Time ****** KMT(+3.00)

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম

বিনতু রসূল আর রবিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক
পরিচিতি মুবারক
নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবনা আলাইহিমুস সালাম এবং বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট আট জন। বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ধারাবাহিকতায় উনাদের সম্মানিত নাম মুবারক 
. সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম,
. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম,
. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম,
. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম,
. সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম,
. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম
. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং
. সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَااَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكُمْ وَشِفَاء لّـِمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতদানকারী এবং সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য, খাছ করে ঈমানদারদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। (সুবহানাল্লাহ)হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ফযল, করম রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে। তারা দুনিয়া আখিরাতে যা কিছু করে, তা হতে এই খুশি প্রকাশ করা, ঈদ পালন সর্বোত্তম।সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৮)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর জন্য ফযল, করম রহমতস্বরূপ। সঙ্গতকারণেই উনার আখাছছুল খাছ নিসবত মুবারক প্রাপ্ত উম্মুল আইম্মাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ছহিবাতুল হাসানাত, জামিয়াতুল মাক্বামাত, আশবাহু বিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا فَاطِمَةُ عليها السلام بَضْعَةٌ مِنِّي
অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার পূত-পবিত্র জিসিম মুবারক উনার বিশেষ অংশ মুবারক।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ নিসবত মুবারকপ্রাপ্ত। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য যেমন খুশি প্রকাশ করতে হবে, তেমনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার জন্যও খুশি প্রকাশ করতে হবে, ঈদ পালন করতে হবে। উনার প্রতি মুহব্বত, সদাচরণ তথা সর্বোচ্চ হুসনে যন বা সুধারণা পোষণ করতে হবে, উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতে হবে, উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক বা জীবনী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা করতে হবে। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া-আখিরাতে উত্তম প্রতিদান প্রদান করবেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ক্ষমাশীল হিসেবে লাভ করা যাবে। আর উনার মুবারক আলোচনা করলে জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। খাছ খায়ের, বরকত, রহমত, সাকীনাহ নাযিল হবে। সমস্ত নেক মক্বছূদ পূরণ হবে। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বিশেষ নিসবত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উনাদের আখাছছুল খাছ সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই সকল মুমিন-মুমিনার জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা করা, উনাকে মুহব্বত করা, উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক হতে ইবরত-নছীহত হাছিল করা, উনার মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করা এবং সর্বক্ষেত্রে উনাকে ইতায়াত করা। তবেই কামিয়াবী হাছিল করা সহজ এবং সম্ভব হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সমস্ত রহমত-বরকতের চাবিকাঠি। উনারই মুবারক উসীলায় মাখলুকাতের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে। ছলিহীন বান্দা উনাদের আলোচনা করলে যদি খাছ রহমত নাযিল হয়, তাহলে উনার মুবারক আলোচনায় কতবেশি নিয়ামত হাছিল হবে তা সহজেই অনুমেয়। সংক্ষিপ্তাকারে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হল। 

মুবারক বিলাদতী শান প্রকাশের প্রেক্ষাপট:
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নিদর্শনস্বরূপ। একথা সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত অজুদ মুবারক যাহির হওয়ার পূর্বে দুনিয়ার যমীনকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক বিলাদতী শান প্রকাশের পূর্বে আরবভূমিকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

মুহতারামা আম্মাজান:
বিষয়ে সকল হযরত উলামায়ে কিরাম একমত যে, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চতুর্থতম। আর হযরত আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুতান নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সপ্তম।

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মুবারক সময় সম্পর্কে বিভিন্ন ইখতিলাফ পাওয়া যায়।
তবে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনি মুবারক বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি সরাসরি জিজ্ঞাসা করে জেনে নিয়েছেন এবং উম্মাহকে জানিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন সাঁইত্রিশ বছর, সেই বছর পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ উনার ২০ তারিখ ইয়াওমুল জুমুআ সুবহে ছাদিকের মুবারক সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

মুবারক খিদমতে জান্নাতী সম্মানিত মহিলাগণ:
কিতাবে উল্লেখ করা হয়- “উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় যখন নিকটবর্তী হলো, তখন খাদেমাগণ উনাদেরকে সংবাদ দেয়া হলো। কিন্তু দেখা গেলো, শেষ মুহূর্তেও কেউ আসতে পারলেন না। কাউকে পাওয়া গেলো না। তখন দেখা গেলো, পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে চারজন সম্মানিতা মহিলা উনারা উপস্থিত হয়েছেন। উনাদের চেহারা মুবারক অত্যন্ত নূরানী উজ্জ্বল। ছূরতান উনাদেরকে পরিচিত মনে হচ্ছিল না। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনাদের পরিচয় মুবারক জিজ্ঞাসা করলেন। উনারা পর্যায়ক্রমে পরিচয় মুবারক দিলেন। প্রথমজন বললেন, তিনি উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম। দ্বিতীয়জন বললেন, তিনি রব্বাতু কালীমিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসীয়া আলাইহাস সালাম। তৃতীয়জন বললেন, তিনি উখতু কালীমিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম। চতুর্থজন বললেন, তিনি উম্মু রুহিল্লাহ হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম।সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতের জন্য জান্নাত হতে সম্মানিতা মহিলাগণ উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র দুধ মুবারক পান:
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যে পবিত্র দুধ মুবারক পান করেছেন, সে সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
كانت خديجة عليها السلام اذا ولدت ولدا دفعته الى من يرضعه فلما ولدت فاطمة عليها السلام لم يرضعها غيرها
অর্থ:- “উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলে দুধ মুবারক পান করার জন্য তিনি উনাদেরকে অন্য কারো নিকট অর্পণ করতেন। কিন্তু সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে কারো নিকট সপর্দ করেননি।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের দায়িমী ছোহবত নিসবত মুবারকে তিনি অবস্থান করতেন। ক্ষণিকের জন্যও মুবারক ছত্রছায়া হতে তিনি পৃথক হননি। আরবী নিয়মানুযায়ী দুগ্ধজাত সন্তান উনাদের জন্য ধাত্রী মহিলা রাখা হতো। কিন্তু সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন সরাসরি উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি স্বয়ং। এখানে দ্বিতীয় কারো অবস্থান নেই। যা মূলত উনার বেমেছাল বুযূর্গী মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ!
হুলিয়া বা অবয়ব মুবারক:
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ নকশা মুবারক ছিলেন। উনার পবিত্র জিসিম মুবারকের গঠন মুবারক, কথা মুবারক, চলন মুবারক, কন্ঠস্বর মুবারকসহ সার্বিকভাবেই তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا اشبه سمتا و دلا و هديا برسول الله صلى الله عليه وسلم فى قيامها و قعودها من فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه و سلم.
অর্থ: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাল-চলন মুবারক, স্বভাব-চরিত্র মুবারক, কাজ-কর্ম মুবারক এবং মুবারক উঠা-বসাতে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (তিরমিযী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا من الناس كان اشبه بالنيى صلى الله عليه وسلم كلاما و لاحديثا ولاجلسة من فاطمة عليها السلام.
অর্থ:- উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বচনভঙ্গি মুবারক উপবেশন মুবারকে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (আল মুজাম আল আওসাত)
মূল কথা হলো, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম। তিনি এমনি ক্বায়িম-মাক্বাম ছিলেন যে, অনেক সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক রাখছেন ভেবে উনার তাযীমার্থে সকলে যখন দাঁড়াতেন, তখন দেখা যেত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক রাখছেন। অর্থাৎ অন্যান্য দিক থেকে তিনি তো ক্বায়িম-মাক্বাম ছিলেনই, এমনকি উনার পবিত্র জিসম মুবারক উনার সুঘ্রাণ মুবারকও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসম মুবারক উনার সুঘ্রাণ মুবারক উনার অনুরূপ ছিলো। সুবহানাল্লাহ!

বরকতময় শৈশব মুবারক:
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সরাসরি তত্ত্বাবধান মুবারকে বরকতময় শৈশবকাল মুবারক অতিবাহিত করেছেন। বলা হয়, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এক মুহূর্তের জন্যও উনাকে দূরে বা পৃথক থাকতে দিতেন না। এছাড়া তিনি যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম, সেহেতু বরকতময় শৈশবকাল মুবারক হতেই উনার বিশেষ রো মুবারক প্রকাশ পেত। খাছ ভাব-গাম্ভীর্যতাপূর্ণ শান মুবারকে তিনি দায়িমীভাবে অবস্থান মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
বলাবাহুল্য যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ মাহবুবা। সঙ্গতকারণেই যাবতীয় ইলম, হিকমত নিয়ামত নিয়েই তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তারপরেও মুসলিম শিশুদের যেসব আনুষ্ঠানিকতা শৈশবকালে সম্পন্ন করা হয়, উনার সেসব মুবারক আনুষ্ঠানিকতাসমূহ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্পাদন করে দেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তাহনীক মুবারক, আক্বীক্বা মুবারক এবং মুবারক নামকরণ সবই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এতই খুশি মুবারক প্রকাশ করেন, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। বরকতময় শৈশবকাল মুবারক হতেই উনার ইলমী ব্যাপকতা এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যে- উনার কথা মুবারক শুনে সকলেই অত্যধিক আশ্চর্যান্বিত হতেন। সুবহানাল্লাহ!

নাম মুবারক:
মাখলুকাত মাঝে সর্বাধিক পরিচিত, উচ্চারিত এবং আলোচিত নাম মুবারকসমূহের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক অন্যতম। উনার নাম মুবারক হচ্ছেন হযরতফাতিমাআলাইহাস সালাম। লুগাতে এই শব্দের অনেক অর্থ উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, সদ্য দুধ ছাড়ানো শিশুর মা। অর্থাৎ তিনি এমনি মহান ওজুদ মুবারক, যিনি মাখলুকাতকে এমন সব নিয়ামত হাদিয়া করেন যা দ্বারা মাখলুকাত উপকৃত হয়। দ্বিতীয়ত, পরিত্রাণ দানকারী। অর্থাৎ উনার সাথে নিসবতপ্রাপ্ত সকলেই সুনিশ্চিতভাবে নাজাতপ্রাপ্ত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটাত্মীয় উনাদের মধ্যে কমপক্ষে নয় () জন এই নাম মুবারকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন এক ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরজ করলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, এই মহান ওজুদ মুবারক উনার নাম মুবারক হযরতফাতিমাআলাইহাস সালাম যেন রাখা হয়। কেননা, আমি বিশেষ খুছূছিয়তে উনাকে অনন্যতা হাদিয়া মুবারক করেছি।
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম সালাম উনার অসংখ্য-অগণিত লক্বব মুবারক রয়েছে। তবে কয়েকখানা লক্বব মুবারক বিশেষভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। যেমন- সাইয়্যিদুন নিসা আর রবিয়া’, যাহরা, বতুল, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, রদ্বিয়া, মারদিয়্যা ইত্যাদি।
বলাবাহুল্য, মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদের মূল নাম মুবারক বারবার উচ্চারণ করা যথার্থ আদব নয়। এজন্যই মুজাদ্দিদে যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার মূল নাম মুবারক বারবার উচ্চারণ না করে উনার বিশেষ লক্বব মুবারকযাহরাআলাইহাস সালাম এই লক্বব মুবারক সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচলনের জন্য মুবারক নির্দেশনা প্রদান করেন।
লক্বব মুবারক :
হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতুন নিসা। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনাদের সকলকে এই লক্বব মুবারকে ভূষিত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلام قال وهو فى مرضه الذى توفى فيه يا فاطهة عليها السلام الا ترضين ان تكونى سيدة نساء العالـمين وسيده نساء هذه الامة وسيدة نساء الـمؤمنين.
অর্থ:- “উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আপনি কি সন্তুষ্ট নন। আপনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা সারা কায়িনাতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি এই উম্মতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি মুমিন মহিলাদের সাইয়্যিদাহ।সুবহানাল্লাহ! (আল মুসতাদারাক)
মূল কথা হচ্ছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়া আখিরাত উভয়কালে মাখলুকাতের সমস্ত মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। অর্থাৎ সমস্ত মহিলাদের উপর উনার আধিপত্য। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা:
যামানার ইমাম মুজতাহিদ, ¦লীফাতুল্লাহ, ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নুমা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সর্বপ্রথম সম্পন্ন করেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সেই সময়ে হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন- উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, বিনতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলসুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। সংবাদ শুনার সাথে সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনিও উনার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে তিনিও দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

মুবারক খিদমতে বেমেছাল আঞ্জাম:
আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত প্রকাশকালে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক প্রায় বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত মুবারক ঘোষণার পর হতেই কাফিররা যুলুম শুরু করে। কাফিরদের যুলুম নির্যাতন চরম পর্যায় পৌঁছে যায়। শারীরিক-মানসিকসহ সর্বপর্যায়ে তারা তাদের এই নির্যাতন চালিয়ে যায়। আর কঠিন সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক খিদমতের বেমেছাল আঞ্জাম দিয়েছেন। সেই সময়ে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যদিও কম, তথাপি তিনি যে খিদমত মুবারক করেছেন, তা সকলকে চমকিয়ে দিতেন। সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ- অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضى الله تعالى عنه قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ، وَجَمْعُ قُرَيْشٍ فِي مَجَالِسِهِمْ إِذْ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَلاَ تَنْظُرُونَ إِلَى هَذَا الْمُرَائِي أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى جَزُورِ آلِ فُلاَنٍ، فَيَعْمِدُ إِلَى فَرْثِهَا وَدَمِهَا وَسَلاَهَا فَيَجِيءُ بِهِ، ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى إِذَا سَجَدَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَانْبَعَثَ أَشْقَاهُمْ، فَلَمَّا سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا، فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ، فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ وَهْىَ جُوَيْرِيَةٌ، فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا حَتَّى أَلْقَتْهُ عَنْهُ، وَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ ‏”‏ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ،
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা পবিত্র কাবা শরীফ উনার সামনে পবিত্র নামায আদায় করছিলেন। পাশেই কুরাইশদের তথাকথিত নেতারা একত্রিত হয়েছিল। তখন তাদের একজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইশারা করে বললো, তোমরা কি উনাকে দেখছ না? তোমাদের মাঝে এখন কে আছে যে, অমুক গোত্রের উট যবেহ করার স্থানে যেতে রাযী আছে? সেখান হতে উটের গোবর, রক্ত এবং নাড়ী-ভূড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষায় থাকবে। যখন তিনি সেজদা মুবারক দিবেন, তখন উটের সেই ময়লাগুলো উনার কাঁধ মুবারকে রেখে আসবে। নাউযুবিল্লাহ! কাজের জন্য তাদের সর্বনিকৃষ্ট এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং উটের ময়লাগুলো নিয়ে আসলো।
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সিজদা মুবারক দিলেন, তখন সেই চরম নিকৃষ্ট কাফিরটি উনার পবিত্র কাঁধ মুবারকে উটের সেই নাড়ি- ভূড়িগুলো দিয়ে দিলো। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র কাঁধ মুবারকে এই ময়লাগুলো চাপিয়ে দেয়ায় তিনি উনার সিজদা মুবারক দীর্ঘায়িত করতে লাগলেন। আর এই পরিস্থিতি দেখে সেই কাফিরগুলো হাসাহাসি করতে লাগলো। হাসাহাসি করতে করতে তারা একজনের গায়ের উপর অপরজন পড়ে যেতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ! এমতাবস্থায় কেউ একজন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট এই করুণ সংবাদ পৌঁছালো। তখন উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক খুবই কম। তিনি সংবাদ পাওয়া মাত্রই অত্যধিক দ্রুত গতিতে সেখানে উপস্থিত হলেন। তখনও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিজদা মুবারকেই অবস্থান করছিলেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাঁধ মুবারক হতে উটের নাড়ী-ভূড়িগুলো সরিয়ে দিলেন। তিনি কাফিরদের প্রতি অত্যধিক জালালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নামায শেষ করে দোয়া মুবারক করলেন, আয় আল্লাহ পাক! কুরাইশ কাফিরদেরকে ধ্বংস করুন। (বুখারী শরীফ)
উপরোক্ত ঘটনা দ্বরা সুস্পষ্ট যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। আর এজন্যই উনার লক্বব মুবারক হলোউম্মু আবীহা একজন মাতা উনার সন্তান উনার যেরূপ সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে থাকেন, তেমনি তিনি খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!



No comments:

Post a Comment