Time ****** KMT(+3.00)

মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনি মুবারক

১৪ই মাহে শাওয়াল ৯৭১ হিজরী পৃথিবীতে আগমন করেছেন এক মহান ব্যক্তিত্ব, যার উছিলায় মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র দ্বীন ইসলামকে হিফাজত করেছেন। উনার নাম হযরত শায়েখ আহমদ ফারুক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১) মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি এমন বিশেষ শ্রেনীর ওলী আল্লাহ, যার সম্পর্কে হাদীস শরীফে পর্যন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীস শরীফগুলো নিম্নরূপ:
يُبْعَثُ رَجُلٌ عَلـٰى اَحَدَ عَشَرَ مِائَةِ سَنَةٍ وَهُوَ نُوْرٌ عَظِيْمٌ اِسْـمُه اِسْـمِىْ بَيْنَ السُّلْطَانَيْنِ الْـجَابِرَيْنِ يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ بِشَفَاعَتِهٖ رِجَالٌ اُلُوْفًا.
“একাদশ হিজরীতে একজন মহান ব্যক্তিত্ব’র আবির্ভাব ঘটবে, তিনি হচ্ছেন ‘মহান নূর’। উনার নাম মুবারক হবে আমার নাম মুবারক-এ। তিনি দুই যালিম বাদশাহার মাঝে তাশরীফ নিবেন। উনার শাফায়াতে হাজার হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (জামউল জাওয়াম, জামিউদ দুরার)
يَكُوْنُ فِـىْ اُمَّتِـىْ رَجُلٌ يُقَالُ لَه صِلَةُ يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ بِشَفَاعَتِهٖ كَذَا وَكَذَا مِنَ النَّاسِ.
“আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান ব্যক্তিত্ব’র আবির্ভাব ঘটবে। উনাকে ‘ছিলাহ’ বলা হবে। উনার মুবারক শাফায়াতে (সুপারিশে) অসংখ্য মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (জামউল জাওয়াম, জামিউদ দুরার, জামিউল আহাদীছ, যুহুদ, ইবনে সা’দ, বাইহাক্বী)
অর্থাৎ মুযাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি’র নাম ছিলো ‘আহমদ’ এবং উনার আগমণ ঘটেছে বাদশাহ আকবর ও বাদশাহ জাহাঙ্গীরের মধ্যবর্তী সময়ে।
২) হাদীস শরীফে আছে, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মহান আল্লাহ প্রতি হিজরী শতকের শুরুতে এমন একজন ব্যক্তিত্ব পাঠান, যিনি উম্মতের স্বার্থে পবিত্র দ্বীন ইসলামের সংস্কার সাধন করেন।”(আবু দাউদ শরীফ)
অর্থাৎ প্রতি হিজরী শতকের শুরুতে একজন করে মুজাদ্দিদ শ্রেণীর ওলী আল্লাহ’র আগমণ ঘটবে, যাদের উছিলায় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র দ্বীন ইসলামকে হিফাজত করবেন। আর মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি ছিলেন ঐ শ্রেণীর ওলী আল্লাহগণের মধ্যে অন্যতম।
উল্লেখ্য, মুযাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি’র সময় সবচেয়ে বড় ফিৎনা ছিলো বাদশাহ আকবরের তৈরীকৃত দ্বীন-ই ইলাহী নামক সর্বধর্মের মিশ্রন। এই দ্বীনে এলাহী নিশ্চিহৃ করে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আবার ইসলাম কায়েম করেন। আবার সুন্নত সমূহ জারি করেন। সুবহানাল্লাহ্ !!
আফযালুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, কাইয়্যুমে আউয়াল, মুজাদ্দিদে যামান, মাহবুবে সুবহানী,হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার যিনি সম্মানিত পিতা এবং শায়েখ, বেমেছাল বুযুর্গ, আল্লাহপাক উনার খালিছ ওলী শায়খ হযরত আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আফযালুল আউলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত শরীফের কয়েক দিন পুর্বে একটি মুবারক স্বপ্ন দেখলেন যে উনার সীনা মুবারক হতে এক খন্ড বৃহত্‍ নুর বের হয়ে উনার সামনে বিশাল এক মজলিসে একজন জোতির্ময় ব্যক্তি জাহির হলেন এবং উনার সামনে সমস্ত বিদ আত, বেশরা,কুফরী, শিরকী, বাতিল, গোমরাহদের কে ভেড়া-বকরির আকৃতিতে আনা হল এরপর সেই মহান পুরুষ একটি তরবারী দিয়ে সকল ভেড়া বকরি গুলোকে জবাই করছিলেন আর গাইব থেকে আওয়াজ হচ্ছিল কুরআন শরীফ উনার একটি আয়াত শরীফ যার অর্থ হল সত্য এসেছে মিথ্যা দুরীভূত হচ্ছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা দুরীভূত হবার উপযুক্ত। যখন শায়েখ আহাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই মুবারক স্বপ্ন দেখলেন তখন উনি চিন্তা করতে লাগলেন যে ব্যপারটি কি হল। তাই ভোরে উনি উনার প্রতিবেশী এবং কাদেরিয়া ত্বরিকার বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এই মুবারক স্বপ্নটি বর্ণনা করলেন তখন হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা শুনে বললেন আপনি একটি উত্তম স্বপ্ন দেখেছেন নিশ্চয়ই আপনার বংশে এমন এক সুমহান বুযুর্গ আল্লাহ পাক উনার ওলী আসবেন যিনি জমিন থেকে সকল কুফরী, শিরকী, বিদআতি, খারাবী নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। এবং দ্বীন ইসলাম কে জিন্দা করবেন। সুবহানাল্লাহ।

এর মাত্র কিছুদিন পর এই জমিন কে আলোকিত করে এই জমিনে হাজার বছরের মুজাদ্দিদ আফযালুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, কাইয়্যুমে আউয়াল, মুজাদ্দিদে যামান, মাহবুবে সুবহানী,হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি বিলাদত শরীফ লাভ করলেন।সুবহানাল্লাহ!

জন্মের পর হতেই আফযালুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, কাইয়্যুমে আউয়াল, মুজাদ্দিদে যামান, মাহবুবে সুবহানী,হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকতেন। তাই উনার সম্মানিত পিতা উনি উনার প্রতিবেশী এবং কাদেরিয়া ত্বরিকার বিশিষ্ট বুযুর্গ হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট আফযালুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, কাইয়্যুমে আউয়াল,
মুজাদ্দিদে যামান, মাহবুবে সুবহানী,হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিয়ে গেলেন। উনি যখন হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে পৌছালেন আর শিশু হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দেখেই হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতে লাগলেন এইতো এইতো সেই শিশু যাকে আপনি স্বপ্নে দেখেছেন।সুবহানাল্লাহ।
এরপর হযরত কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি আফযালুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, কাইয়্যুমে আউয়াল, মুজাদ্দিদে যামান, মাহবুবে সুবহানী,হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কোলে তুলে নিলেন এবং হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জিহ্বা মুবারক চুসতে লাগলেন। কিছুক্ষণ জিহ্বা মুবারক চুসার পর বাবা কামাল কায়থালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি বললেন এই শিশু আজ কাদেরিয়া ত্বরিকার সকল নিয়ামত মাকামাত যা কিছু ছিল সব কিছুই হাসিল করে ফেললেন । সুবহানাল্লাহ! সুতরাং তিনি কত বড় ও বেমেছাল বুযুর্গ ছিলেন তা সহজেই বোঝা যায়।
বাদশাহ আকবরের মৃত্যুর পর তার প্রবর্তিত দ্বীন-ই ইলাহিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয় বাদশাহ জাহাঙ্গীর। কিন্তু বাধ সাধেন মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তখন কূটচক্রী নূরজাহানের পরামর্শে মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহিকে কারাবন্দী করেছিলো জাহাঙ্গীর। কিন্তু এতে বেশিদিন টিকতে পারেনি জাহাঙ্গীর। এক পর্যায়ে ভুল বুঝতে পেরে জাহাঙ্গীর মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহিকে মুক্তি দেয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে উনার মুরীদ হয়ে যায়। ফলে পরিসমাপ্তি ঘরে সর্ব ধর্মের মিশ্রন দ্বীন-ই ইলাহির।
এ মহান ওলী আল্লাহ’র জীবনী জানা আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব।

উনার যিনি সম্মানিত পিতা এবং শায়েখ, বেমেছাল বুযুর্গ, আল্লাহপাক উনার খালিছ ওলী শায়খ হযরত আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিছাল শরীফ-এর সময় বারবার বলতেছিলেন যে, আমি এখন আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতটা অনুভব করতেছি আমার অন্তরের মধ্যে। এটা বলতে বলতে তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন বিষয়টা ফিকির করিনি ব্যাপারটা কি? কিন্তুপরবর্তী সময় আমি যখন ফিকির করলাম তখন বুঝতে পারলাম আসলে বিষয়টা হচ্ছে যে, উনার যিনি পিতা এবং শায়খ তিনি আসলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে গরক থেকে তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত জুযই ঈমান, ঈমানের অঙ্গ। যে ব্যক্তির অন্তরে উনাদের মুহব্বত থাকবে অবশ্যই সে খালিছ ঈমানদার এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুবহানাল্লাহ! 

২৮ শে ছফর মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মুবারক বিছাল শরীফ লাভ করেন।

No comments:

Post a Comment