ আসছে ? যোগী পরিষ্কার বুঝতে পারল, সেখান খেকে মল-মূত্রের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সে বললো, হুযূর! এর হাক্বীক্বত কি ? আপনারটা আতর-গোলাপের ঘ্রাণ, আর আমারটা দুর্গন্ধ তার কি হাক্বীক্বত?

জবাবে উনি বললেন, হাক্বীক্বত জানতে চা্ও ? তাহলে তোমাকে বলতে হবে, তুমি কি ভাবে এটা হাসিল করেছ ? সে বললো, আমি সব সময় আমার নফসের বিরোধিতা করি। যার বদৌলতে আমি এটা হাসিল করতে পেরেছি।

উনি বললেন, আচ্ছা আমি যদি তোমাকে বলি তুমি এখন ঈমান আন। কালিমা শরীফ পড়ে তুমি ঈমান আন। সে তখন সমস্যায় পড়ে গেল। কারণ সবসময় সে তার নফসের বিরোধিতা করে। এখন তার নফস চায় না সে কালিমা শরীফ পড়ুক।

উনি বললেন- তুমি কালিমা শরীফ পড়, তাহলে তুমি তার হাক্বীক্বত বুঝবে। সে বললো- আমার নফস তো সেটা চায় না। উনি বললেন, তোমার বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট বৎসরের সাধনা তুমি নফসের বিরোধিতা করে এটা হাসিল করেছ, এখন যদি তুমি নফসের বিরোধিতা না কর, তার পক্ষে থাক, তোমার এটা নষ্ট হয়ে যাবে। সব বরবাদ হয়ে যাবে। এখন তুমিই সিদ্ধান্ত নাও তুমি কি করবে ?

তখন সে যোগী উনার কথায় তার এই জিনিসগুলি ঠিক রাখার জন্য সে কালিমা শরীফ পাঠ করলো।

لا اله الا الله محد رسول الله صلى الله عليه وسلم

কালিমা শরীফ পাঠ করে সে মুসলমান হয়ে গেল।সুবহানাল্লাহ।

মুসলমান হওয়ার পর উনি বললেন, ঠিক আছে এক কাজ কর, এবার তুমি আবার পানি হও। সে আবার পানি হলো উনি কাপড় ভিজিয়ে একটু পানি রেখে দিলেন। স্বাভাবিক মানুষে পরিণত হলে তাকে ঘ্রাণ নিতে বললেন। সে দেখলো আতর-গোলাপের সুগন্ধ আসছে। সুবহাানাল্লাহ!

সে বিস্মিত হয়ে জিঙ্গাসা করল, হুজুর বেয়াদবী মাফ করবেন, কিছুক্ষণ পূর্বে আমি যখন পানি হয়েছিলাম তা থেকে মল-মূত্রের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল,আর এই সামান্য সময়ের ব্যবধানে আমি যখন পূনঃরায় পানিতে পরিনত হয়েছি, তা থেকে আতর-গোলাপের সুঘ্রাণ আসছে কি কবে?

বুযুর্গ আল্লাহ পাক-এর ওলী হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি আয়াত শরীফ তিলওয়াত করে জানিয়ে দিলেন

انما الـمشركون نجس

অর্থঃ নিশ্চয়ই কাফির মুশরিকরা, নাপাক।

তাদের থেকে দুর্গন্ধ বের হবে। এটাইতো স্বাভাবিক। তুমি মুসলমান হওয়ার সাথে সাথেই তোমার এই পরিবর্তন এসেছে।সুবহানাল্লাহ!

এখন ফিকিরের বিষয়। ঐ যুগী ব্যক্তিটি সারা জীবন নফসের বিরোধিতা করে সে কিছু হাসিল করেছিল। ঐ মূহুর্তে কালিমা শরীফ পাঠ না করলে তার হাসিল কৃত সমস্তকিছুই বরবাদ হয়ে যেত। তাই নফসের বিরোধিতা করতে সে বাধ্য হয়েই কালিমা শরীফ পাঠ করেছে।বুযুর্গ আল্লাহ পাক-এর ওলী হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উসিলায় মহান আল্লাহ পাক তাকে ঈমান দান করলেন।,পরবর্তীতে সেও আল্লাহওয়ালা হয়ে ছিল। সুবহানাল্লাহ!

হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি

হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বড় ওলী আল্লাহ ছিলেন। প্রথম যামানায় উনি মণিমুক্তার ব্যবসা করতেন। রোম থেকে মণিমুক্তা এনে উনি বসরাতে বিক্রি করতেন। উনি একবার গেলেন সেই রোমে। রোমের এক উজিরের সাথে, এক মন্ত্রীর সাথে উনার সম্পর্ক ছিল। সেই রোমের মন্ত্রী বললো, হে হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি এসেছেন ব্যবসার মাল নেয়ার জন্য, আজকে আমি আপনাকে একটা নতুন জায়গায় নিয়ে যাব।একটা নতুন জিনিস দেখাব।ঠিক আছে, নিয়ে চলেন, কোথায়? নিয়ে যাওয়া হলো, অনেক দূরে একটা মাঠের মধ্যে।

সেই মাঠে একটা বড় তাঁবু টাঙানো। সে তাঁবুর ভিতরে কিছু একটা রাখা হয়েছে। উনি দূর থেকে লক্ষ্য করলেন, সেই রোমবাসীদের মধ্যে রোমের বাদশাহ সেখানে গিয়েছে, তার উজির-নাজির সকলেই গিয়েছে। দেখা গেল কি, কিছুক্ষণ পরে কিছু সৈন্য-সামন্ত তাদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করলো, কি যেন তারা বলতে বলতে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
দুই নম্বরে দেখা গেল- কিছু সংখ্যক আলিম, কিছু জ্ঞানীলোক তারাও সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করে কাঁদতে কাঁদতে, কিছু বলতে বলতে চলে গেল।

তৃতীয়তঃ কিছু বৃদ্ধলোক, তারাও সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করলো। কাঁদতে কাঁদতে কিছু বলে তারা চলে গেল।

চতুর্থতঃ দেখা গেল- কিছু খুবছূরত মহিলা। তাদের মাথায় স্বর্ণ মণি-মুক্তার ডালা রয়েছে। সেটা নিয়ে তারা সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করে কিছু বলে, কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
অতঃপর বাদশাহ স্বয়ং নিজেই সেটা প্রদক্ষিণ করে এবং সে নিজেও কাঁদতে কাঁদতে কিছু বলে, সেখান থেকে বের হয়ে আসল।
যখন ঘটনাটা ঘটে গেল, হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি জিঙ্গাসা করলেন, হে ভাই মন্ত্রী! আমি তো তোমাদের ভাষা বুঝি না। তোমরা কি বললে, কি করলে? আমি তো কিছুই বুঝলাম না।

তখন সেই মন্ত্রী বললো- হে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! মূলতঃ এখানে বাদশাহর একটা ছেলে শায়িত আছে, সে খুব উপযুক্ত ছিল। বাদশাহ মনে করেছিল, বাদশাহর পরে তাকে গদীনশীন করা হবে। কিন্তু হঠাৎ অসুখে সে মারা যায়। যখন সে মারা গেল, তখন তাকে এখানে দাফন করা হয়েছিল। এজন্য প্র্রত্যেক বৎসর তার মৃত্যুর দিন বাদশাহ আসে। আপনি যে দেখলেন- কিছুসংখ্যক সৈন্য-সামস্ত তারা কি বললো জানেন? সৈন্য-সামন্তরা তাদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে তারা তার কবরকে প্রদক্ষিণ করলো এবং তারা কাঁদতে কাঁদতে বললো, হে শাহজাদা! যদি ঢাল দিয়ে, তলোয়ার দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, তাহলে আজকে তোমাকে আমরা অবশ্যই রক্ষা করতাম সেই মৃত্যু থেকে। কিন্তু তোমাকে এমন এক অস্তিত্ব অর্থাৎ খালিক-মালিক আল্লাহ রব্বুল আলামীন মৃত্যু দিয়েছেন, যাঁর কাছে আমাদের ঢাল-তলোয়ারের কোন মূল্যই নেই, কোন মূল্যই নেই। কাজেই তোমাকে রেখে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। এই কথা বলে তারা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। এরপরে জ্ঞানী ব্যক্তিরা আসল। এসে বললো- হে শাহজাদা! যদি জ্ঞান দিয়ে, আক্বল দিয়ে, সমঝ দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি তোমাকে নিয়ে গেছেন, উনার কাছে আমাদের জ্ঞান, আমাদের আক্বল সমঝ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। এই কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে তারাও চলে গেল।
এরপর আসলো বৃদ্ধলোকেরা। তারা এসে বললো- হে শাহজাদা! যদি কান্নাকাটি করে, রোনাজারি করে, আহাজারি করে, মায়া মুহব্বত দিয়ে, তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি নিয়ে গেছেন, তাঁর কাছে আমাদের রোনাজারি, আহাজারি, কান্নাকাটির কোনই মূল্য নেই। একথা বলে তারাও কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
এরপরে আসলো সেই মহিলারা। তারা বললো, হে শাহজাদা! যদি ছূরত দিয়ে, মাল দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি নিয়ে গেছেন, উনার কাছে এগুলো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কোন মূল্যই নেই। একথা বলে তারাও কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
শেষ পর্যন্ত বাদশাহ এসে বললো, হে শাহজাদা! যদি আমার সমস্ত রাজত্বের বিনিময়ে, সমস্ত ধন-সম্পদের বিনিময়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমি করতাম। কিন্তু আমার এই সমস্ত ধন-সম্পদ রাজত্ব, যিনি নিয়ে গেছেন, উনার কাছে কোন মূল্য নেই। কাজেই তোমাকে রেখে যাওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। একথা বলে তারা সকলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই ঘটনা দেখে খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন। সত্যিই তো দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। এখান থেকে কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না। ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, সম্পদ কিছুই নেয়া যাবেনা। শুধু নেয়া যাবে নেক আমলগুলি, এছাড়া তো কিছুই নেয়া যাবে না।
উনি খালিছ তওবা ইস্তেগফার করলেন,এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে মশগুল হয়ে গেলেন।

হযরত মালেক বিন দিনার দামেস্কি রহমতুল্লাহি আলাইহি
হযরত মালেক বিন দিনার দামেস্কি রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরিদ এবং একজন প্রথম সারির দরবেশ ।

একদা হযরত মালেক বিন দিনার রহমতুল্লাহি আলাইহি খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছিলেন ।নৌকা মাঝ পথে যেতেই মাঝি যাত্রীদের নিকট ভাড়া নেয়া শুরু করল, কিন্তু দুঃখের বিষয় মালেক বিন দিনার রহমতুল্লাহি আলাইহির কাছে খেয়া পারের কোন পয়সা ছিল না ।উনার অক্ষমতার কথা শুনার পরও মাঝি বার বার উনাকে পয়সার জন্য চাপ দিতে থাকল, এমনকি একপর্যায়ে উনার গায়ে পর্যন্ত হাত তুলে বসল ।তিনি যতই বিনয় সহকারে ক্ষমা চাচ্ছিলেন মাঝি ততই উনার উপর ক্রোদ্ধ হয়ে উনাকে প্রবলভাবে আঘাত করতেছিল । মাঝির প্রহারে এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন ।যাত্রীদের মধ্য হতে কেহই উনার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি ।ক্ষণিক পরেই জ্ঞান ফিরে এলে নাছোড়বান্দা মাঝি আবারও মারধর শুরু করল এবং পয়সা না দিলে হাত পা বেধে নদীতে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল ।অবশেষে হাত পা বেধে মাঝি যখন উনাকে নদীতে ফেলে দিতে প্রস্তুত হল, এমন সময় নদীর সব মাছ মুখে করে একটি দিনার (পয়সা) নিয়ে নৌকার চারপাশে ভেসে উঠল ।তখন আহত হযরত মালেক বিন দিনার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ভেসে উঠা মাছের মুখ হতে একটি দিনার নিয়ে মাঝিকে দিলেন ।

অলৌকিক এ ঘটনায় মাঝিসহ নৌকার যাত্রীরা সবাই দরবেশের পায়ে লুটিয়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে লাগল।হযরত মালেক বিন দিনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তাদের ক্ষমা করে দিয়ে পানির উপর দিয়েই হেঁটে নদী পার হতে হতে অদৃশ্য হয়ে যান । সেই ঘটনার পর থেকেই উনার নামের পাশে দিনার শব্দটি যুক্ত হয়েছে।

হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি

হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন বুযুর্গ আল্লাহ পাক উনার অলী। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন একজন শরাবখোর, সারাদিন শরাবখানায় মাতাল হয়ে থাকতেন, আজেবাজে কাজ করতেন।একদিন হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি রাস্তা দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন, হঠাৎ দেখলেন আল্লাহ পাক উনার কালাম অর্থাৎ আরবিতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম একটি কাগজে লেখা এবং কাগজটি মাটিতে পড়ে আছে।ওটা দেখে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি মনে মনে চিন্তা করলেন, সারা জীবনতো পাপ করেছি, নেক কাজতো করিনি, আল্লাহ পাক উনার কালাম এটাতো অবশ্যই মাটিতে থাকা উচিত নয়, এটাকে তুলে নেওয়া উচিত। কাগজটি তুলে নিলেন।তুলে নিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে আতর গোলাপ মেখে উনার ঘরের উঁচু স্থানে রেখে দিলেন।এরপর তিনি আবার শরাবখানায় চলে গেলেন।

ঐ এলাকায় একজন আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন।তিনি রাতে স্বপ্নে দেখলেন- উনাকে স্বপে বলা হচ্ছে, হে ব্যক্তি তুমি বিশরকে গিয়ে সংবাদ দাও, আমি আল্লাহ পাক তাকে কবুল করেছি। স্বপ্নটা দেখার পর উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল।ঘুম থেকে উঠে মনে মনে চিন্তা করলেন, স্বপ্নটা আমি ভুল দেখেছি।কারণ ঐ ব্যক্তি নিশ্চয়ই ভাল লোক নয়।তিনি অজু করে দু’রাকায়াত নামাজ পড়ে আবার শুয়ে ছিলেন।একে একে তিনবার একই স্বপ্ন দেখলেন এবং শেষবার বলা হলো, তুমি তাড়াতাড়ি সংবাদ দাও, আর তা না হলে তোমার অসুবিধা হবে।

বুযুর্গ ব্যক্তি তাড়াতাড়ি সংবাদ দেওয়ার জন্য উনার বাড়ীতে গেলেন।উনার বাড়ী থেকে বলা হলো, তিনি তো এখানে নেই, তিনি শরাবখানায়।
বুযুর্গ ব্যক্তি শরাবখানায় গিয়ে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যারা বন্ধু বান্ধব ছিল তাদেরকে বললেন, বিশর রহমতুল্লাহি আলাইহি কোথায়? তারা শরাবখানার অভ্যন্তরে ইঙ্গিত করে দেখিয়ে দিয়ে বলল,ঐ যে বিশর শরাব পান করে মাতাল অবস্থায় রয়েছে পড়ে আছে।

তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, হে বিশর রহমতুল্লাহি আলাইহি, আপনার কাছে আল্লাহ পাকের তরফ হতেপয়গাম এসেছে।

হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি লাফিয়ে উঠলেন। বুযুর্গ ব্যক্তি কথা শুনা মাত্রই তাঁর নেশার ঘোর কেটে গেল। তিনি বলে েউঠলেন, হে বন্ধুরা আজ থেকে বিদায়। মহান আল্লাহ পাক আমাকে কবুল করে করেছেন এবং সংবাদ প্রেরণ করেছেন।আমি আর এখানে থাকবনা।
এ কথা বলেই তিনি সেই যামানার যাঁরা বড় বড় আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন, তাঁদের সোহবত এখতিয়ার করার উদ্দেশ্যে চলে গেলেন এবং পরবর্তীসময় তিনি বড় আল্লাহ পাক উনার ওলী হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ।

হাফী শব্দের অর্থ হলো খালি পায়ে যে চলে অর্থাৎ জুতাবিহীন তিনি খালি পায়ে চলতেন বাগদাদের রাস্তায় রাস্তায়।উনার প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যতদিন জিন্দা ছিলেন, ততদিন পর্যন্ত বাগদাদের রাস্তার মধ্যে কোন পশু পাখি সরাসরি প্রশ্রাব-প্রায়খানা করতো না। (সুবহানাআল্লাহ)

একদিন এক পশুর মালিক দেখলেন, এক পশু রাস্তার মধ্যে পায়খানা করছে।তিনি বললেন, ইন্নানিল্লাহা ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।তিনি যখন একথা বললেন, তখন সঙ্গী সাথীরা বললেন যে, ভাই কে মারা গেল তুমি যে একথা বললে?পশুর মালিক বললেন, দেখ নিশ্চয়ই কিছুক্ষণ আগে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি ইন্তেকাল করেছেন। সংবাদ নিয়ে জানা গেল, সত্যি কিছুক্ষণ আগে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি ইন্তেকাল করেছেন।

দুশত বছরের গুনাহখতা মাফ


বনী ইসরাইলের এক ব্যক্তি ছিল যে দু’শ বছর হায়াত পেয়েছিলো। ওই ব্যক্তি তার এই দীর্ঘ হায়াতে সুরতান কোন নেক কাজই করেনি। মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানীতে পুরো জিন্দেগী কাটিয়েছে। যখন তার ইন্তিকাল হলো, তখন তার প্রতিবেশী ও এলাকার লোকেরা ওই ব্যক্তিকে তার গোসল কাফন-দাফনের ব্যবস্থা না করে একটি আবর্জনাময় স্তূপে ফেলে রাখলো।

এদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই যামানার জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট ওহী করলেন, ‘হে আমার নবী ও রসূল হযরত মূসা আলাইহিস সালাম! অমুক এলাকায় অমুক গ্রামে একজন লোক ইন্তিকাল করেছে। আপনি সেখানে যান, গিয়ে ওই ব্যক্তির গোসল-কাফন দাফনের ব্যবস্থা করুন!’

হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সে এলাকায় গেলেন। এলাকাবাসীকে জিঙ্গাসা করলেন, এখানে কি একজন লোক ইন্তিকাল করেছে?

তারা জবাব দিল, না, এখানে তেমন কেউ ইন্তিকাল করেনি।

তিনি চিন্তিত হলেন, মহান আল্রাহ পাক উনাকে প্রেরণ করেছেন, কোন বুজুর্গ ব্যক্তির গোসল-কাফন দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য। অথচ এলাকাবাসী কিছুই জানে না, এটা কি করে হতে পারে?

তিনি স্বীয় পরিচয় পেশ করে এলাকাবাসীকে বললেন দেখ তোমরা সত্যি কথা বল, কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে আমি এখানে এসেছি যিনি ইন্তিকাল করেছেন উনার গোসল-কাফন দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য।

তখন এলাকাবাসী জানাল, হ্যাঁ, একজন ইন্তিকাল করেছে বটে। যে লোকটা দু’শ বছর হায়াত পেয়েছিলো। কিন্তু সে কোন নেক কাজ করেনি। মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানীতে ইন্তিকাল অবধি দৃঢ় ছিলো। আমরা তাকে পছন্দ করতাম না। কারণ, সে একটা বদকার, চরম নাফরমান বান্দা।

হযরত মূসা আলাইহিস সালাম একথা শুনে আল্লাহ পাক উনার নিকট আরয করলেন, “ইয়া রব্বুল আলামীন! এলাকাবাসী বলছে, এই লোকটা আপনার নাফরমান বান্দা, চরম গুনাহগার। এলাকাবাসী তাকে পছন্দ করেনা। কারণ, সে দু’শ বছর হায়াত পেয়েছিলো কিন্তু সে কোন নেক কাজ করেনি। পুরো জিন্দেগী নাফরমানীতে কাটিয়ে দিয়েছে।

তখন মহান আল্লাহ পাক বললেন, হ্যাঁ। তারপরও তাকে একটা আমলের কারণে তার জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে, জাহান্নাম হারাম করে, আমি জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছি এবং আপনার মতো একজন জলীলুল ক্বদর রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে পাঠিয়েছি তার গোছল, কাফন-দাফন করার জন্য।

তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, হে আল্লাহ পাক! আমাকে জানিয়ে দিন যে, এই লোকটা এমন কী আমল করেছে যার কারণে তার দু’শত বছরের গুনাহখতা মাফ করে একজন জলীলুল ক্বদর রসূল উনাকে পাঠিয়েছেন তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্য! হে আল্লাহ তায়ালা! আপনি আমাকে সেই আমলটি জানিয়ে দিন। সেই আমল আমি নিজে করবো এবং আমার উম্মতকে শিক্ষা দিবো।

মহান আল্লাহ পাক বললেন, হে আমার রসূল হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনাকে আমি সেই আমলটির কথা জানাচ্ছি। তা হচ্ছে, আপনার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব ‘তাওরাত শরীফ’ লোকটা একদিন খুলেছিলো। খুলেই সে দেখতে পেলো, আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক। সেখানে উনার ছানা ছিফত মুবারক করা ছিল। তা দেখার সাথে সাথে সেই লোকটির অন্তরে উনার প্রতি গভীর মুহব্বত পয়দা হল। সে ওই নাম মুবারক চুম্বন করলো, চোখে লাগালো এবং সাথে সাথে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ছলাত সালাম তথা দরূদ শরীফ পাঠ করলো।

আমি তার এই আমলকে পছন্দ করে নিলাম। কাজেই আমি তার এই ইবাদত কবূল করে তার দু’শ বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে আপনার মত একজন জলীলুল ক্বদর রসূল পাঠিয়েছি তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্য।আর আমি সত্তরজন জান্নাতী হুরের সাথে তার বিবাহ সম্পাদন করব।” সুবহানাল্লাহ।

(খায়িছুল কুবরা ১ম খ- ২৯ পৃষ্ঠা, হিলয়াতুল আউলিয়া ৩ য়.খন্ড ১৪২ পৃষ্ঠা, নুযহাতুল মাজালিস ২য় খন্ড ১৪২ পৃষ্ঠা, সিরাতে হলবিয়া ১ম খন্ড ৮৩ পৃষ্ঠা।)

ন্যায়বিচার ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বোধ

খলিফাতুল মুসলিমীন আমিরুল মুমিনীন ফারুকে আযম, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার শাসন আমলে একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল উনার দরবারে। হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ ?’
তারা বলল, ‘এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে।’
হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বালকটিকে বললেন, ‘তুমি কি সত্যিই তাদের পিতাকে হত্যা করেছ?’

জবাবে বালকটি বলল, ‘হ্যা, আমি হত্যা করেছি তবে তা ছিল দূর্ঘটনাবশত, আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিল তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারল, যা উটের চোখে লাগে।
আমি দেখতে পাই যে উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে মারি, পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায়।’
হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম দু’ভাইকে বলেলন, ‘তোমরা কি এ বালককে ক্ষমা করবে?’ তারা বলল, ‘না, আমরা তার মৃত্যূদণ্ড চাই।’

হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বালকটির কাছে জানতে চাইলেন, ‘তোমার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে?’
বালকটি বলল, ‘আমার আব্বা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যান, যা আমি এক যায়গায় লুকিয়ে রেখেছি। আমি তিন দিন সময় চাই, যাতে আমি সেই জিনিস গুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি। আমার কথা বিশ্বাস করুন।’
হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বললেন, ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করতেপারি যদি তুমি এক জন জামিন জোগাড় করতে পার, যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে?’
বালকটি দরবারের চারদিকে তাকাল এত মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হল না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ দরবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠল।

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, তিনি বললেন, ‘আমি তার জামিন হব।’ চিন্তা করুন জামিন মানে হল, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে হযরত আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম এর শিরচ্ছেদ করা হবে। সুতরাং বালকটিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এক দিন গেল, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসল না, তৃতীয় দিনে দু’ভাই হযরত আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু এর কাছে গেল।
হযরত আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, ‘আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’ মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে হযরত আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু দরবারের দিকে রওনা হলেন।
মদিনার লেকজন উনার পেছন পেছন যেতে লাগল। সবাই দেখতে চায় কি ঘটে। হযরত আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একটি বালকের ভুলের কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন।

হঠাৎ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসল। লোকেরা সবাই অবাক হল। হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে বালক তুমি কেন ফিরে এসেছ? আমি তো তোমার পিছনে কোনো লোক পাঠাইনি। কোন জিনিসটা তোমাকে ফিরিয়ে আনল?’
বালকটি বলল, ‘আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিন কিন্তু সে তা রাখে নি, তাই আমি ফিরে এসেছি।’
হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম হযরত আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কে বললেন, ‘হে আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আপনি কেন এই বালকের জামিন হলেন ?’

হযরত আবু যর গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, ‘আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিল কিন্তু কোন মুসলমান তাকে সাহায্য করে নি।’
এ কথা শুনে দুই ভাই বলল, ‘আমরাও চাই না যে কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল কিন্তু অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করে নি।’

অতঃপর বালকটি মুক্তি পেল। ( সুবহানআল্লাহ )

পর্দা সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াকিয়া
পূর্ববর্তী যামানার একটা ঘটনা রয়েছে, সে ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে- একজন আবেদ ছিল আবেদ, যে খুব ইবাদত-বন্দিগী করত সে খুব পরহিযগার ছিল সমস্ত দিন এবং রাত্র সে ইবাদত-বন্দিগীতে কাটাত এতে সে কোন ত্রুটি-গাফলতি করতনা ইবলিস অনেক দিন যাবৎ কোশেশ করতেছিল তাকে ওয়াস্ওয়াসা দেয়ার জন্য যত পথ ইবলিস অবলম্বন করেছে কোন পথেই তাকে কাবু করতে পারেনি এরপরও ইবলিস একটার পর একটা পদ্ধতি অবলম্বন করতে লাগল অর্থাৎ যাতে আবেদকে কব্জা করা যায়, আবেদকে কাবু করে শরীয়তের খিলাফ কাজ করানো যায় কিনা, যখন সে পর্যায়ক্রমে কোশেশ করতে লাগল কোন কোশেশ তার কাজ হচ্ছে না
হঠাৎ দেখা দিল, সেই দেশের সাথে তার প্রতিবেশী দেশের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল যখন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল তখন ইবলিস সুযোগ খুঁজতে লাগল এর মাধ্যম দিয়ে তাকে কব্জা করা যায় কিনা, কাবু করা যায় কিনা ইবলিস সেই সুযোগ তালাশ করতে করতে ধোঁকা দেয়ার একটা পথ সে পেয়ে গেল তাহলো, সেই আবেদের প্রতিবেশীদের মধ্যে নিকটবর্তী এলাকায় দুই ভাই ছিল যাদের এক বোন ছিল তাদের অবস্থা স্বচ্ছল ছিল তারাও মোটামুটি পরহিযগার ছিল ইবলিস গিয়ে তাদেরকে ওয়াস্ওয়াসা দিল, “তোমরা এক কাজ কর, জিহাদ শুরু হয়ে গেছে, তোমরা জিহাদে অংশ গ্রহণ কর অনেক ফযীলত রয়েছে এর মধ্যে এতে মারা গেলে শহীদ হয়ে যাবে অনেক মর্যাদা-মর্তবা তোমাদের হাছিল হবে তোমরা জিহাদে চলে যাও কারণ টাকা-পয়সা, থাকা-খাওয়ার তো কোন অসুবিধা নেই জিহাদ করে ফিরে এসেও তোমরা তোমাদের বিষয় সম্পত্তি আবার পাবে আর যদি তোমরা শহীদ হয়েই যাও তাহলে তো অনেক ফযীলত রয়েছে আল্লাহ্ পাক-এর কাছেএটা ওয়াস্ওয়াসা দিয়ে মানুষের ছূরতে গিয়ে ইবলিস তাদের বুঝালো

অনেক দিন বুঝানোর পর তারা শেষ পযর্ন্ত বলল, ‘আমরা যদি জিহাদে চলে যাই, আমাদের তো আর কেউ নেই, দুই ভাই এক বোন, তাহলে আমাদের এই বোনটাকে আমরা কোথায় রেখে যাব?’ ইবলিস প্রথম দিন কিছুই বললনা সে বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছেসে তাদের উপদেশদাতা হিসাবে, খয়ের খাঁ হিসাবে বলল, ‘অসুবিধা নেই, আমি একটু চিন্তা-ভাবনা করে দেখি এতবড় ফযীলতের কাজ থেকে তোমরা মাহরূম থাকবে? এটার একটা ব্যবস্থা করতেই হবেএটা বলে আবার দুএকদিন পর এসে বলল, ‘আমি একটা চিন্তা-ভাবনা করেছি, কি চিন্তা ভাবনা করেছ? তোমাদের নিকটবর্তী একজন আবেদ রয়েছে খুব পরহিযগার, সে সব সময় নিরিবিলি থাকে কোন বেগানা নারীর প্রতি সে দৃষ্টি দেয়না মহিলাদের সামনে সে যায়না এমন একজন আবেদ রয়েছে তোমরা এক কাজ করতে পার, সে আবেদের কাছে তোমাদের বোনটাকে রেখে যেতে পারতারা বলল, ‘এটা কি করে সম্ভব হবে? আমরা তাকে রেখে যাব, সেখানে সে কোথায় থাকবে, খাবে?’
ইবলিস আবার ওয়াসওয়াসা দিল, “চিন্তার কোন কারণ নেই কারণ, তার অনেক জায়গা-সম্পত্তি রয়েছে আর তোমাদের তো টাকা-পয়সা রয়েছেই কিছু টাকা পয়সা দিয়ে যাবে, খোরাক দিয়ে যাবে এক বৎসরের, তারা খাবে, থাকবে অসুবিধা হবেনাতাহলে কিভাবে চলবে? ইবলিস বলল, “ঠিক আছে আমি আবার আসব, এসে বলবইবলিস সেই আবেদের কাছে গেল গিয়ে তাকে বলল, ওয়াস্ওয়াসা দিল মানুষের ছূরতে যে, “তুমি এখানে থাক, খাও, তোমার তো অনেক অসুবিধা হয় যদি কেউ তোমাকে পাক-শাক করে দিতো তাহলে তোমার ইবাদত-বন্দিগী আরো বেশী করা সম্ভব হত এখন পাক করতে তোমার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায় তোমার পাক-শাক করতে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়

খুব সূক্ষ্ম শয়তানের তাছীর অর্থাৎ শয়তানের ওয়াস্ওয়াসা খুব সূক্ষ্ম সে তাকে বলতে লাগল, “তুমি যে নিজে পাক-শাক করে খাও, তোমার তো অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায় তুমি এক কাজ কর, একজন লোক রেখে নাও, যে তোমাকে পাক-শাক করে দিবে, তোমার সময় বেঁচে যাবে, তুমি বেশী বেশী ইবাদত-বন্দিগী করতে পারবেআবেদের ইল্মের কিছু অভাব রয়েছে সে মনে মনে চিন্তা করল, ব্যাপারটা তো খারাপ নয়, ভাল তুমি তো আমাকে ভাল বুদ্ধি দিয়েছ, তাহলে লোক পাব কোথায়? ইবলিস বলল, ‘ঠিক আছে আমি দেখি লোক পাওয়া যায় কিনাএটা বলে সে আবার সেই দুই ভাইয়ের কাছে গেল, গিয়ে বলল যে, “দেখ, আমি তো তার সাথে আলাপ করেছিলাম, তাকে যদি কেউ পাক-শাক করে খাওয়ায় তাহলে হয়ত সেখানে থাকার ব্যবস্থা হবেসেই দুভাই বলল, ‘সে কি করে থাকবে ওখানে, সে বেগানা পুরুষইবলিস বলল, “না, অসুবিধা নেই, আলাদা একটা ঘর করে সে ঘরে থাকবে; আর আবেদ তো তার ঘরেই থাকে, সে তো সেখান থেকে বের হয়না, তাহলে অসুবিধার কোন কারণ নেইতখন সে দুভাই বলল, ‘তাহলে আপনি ব্যাপারটা বিস্তারিত আলোচনা করে আমাদেরকে জানানইবলিস তো দরবেশের মনে ছূফীর ছূরতে ধোকা দিচ্ছে তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি শেষ পযর্ন্ত ইবলিস সে আবেদের কাছে এসে বলল যে, “আমি একজন লোকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাকে পাক-শাক করে খাওয়াবে

তখন আবেদ জিজ্ঞাসা করল যে, ‘পুরুষ না মহিলা?’ তাকে বলা হল, “মহিলা হলেই দোষটা কি? কারণ পুরুষরা তো ভাল পাক-শাক জানেনা, তুমি এত ইবাদত-বন্দিগী কর, তোমার তো খাবারের দরকার রয়েছে, স্বাস্থ্য সুস্থ থাকার দরকার রয়েছে, ভাল ভাল খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, আরো বেশী বেশী ইবাদত-বন্দিগী করতে পারবে, মহিলা হলেই তো ভাল হবেআবেদ বলেছিল, ‘তাহলে কি করে সম্ভব?’ ইবলিস বলল, “অসুবিধার কোন কারণ নেই কারণ, তুমি যে ঘরে থাক সে ঘরে সে প্রবেশ করবেনা আর সে যে ঘরে থাকবে তুমিও সে ঘরে প্রবেশ করবেনা আলাদা তাকে ঘর করে দেয়া হবে, সমস্ত ব্যবস্থা তাকে করে দেয়া হবে সে পাক-শাক করে তোমাকে খাওয়ার ব্যবস্থা করবেতা কি করে সম্ভব? “সে পাক-শাক করে, তোমার ঘরে যে পর্দা রয়েছে সেই পর্দার নীচ দিয়ে সে সেই খাদ্য তোমার ঘরে পৌঁছে দিবে, তুমি সেখান থেকে সেটা নিয়ে খাবে এরপর আবার পর্দার বাইরে বের করে দিবে, সে সমস্ত হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন যা কিছু রয়েছে সেটা সে নিয়ে পরিস্কার করে রাখবেআবেদ মোটামুটি এক অবস্থায় কিছুটা সম্মতি প্রকাশ করল

এরপর ইবলিস গেল সেই দুই ভাইয়ের কাছে গিয়ে তাদের বলল, “তোমাদের জিহাদের সময় চলে যাচ্ছে আর কত অপেক্ষা করা যাবে? এতবড় ফযীলত তো তোমাদের হাছিল করার দরকার রয়েছে, তাড়াতাড়ি করা উচিৎ এক কাজ কর, আমি আলোচনা করেছি, তোমরা আমার সাথে আস, তোমাদেরকে নিয়ে তার সাথে আলোচনা করব, অসুবিধার কোন কারণ নেই, কোন অসুবিধা হবেনা তোমরা জিহাদে চলে যাবে, নেক কাজে চলে যাবেআর আবেদকে বলল, “যেহেতু তারা জিহাদে যাবে, তুমি তো আর জিহাদে যেতে পারতেছনা তাহলে তাদেরকে যদি তুমি সহযোগিতা কর, তুমিও জিহাদের ছওয়াব পাবে অর্থাৎ একদিকে তুমি জিহাদেরও ছওয়াব পাবে, অন্য দিকে ইবাদত-বান্দিগীও করতে পারবে, বেশী বেশী করতে পারবে তাদের সহযোগিতা করা হলে অনেক ফযীলত তুমি পাবেইত্যাদি ইত্যাদি উভয়কে অনেক ওয়াস্ওয়াসা দিয়ে, অনেক প্রতারণা করে ভুলিয়ে ফেলল সে শেষ পযর্ন্ত তারা ফায়সালা করল, ঠিক আছে, তাদের সে বোনকে এখানে রেখে যাবে একটা আলাদা ঘর রয়েছে, সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, ওযূ-ইস্তিঞ্জার ব্যবস্থা রয়েছে, ইবাদত বন্দিগীরও ব্যবস্থা রয়েছে আবেদের সেই শর্ত-শারায়েত মুতাবিক তার ভাইয়েরা তার খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিয়ে গেল এবং আবেদকেও যাতে সে খাদ্য পৌঁছায়, কি করে খাদ্য পৌঁছাবে, যেহেতু আবেদ তো ঘর থেকে বের হয়না সে পর্দার তল দিয়ে খাদ্য পৌঁছিয়ে দিবে, আবার খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেলে তার প্লেটগুলো, থালা, বাটি, পেয়ালা ইত্যাদি যা কিছু রয়েছে সেটা সে আবার পর্দার তল দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিবে, সে মেয়ে সেটা নিয়ে যাবে, সে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে রাখবে

পরবর্তী ওয়াক্তে সে আবার খাদ্য পৌঁছিয়ে দিবে সব ঠিক হলো; ইবলিস তার ওয়াস্ওয়াসা প্রতারণার মাধ্যমে মোটামুটি এক অবস্থায় গিয়ে পৌঁছল দুভাই জিহাদে চলে গেল এদিকে ইবলিস মাঝে মাঝে এসে সে পুরুষের কাছে ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করে সে ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করতে লাগল; কি করে তাকে সে মেয়ের ফাঁদে ফেলানো যায়

হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺍﻣﺎﻣﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻳﺎﻙ ﻭﺍﻟﺨﻼﻭﺓ ﺑﺎﻟﻨﺴﺎﺀ ﻓﻮﺍﻟﺬﻯ ﻧﻔﺴﻰ ﺑﻴﺪﻩ ﻣﺎ ﺧﻼ ﺭﺟﻞ ﺑﺎﻣﺮﺍﺓ ﺍﻻ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ.

অর্থ: আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা সতর্ক থাক নির্জনতা থেকে, নির্জন অবস্থায় মহিলা থেকে সতর্ক থেকো

আল্লাহ্ পাক-এর কসম! ﻓﻮﺍﻟﺬﻯ ﻧﻔﺴﻰ ﺑﻴﺪﻩ . আল্লাহ্ পাক-এর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ﻣﺎ ﺧﻼ ﺭﺟﻞ ﺑﺎﻣﺮﺍﺓ ﺍﻻ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ . যখন কোন পুরুষ নিরিবিলিতে কোন মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করে, একাকী হয়, শয়তান তাদের মধ্যে প্রবেশ করে থাকে, প্রবেশ করে সে ওয়াস্ওয়াসার সৃষ্টি করে, ফিৎনার সৃষ্টি করে দেয় ঠিক তাই হলো সেই মেয়ে খাদ্য প্রবেশ করিয়ে দিত, পর্দার তল দিয়ে সে আবেদ তো নিরিবিলি থাকে, হঠাৎ তার হাতটা তার চোখের দৃষ্টিতে চলে আসল অর্থাৎ সে তার হাতটা দেখতে পেল

মহান আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন,
ﻗﻞ ﻟﻠﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻳﻐﻀﻮﺍ ﻣﻦ ﺍﺑﺼﺎﺭﻫﻢ .

অর্থ: হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে
সে রাখতে পারেনি তার দৃষ্টি চলে গেল সে মেয়ের হাতের প্রতি ওয়াস্ওয়াসার সৃষ্টি হলো, ওয়াস্ওয়াসার সৃষ্টি হলো ইবলিস তার আসা-যাওয়া জারি রেখেছে সে বলল, অসুবিধার কি রয়েছে, এখানে তো আর কেউ নেই, আর তুমি আবেদ তোমার সামনে এসেই খাদ্য দিবে, অসুবিধার কি কারণ? অসুবিধা নেই, সে তোমার মেয়ের মত থাকবে, অসুবিধা কি? বলে, হালকা পর্দার খেলাফ সে করলো আস্তে আস্তে সে ভিতরে এসে খাদ্য পৌঁছাতো পৌঁছাতে পৌঁছাতে এমন এক অবস্থায় পৌঁছল, অবৈধ সম্পর্ক হয়ে গেল

এদিকে তো দুভাই তারা জিহাদে চলে গেছে অবৈধ সম্পর্ক হয়ে শেষ পর্যন্ত অবৈধভাবে সেই মেয়ের একটা সন্তান হয়ে গেল যখন সন্তান হয়ে গেল, ইবলিস এসে বলল, ‘তুমি কি করেছ? সর্বনাশ করেছ? জিহাদ তো প্রায় শেষ, তারা চলে আসবে এক কাজ কর, সন্তানটাকে হত্যা করে ফেল, যাতে তারা বুঝতে না পারেসে আবেদ কোন পথ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সে তার মান-ইজ্জত রক্ষা করার খেয়ালে সন্তানটাকে হত্যা করে ফেলল কোথায় দাফন করবে? তারা এসে তো বুঝে ফেলবে কোন স্থানে নতুন কবর দেখলে মানুষ জিজ্ঞাসা করবে, কবরটা কোথা থেকে আসলো তুমি এক কাজ কর, এক নিরিবিলি স্থানে, জঙ্গলে, সেখানে এটাকে মাটি চাপা দিয়ে দাও আবেদ মনে করেছিল, সে তার উপদেষ্টা শয়তানের মিথ্যা ওয়াস্ওয়াসার কারণে সে সেই সন্তানকে হত্যা করে গর্তে পুঁতে রাখল

জিহাদ প্রায় শেষ হয়ে আসলো সে দুভাই ফিরে আসলো তাদের বাড়ীতে ইবলিস এসে বললো, দেখ, তুমি তো সর্বনাশ করেছ তোমার তো এখন আর উপায় নেই তুমি এত বড় আবেদ, তোমাকে মানুষ জানে, তুমি এত পরহেযগার, তুমি কাজ করেছ, এখন তোমার বাঁচার কোন উপায় নেই, আমি তাদেরকে বলে দিব তুমি যে কাজ করেছ, হত্যা করেছ, এটা আমি বলে দিবতখন সে আবেদ অপারগ হয়ে বলল, ‘তাহলে কি করা যেতে পারে?’ ইবলিস বলল, ‘তোমার একটা পথ রয়েছে, তুমি বাঁচতে পার, আমি বলবনাইবলিস যেহেতু মিথ্যাবাদী, লানতগ্রস্থ, মালউন, তার তো স্বভাব সেটা আবেদ জিজ্ঞাসা করল, ‘কি করতে হবে?’ তুমি এক কাজ কর, যদি শরাব পান কর তাহলে আমি আর বলবনা আবেদ শেষ পর্যন্ত তার মান-ইজ্জত, সম্মান বাঁচানোর জন্য শরাবও পান করল(নাউযুবিল্লাহ্)

ইবলিস এসে বলল যে, ‘দেখ এতেও চলবে না আরো একটা শর্ত পালন করতে হবে, তাহলে আমি তোমার একথা তাদেরকে বলবনা আমি সব ঠিক করে দিয়েছি, তুমি আমার ওয়াদা খেলাফ করেছ, তার মান ইজ্জত নষ্ট করেছ কঠিন অপরাধ করেছ কি শর্ত রয়েছে, ‘তুমি যদি সেই কবরে গিয়ে অর্থাৎ সেই সন্তানের কবরে সিজদা করতে পার তাহলে আমি আর বলবনাসে আবেদ অপরাগ হয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে সিজদাও করল (নাউযুবিল্লাহ্)
কিন্তু ইবলিস যেহেতু প্রতারক, মিথ্যুক, মালউন, মরদূদ, রজীম সে তার দুভাইকে সে কথাটা বলে দিল শুধু তাই নয়, তাদেরকে বলে তাদেরকে এনে মাটি খুড়ে সেই বাচ্চা দেখিয়ে দিল যে, আবেদ ঘটনা করেছে শেষ পযর্ন্ত আবেদ ধরা পড়ল, সমাজে শাস্তিপ্রাপ্ত হলো তার আমল-আখলাক্ব, মান-ইজ্জত, সম্মান সব নষ্ট হয়ে গেল এই এক ওয়াস্ওয়াসার কারণে

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻻﺗﺠﺪﻭﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻐﻴﺒﺎﺕ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻳﺠﺮﻯ ﻣﻦ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﻣﺠﺮﻯ ﺍﻟﺪﻡ ﻗﻠﻨﺎ ﻭﻣﻨﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻨﻰ ﻭﻟﻜﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﺎﻧﻨﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﺎﺳﻠﻢ .

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, দেখ সমস্ত বাড়ী-ঘরে তোমরা যেওনা, যে সমস্ত বাড়ী ঘরে মহিলারা রয়েছে অথচ তাদের স্বামী নেই

ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻳﺠﺮﻯ ﻣﻦ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﻣﺠﺮﻯ ﺍﻟﺪﻡ

অর্থ: নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের মধ্যে চলাচল করে থাকে যেমন রক্ত চলাচল করে থাকে, ঠিক সেভাবে
ﻗﻠﻨﺎ ﻣﻨﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ .

হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মধ্যেও কি চলে থাকে?
 ﻗﺎﻝ ﻣﻨﻰ ﻭﻟﻜﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﺎﻧﻨﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﺎﺳﻠﻢ . 

অর্থ: আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, হ্যাঁ, আমার মধ্যেও হতো, তবে আল্লাহ্ পাক আমাকে সাহায্য করেছেন আমার যে শয়তান রয়েছে, জ্বীন, সেটা আত্মসর্মপন করেছে, ঈমান এনেছে, মুসলমান হয়ে গিয়েছে, যার জন্য আমার কোন অসুবিধা নেই

কিন্তু প্রত্যেক মানুষের সাথে একটা জ্বীন, একজন ফিরিশ্তা থেকে থাকে ফিরিশ্তা তাকে নেক কাজে উদ্বুদ্ধ করে, আর সেই জ্বীনটা তাকে পাপ কাজে ওয়াস্ওয়াসা দিয়ে থাকে এখন সে পাপ কাজের ওয়াস্ওয়াসার কারণে যদি পাপ কাজ করতে থাকে, আস্তে আস্তে তার পাপ বেশী হওয়ার কারণে সে ঈমানী মজবুতি হারিয়ে ফেলে, দূর্বল হয়ে যায় সে পাপ কাজ বেশী বেশী করতে থাকে আর যখন সে ফিরিশ্তা তাকে নেক কাজে উদ্বুদ্ধ করে, আর এই উদ্বুদ্ধ করার কারণে সে নেক কাজ বেশী বেশী করতে থাকে, যার ফলশ্রুতিতে তার ঈমানী কুওওয়ত বৃদ্ধি পেয়ে যায় তখন শয়তানী ওয়াস্ওয়াসা তার আর কোন ক্রিয়া করেনা, সে নেক কাজে ধাবিত হয় সেটাই আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ্ পাক আমাকে সাহায্য করেছেন আমার যে জ্বীন ছিল সেটা ঈমান এনেছে, যার জন্য আমার কোন অসুবিধা নেই কিন্তু প্রত্যেক মানুষের সতর্ক থাকতে হবে, নিরিবিলি থেকে, নির্জনতা থেকে

হযরত উমর ইবনে খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার ইন্তিকালের তিন দিন পূর্বে উনাকে এই জ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বর্ণনা করেন, ‘আমার কাছে যে জ্বীনটা ছিল, আল্লাহ্ পাক-এর রহমতে সেটা ঈমান এনে মুসলমান হয়ে গেছে।’ (সুবহানাল্লাহ্)

ঠিক
আল্লাহ্ পাক যাদেরকে নেক কাজ করার বেশী তাওফীক দান করেন, কবুল করে নেন, তাদের সেই ফিরিশ্তা প্রবল হয়ে যায়, জ্বীনটা দুর্বল হয়ে যায়, যার জন্য সে কোন ক্রিয়া করতে পারেনা অর্থাৎ ওয়াস্ওয়াসা সৃষ্টি করতে পারেনা, নেক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনা কাজেই খুব সতর্ক, খুব সাবধান থাকতে হবে


কুদরতি ফায়সালা 

একজন বুজুর্গ ব্যক্তি জুমুয়ার দিন মসজিদে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তখন মসজিদগুলো ছিল অনেক দূরে দূরে যেতে হলে নামাযের বেশ কিছুক্ষন আগেই রওনা দিতে হত তো সেই বুজুর্গ ব্যক্তির সেইদিন কয়েকটি জরুরি কাজ ছিল আটা ভাঙ্গাতে দেয়া হয়েছিল সেখান থেকে আটা আনতে হবে নইলে বাসায় খাবার প্রস্তুত করা যাবে না ক্ষেতে পানি দিতে হবে নইলে ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে গাধাটা পাওয়া যাচ্ছে না সেটাকে খুঁজে আনতে হবে কিন্তু তিনি চিন্তা করলেন, এইসব কাজ যদি তিনি এখন করতে যান তাহলে ওয়াজিব জুমুয়া ছুটে যাবে কাজেই তিনি সব মুলতবী রেখে মসজিদে রওনা হলেন নামায পড়ে ফেরার পথে তিনি প্রথমে ক্ষেতের অবস্থা দেখতে গেলেন সেখানে গিয়ে তিনি আশ্চর্য হয়ে দেখলেন উনার ক্ষেতে পানি দেওয়া আছে কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলেন, উনার ক্ষেতের লাগোয়া যে ক্ষেত, সেটাতে পানি দেয়া হয়েছে আর পানি জমির আল ভেদ করে উনার ক্ষেতে চলে এসেছে এবং জমিতে যতটুকু পানি সেচের প্রয়োজন ছিল ততটুকু সেচ হয়ে গেছে সুবহানাল্লাহ! বুজুর্গ ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করে বাসায় চলে গেলেন আঙিনায় পৌঁছে দেখলেন উনার গাধাটা আস্তাবলে বাঁধা আছে গাধা আসলো কিভাবে? তিনি বাড়ির ভিতরে গিয়ে উনার স্ত্রীকে সেটা জিজ্ঞেস করলেন স্ত্রী উত্তরে বললেন, বাড়ির বাইরে গাধার ডাক শুনে তিনি বের হয়ে দেখেন যে একটা বাঘ গাধাটাকে তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে সুবহানাল্লাহ! তারপরে স্ত্রী খাবার এনে হাজির করলেন বুজুর্গ ব্যক্তি অবাক হয়ে বললেন, রুটি প্রস্তুত করা গেল কিভাবে? স্ত্রী বললেন, উনাদের প্রতিবেশী নিজের ভাঙানো আটা আনতে গিয়ে ভূল করে উনাদের আটা নিয়ে এসেছেন এবং সেটা বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন সুবহানাল্লাহ! সমস্ত কাজের এরকম কুদরতি ফায়সালা হওয়া দেখে, বুজুর্গ ব্যক্তি কায়মনে মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের সময় বের করে নাও ইবাদতে আত্মনিয়োগ কর, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার হাত রিযিকে পরিপূর্ণ করে দিব আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব; তুমি রিযিকের পিছনে সারাদিন ছুটবে কিন্তু তোমার অভাব কখনোই দূর হবে না
(তিরমিযী শরীফ, ইবন মাজাহ শরীফ)


৬০ জন মু’মিন মুসলমান পরাজিত করলেন ৬০ হাজার কাফিরকে
ইয়ারমুকের জিহাদ, যে জিহাদে রোম সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গিয়েছিল। কাফিরেরা ৬ লক্ষ ছিল, আর মুসলমান ছিলেন মাত্র ৪০ হাজার। এ অবস্থায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পরামর্শ করতে বসলেন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন- “আমরা ৬০ জন কাফিরদের ৬০ হাজারের মোকাবেলায় যাবো।” হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পরামর্শ দিলেন ৬০ জনকে বাচাই করে নিতে, যাতে ১ হাজার কাফিরের মোকাবেলা ১ জন মুসলিম করতে পারেন। উল্লেখ্য, যে ৬০ হাজারের বিরুদ্ধে উনারা লড়েছেন তারাও ছিল লড়াকু আরবীয় খ্রিস্টান।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন- “আমি মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোককে বাছাই করবো যাদের ধৈর্য, দৃঢ়তা ও যুদ্ধে সাহসিকতা সম্পর্কে আমার জানা আছে। যদি উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাৎ ও উনার প্রতিদান কামনা করেন, তাহলে উনারা আমার প্রস্তাবে সাড়া দিবেন।” এই কথা বলে তিনি ৬০ মুসলিম বীরের নাম তলব করলেন।
উনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন- “ওহে আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় সাহায্য কামনাকারীরা! আপনারা যদি ধৈর্যশীল হন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেন, তাহলে আপনারা রোমানদের উপর বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন।” সবাই বললেন- “আল্লাহ পাক উনার কসম! আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল করে উনার দ্বীনের সাহায্যে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাবো।”
পরের দিন সকাল থেকে জিহাদ শুরু হয় এবং এ জিহাদ সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে। শেষ পর্যন্ত কাফিররা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যায়। মুসলমান ইয়ারমুকের চূড়ান্ত জিহাদের পুর্বেই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এ বিজয় লাভ করেন।
(তথ্য সূত্র: আল্লামা ওয়াকেদী রহমতুল্লাহি লিখিত ‘ফুতুহুশ শাম’; যা ‘মরণজয়ী ছাহাবা’ নামে অনুবাদ হয়েছে: পৃ- ৩৮৮-৩৯৭ ) 

No comments:

Post a Comment