Time ****** KMT(+3.00)

পবিত্র মিরাজ শরীফ

মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় হাবীবকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। (সূরা বনি ইসরাঈল ১)
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুইবার আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন। একবার চক্ষু মোবারক দ্বারা একবার অন্তর মোবারক দ্বারা। (মু’জামুল আওসাত ৩/৩৫৬, হাদীস ৫৭ ৫৭, মু’জামুল কবীর ১২/১৭: হাদীস ১২৫৬৪, মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া ৩/৩৯৭, উমদাতুল ক্বারী ১৯/১৯৯ , খাসায়েসুল কোবরা ১/২৬৭)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুসনাদে সহীহ সনদে বর্ননা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আল্লাহ তাবারক ওয়া তায়ালকে দেখেছি। (মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল ১/২৯০: হাদীস ২৬৩৪, জামেউছ ছগীর : হাদীস ৪৩৭৭)
লা’মাযহাবীদের গুরু নাছির উদ্দীন আলবানী তার সহীহুল জামের ৩৪৬৬ নং হাদীসে উক্ত বর্ননা কে সহীহ বলে উল্লেখ করেছে।
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আইশ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন , আমি মহান রব তায়ালাকে উত্তম সূরতে দেখেছি।” (দারেমী শরীফ ২/১৭০: হাদীস ২১৪৯, মিশকাতুল মাছাবীহ ১/২২৫: হাদীস ৭২৫, মিরকাতুল মাফাতীহ : কিতাবুল মসজিদ, শরহে শিফা ১/৪২৮)
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান রব্বুল আলামীন উনাকে দেখেছেন। (ইবনে খুযাইমা ২/৮৮৯, শরহে মাওয়াহেব ৬/১১৮)
বিশিষ্ট তাবেয়ী শারীক রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবু যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, অত্র আয়াত শরীফ (হৃদয় যা দেখেছে তা মিথ্যা নয়) প্রসঙ্গে , হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ করেছেন। (শরহে শিফা ১/৪২৬)
হযরত মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার প্রভুকে দেখেছি। (মিশকাতুল মাছাবীহ ৭২ পৃষ্ঠা)
হযরত হাছান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি কসম করে বলেছেন, নিশ্চয়ই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক ইনাকে দেখেছেন। (শিফা শরীফ ১/১১৫)
হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমি আমার রব তায়ালা উনাকে দেখেছি। (তিরমিযী শরীফ : হাদীস শরীফ ৪২৩৫, ফিরদাউস লি দয়লামী ২/২৫৪ : ৩১৮৩)
উক্ত হাদীস শরীফ সর্ম্পেকে ইমাম তিরমীযি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনছি এই হাদীস শরীফ সহীহ।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার রব তায়ালা উনাকে দেখেছি। উনার কোন তুলনা বা মেছাল নেই।” (ফিরদাউস লি দয়লামী ২/২৫৪ : ৩১৮৩)
ইমাম আবু আছেম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে সহীহ সনদে হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রব তায়ালা উনাকে দেখেছেনঃ। (আস সুন্নাহ লি ইবনে আছিম ১/১৯০ : ৪৩৭)
হযরত ক্বাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। (খাছায়েছুল কোবরা ১/২৫৯)
ইমাম বাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রব তায়ালা উনাকে দেখেছেন। (মুসনাদে বাযযার ৫১৮৫, আবু ইয়লা ২৬০৮)
ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হযরত মারওয়ান রহমতুল্লাহি একদা হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন ? তিনি বললেন হ্যাঁ। (শরহে শিফা ১/১১৯)
ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ কথা সহীহ যে মিরাজ শরীফ রজনীতে , হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। (ইহয়াউ উলুমুদ্দীন)
মুসলিম শরীফ এর ব্যাখ্য কারক ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম উনাদের অভিমত হচ্ছে মিরাজ শরীফের রাতে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক উনাকে কপাল মুবরাক এর চক্ষু মুবারক দ্বারা দেখেছেন। (শরহে মুসলিম, শরহে মাওয়াহেব ৬/১৬৬)
আর তাই মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
فَأَوْحَىٰ إِلَىٰ عَبْدِهِ مَا أَوْحَىٰ
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَىٰ
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَىٰ
অতঃপর নিকটবর্তী হলেন ও ঝুঁকে গেলেন। দুই ধনুকের অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ যা ওহী করবার, তা করলেন। অন্তর মিথ্যা বলেনি যা তিনি দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা তিনি দেখেছেন? (সূরা নজম ৮-১২)

সহীহ সনদে পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজার বর্ণনা
--------------------------------------------------------------------
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، وَفِيهِ بَعَثَ اللهُ مُحَمَّدًا "، " وَرُوِيَ ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ آخَرَ أَضْعَفُ مِنْ هَذَا كَمَا "
যেমন- হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- প্রিয় নবী, হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "রজবে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যে এদিন রোজা রাখবে, আর রাত জেগে ইবাদত করবে, তবে সে যেন ১০০ বছরের রোজা রাখল এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলো, আর তা হচ্ছে রজবের ২৭ তারিখ।" (শোয়ায়বুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৬, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৬৯, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)
3531 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: " فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ "
রজব মাসে একটি রাত আছে ওই রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো ২৭মে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য কোন আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ (দুরুদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নক্তো দুআ ১০০ বার পাঠ করবে-
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ
অতপর ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যানকর যত দু‘আই করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দু‘আই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুণাহের কাজে জন্য দু‘আ ব্যতীত। (শোয়াবুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬পৃ, হাদিস-৩৫৩১, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৭ : হাদীস ১২, তাবয়িনুল আযাব বিমা উরিদা ফি ফাদলি রজব ১/৩১, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৭০, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড বাবু হারফূ ফা, আসারুল মারফুয়া ১/৬১ , তানযিয়াতু শরীয়াতিল মারফুয়া ২/৮৯)
সূতরাং সবাই এই রাতে ইবাদত করে দিনে রোজা রেখে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন।

No comments:

Post a Comment