Time ****** KMT(+3.00)

মুজাদ্দিদ

মুজাদ্দিদগণ উনাদের তালিকা ও পরিচিতি

আল্লাহ পাক মানব জ্বিন জাতির হিদায়েতের জন্য যমীনে হাদী পাঠান। প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, প্রত্যেক ক্বওমের জন্যই হাদী বা হিদায়েতকারী রয়েছে।”  (সূরা রাদঃ৭)
তাই পৃথিবীতে একলক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুইলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম হাদী হিসেবে আগমন করেছেন। সর্বশেষে আগমন করেছেন, আখেরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পর পৃথিবীতে আর কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আগমন করবেন না। তাই ছহীহ্ দ্বীন ইসলাম পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ পাক ন্যস্ত করেছেন হক্কানী আলিম তথা আউলিয়ায়ে কিরামগণের উপর।
প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আলিমগণ নবীগণের ওয়ারিছ বা উত্তরাধিকারী।  (তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত)
উনাদের আগমনের দরজা কেয়ামত পর্যন্ত খোলা রয়েছেহাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উম্মতে মুহম্মদীর জন্যে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের দ্বীনের  তাজদীদ করবেন (আবূ দাউদ, মিশকাত, দাইলামীদ্বীন তথা শরীয়তের আক্বীদা আমলের তাজদীদ করনে ওয়ালা বা সংস্কারক

মুজাদ্দিদের কাজ
) ওলামায়ে হক্বদেরকে হক্ব পথে কায়েম থাকার জন্য সাহায্য করা এবং ওলামায়ে ছুদের তথা দুনিয়াদার আলেমদের গোমরাহী হতে ফিরিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ক্বিয়াস অনুযায়ী আমল করতে সাহায্য করা।

) বিদয়াত দূরীভূত করে সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠা করা।
) মাসয়ালা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত হলে তা হতে হালাল পথ প্রদর্শন করা।

) খিলাফত প্রতিষ্ঠা পরিচালনার কোসেস করা। সুতরাং বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, মুজাদ্দিদগণের দুনিয়াতে আগমনের কারণ বা উদ্দেশ্য হল- সমাজে প্রচলিত যাবতীয় বদ কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত বেশরা শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল সমুহের মুলউৎপাটন ছহীহ্ আক্বীদা সুন্নতের আমল সমুহে সকলকে অভ্যস্ত করে তোলা।
উল্লেখ্য যে, প্রথম হিজরী শতক হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণের যামানা। অতএব মুজাদ্দিদ্গণের আগমন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকে।
মুজাদ্দিদগণ আগমনের ধারাবাহিকতায় পর্যন্ত ১৩ জন মুজাদ্দিদ গত হয়েছেন। উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নরূপ:-
হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি    
বিস্তারিত জানতে নাম মুবারকের উপর ক্লিক করুন

তিনি দ্বিতীয় হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মাযহাব হানাফী মাযহাবের ইমাম প্রতিষ্ঠাতা তিনি একজন তাবেই তাঁর প্রকৃত নাম নুমান ইবনে সাবিত
তিনি প্রথমে হযরত ইমাম সাইয়্যিদ বাকির আলাইহিস সালাম-উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং উনার বিছাল শরীফের পর উনার পুত্র হযরত ইমাম সাইয়্যিদ জাফর সাদিক্ব আলাইহিস সালাম-উনা নিকট বাইয়াত হন।  শায়খ বা মুর্শিদ
ক্বিবলা উনার হাতে বাইয়াত হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দুটি বছর না আসতো, তবে নুমান ধ্বংস হয়ে যেত।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ  যদি তিনি উনার শায়খদ্বয় উনাদের নিকট বাইয়াত না হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে যেতেন। হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার ৪৮ টিরও বেশী লক্বব মুবারক (উপাধী) ছিল, তান্মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্বব -- ইমামে যম, ইমামুল মুকাস্সিরীন ফিল হাদীস, ইমামুল কবীর ফিল ফিক্বাহ, ইমামুল হুমাম, ইমামুল আইম্মা, ইত্যাদি।
 
৮০ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ১৫০ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন
হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি তৃতীয় হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং হাম্বলী মাযহাবের ইমাম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি- কাছে বাইয়াত হয়ে তাঁর কাছ থেকে ইলমে ফিক্বাহ ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করেন। এছাড়া হযরত আবূ হামযাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি- কাছ থেকেও
তিনি ইলমে তাছাউফের নিসবত হাছিল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য তাজদীদসমূহের
দুটি নিম্নরূপ-
 ) লাইলাতুল রগাইব অর্থাৎ রজব মাসেরপহেলা জুমুয়ার রাত্র, মহা সন্মানিত ঐ মুবারক রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খতামুন নাবীয়্যিন, হাবীবুল্লাহ  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সন্মানিত আব্বা উনার পিঠ মুবারক থেকে সন্মানিত আম্মা উনার রেহেম শরীফে তাশরীফ এনেছেন, সে রাত্রের মর্যাদা ফযীলত শবে বরাত ও শবে ক্বদর থেকেও লক্ষ কোটিগুণ বেশী।
) সুন্নতের আমল করা ফরজ। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ দ্বারা তিনি ছাবিত করেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবীয়্যিন, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ফরজ।
১৬৪ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ২৪১ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন

হযরত ইমাম আবুল মানসুর মাতুরিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি চতুর্থ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং তিনি হানাফী মাযহাবের মুকাল্লিদ
মুজতাহিদ ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের প্রতিটি বিষয়ের শুদ্ধ আক্বীদা নিরুপণ করেন তাই তাঁকে আক্বাঈদ শাস্ত্রের ইমাম বলা হয়।
২৭০ (মতান্তরে) ২৭১ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৩৩৩ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন

হযরত ইমাম মুহম্মদ আবূ হামিদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি পঞ্চম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি হযরত আবূ আলী ফারমুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার হাতে বাইয়াত হন। তিনি তাঁর যামানার সকল মুসলমানকে গ্রীক দর্শন হতে ফিরিয়ে ইসলামের
দিকে নিয়ে আসেন, তাই তিনিহুজ্জাতুল ইসলাম (অর্থাৎ ইসলামের দলীল) লক্বব মুবারকে ভুষিত হন। তাঁর আর একটি উল্লেখযোগ্য তাজদীদ হচ্ছে-
চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাব অনুসরণ করা ফরজ।
তিনি ইলমে তাছাউফের উপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব রচনা করেন তার মধ্যে দুটি কিতাব হলো- ইহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন ক্বিমিয়ায়ে সায়াদাত
৪৫০ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৫০৫ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন

হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাদিরজিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী এবং ক্বাদরিয়া ত্বরীকার ইমাম তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বংশধর। তিনি ইলমে ফিক্বাহ্ হাছিলের পর ইলমে তাছাউফ হাছিল করার জন্য হযরত আবূ সাঈদ মুবারক মখদূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মুরীদ হন এবং ইরাকের জঙ্গলে ২৫ বছর যাবত সাধনা করে পূর্ণতায় পৌছেন।
তিনি তাঁর যামানার সকল মুসলমানকে যাবতীয় বদ ও কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল হতে ফিরিয়ে ইসলামের
দিকে অর্থাৎ আল্লাহ পাকের মারিফাত-মুহব্বতের দিকে আনার জন্য একটি ত্বরীকা বা পথ দেখান যা ক্বাদরিয়া ত্বরীকা নামে সুপরিচিত, আর তাই তিনি আল্লাহ্ পাকের তরফ হতেমুহিউদ্দীন (ইসলাম জিন্দাকারী) লক্বব মুবারক প্রাপ্ত হন। তাঁর ৫১ টিরও বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল যম, পীরানে পীর, দস্তগীর ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি তাঁর রচিত গুনিয়াত্ত্বলিবিন কিতাবে ৭২টি বাতিল ফিরক্বার আক্বীদা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ
করেন, যা তাঁর একটি অনবদ্য তাজদীদ
৪৭১ হিজরীতে ইরানের জিলান শহরে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৫৫৯ হিজরীতে ইরাকের বাগদাদে বিছাল শরীফ লাভ করেন সেখানেই উনার সন্মানিত মাযার শরীফ অবস্থিত।

হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুঈনুদ্দীনচিশতী আজমেরী রহমতুল্লাহিআলাইহি
তিনি সপ্তম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের
অনুসারী এবং চিশতীয়া ত্বরীকার ইমাম তিনিও সাইয়্যিদ ছিলেন। তাঁর পীর সাহেব ক্বিবলার নাম হচ্ছে হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি তাঁর শায়খের ২০ বছর যাবত খেদমতের আঞ্জাম দেন এবং তাঁর কাছ থেকে কামালত হাছিল করেন। তাঁর উসীলায় পাক- ভারত উপমহাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশী লোক তাঁর হাতে বাইয়াত হয়ে ইসলাম গ্রহন করেন, তাই সত্যই তিনিমুঈনুদ্দীন অর্থাৎ ইসলামের সাহায্যকারী। তিনি আল্লাহ পাকের বান্দদেরকে রসূল ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতদেরকে উনাদের মারিফাত-মুহব্বত হাছিলের জন্য
যে ত্বরীকা দিয়ে যান তা চিশতীয়া ত্বরীকা নামে সুপ্রসিদ্ধ।
তিনি সুন্নতের এত বেশী অনুসরণ-অনুকরন করতেন, যার ফলশ্রুতিতে বিছাল শরীফের সময় তাঁর কপাল মুবারকে সোনালী অক্ষরে লিখিত হয়
হা-যা হাবীবুল্লাহ মা-তা ফী হুব্বিল্লাহ অর্থাৎ ইনি আল্লাহ পাকের হাবীব (বন্ধু),
আল্লাহ পাকের মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। ৮২ টিরও বেশী উনার লক্বব মুবারক রয়েছে, তারমধ্যে হাবীবুল্লাহ, সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়েখুল বাররে ওয়াল বাহ্র, গরীবে নেওয়াজ, খাজায়ে খাজেগাঁ ইত্যাদি বিশেষভাবে প্রণিধাণযোগ্য।

৫৩৬ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৬৩৩ হিজরীতে ভারতের আজমীর
শরীফে বিছাল শরীফ লাভ করেন, সেখানেই তাঁর মাযার শরীফ রয়েছে।

হযরত ইমাম নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি অষ্টম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আলী বুখারী। তিনি হযরত খাজা ফরীদুদ্দীন মাসুদ গঞ্জে শকর
রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার হাতে বাইয়াত হন এবং তাঁর কাছে ইলমে ফিক্বাহ
ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাব এবং চিশতীয়া ত্বরীকার অনুসারী। তিনি সামার মাহ্ফিল (বাদ্যযন্ত্র, মহিলা, রাগ-রাগিনী তথা অনৈসলামী সূর ব্যতীত আরো শর্ত সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের দিকে আহ্বান সম্বলিত শব্দ দ্বারা রচিত এবং আল্লাহ্ওয়ালা ব্যক্তি দ্বারা ক্বাসিদা পাঠকে সামা বলে) খুব পছন্দ করতেন। তাঁর লক্বব মুবারকের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- মাহবুবে ইলাহী,
সুলতানুল মাশায়িখ, নিযামুদ্দীন আউলিয়া ইত্যাদি।
৬৬০ হিজরীতে তিনি বাদায়্যূনে বিলাদত শরীফ এবং ৭৪৫ হিজরীতে দিল্লীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন সেখানেই উনার মাযার শরীফ রয়েছে।

হযরত ইমাম খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিতিনি নবম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের
অনুসারী এবং নকশবন্দীয়া ত্বরীকার ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হযরত সাইয়্যিদ আমীর কূলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মুরীদ ছিলেন।
তিনি মুসলমানদেরকে আল্লাহ পাক তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
মারিফাত- মুহব্বত হাছিলের জন্য যে ত্বরীকা দিয়ে যান তা নকশবন্দীয়া ত্বরীকা নামে সুপরিচিত।
৭২৮ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৮০৮ হিজরীতে (মতান্তরে ৭৯১ হিজরীতে) বিছাল শরীফ লাভ করেন

হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। আফ্রীকার সুয়ূত অঞ্চলে তিনি তাঁর তাজদীদের কাজ করেন। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী। মুজাদ্দিদগণের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশী কিতাব রচনা করেন, “তাফসীরে জালালাইন  তাঁর রচিত
কিতাবগুলোর মধ্যে একটি।
৮৪৯ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ৯১১ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন

হযরত ইমাম শায়খ আহমদ ফারুক্বী সিরহিন্দী রহমতুল্লাহিআলাইহি
তিনি একাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। যেহেতু তিনি দ্বিতীয় হিজরী সহস্রাব্দে আভির্ভূত হন, তাই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেমুজাদ্দিদে আলফে ছানী  (দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ) লক্বব প্রদান করেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং নকশবন্দীয়া--
মুজাদ্দিদীয়া ত্বরীকার ইমাম তিনি হযরত খাজা বাক্বীবিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার নিকট বাইয়াত হয়ে ইলমে তাছাউফের তাক্বমিলে পৌছে খিলাফত প্রাপ্ত হন। তাঁর সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছেঃ হিজরী একাদশ শতকের প্রারম্ভে আল্লাহ পাক এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি একটি বৃহৎ নূর, তাঁর নাম হবে  আমার নামের অনুরূপ, দুই অত্যাচারী বাদশাহ মধ্যবর্তী সময়ে তিনি আবির্ভূত
হবেন এবং তাঁর শাফায়াতে অসংখ্য লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে।(জামউল জাওয়াম)
৯৭১ হিজরীতে তিনি ভারতের সিরহিন্দ শরীফে বিলাদত শরীফ  এবং বাদশাহ আকবর কতৃক উদ্ভাবিতদ্বীন-- ইলাহী নামক কুফুরী মতবাদের মুলউৎপাটন করে ছহীহ্ দ্বীন তথাদ্বীন ইসলামকে জিন্দা করেন।

পূর্ববর্তী সকল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মতো তিনিও সুন্নতের সূক্ষাতিসূক্ষ অনুসরণ-অনুকরণ করতেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ পাক তাঁকে গায়ের এখতিয়ার সুন্নতও (স্বীয় ইচ্ছা-ক্ষমতার বাইরে যে সুন্নত) পালন করিয়েছেন। যেমন তিনি ৬৩ বছর ( হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক) বয়স মুবারকে  ১০৩৪ হিজরীতে সিরহিন্দ শরীফেই বিছাল শরীফ লাভ করেন
ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক্ব আলাইহিস সালাম উনার সন্মানিত
বংশধর  এবং তরীক্বার নিসবতের দিক দিয়ে আফদ্বালুন নাছ বাদাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম-উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন। ২৪ টিরও বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে ইমামে রব্বানী, আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বাইয়্যুমে আউয়াল, নূরূন আযীম, সিরাজুল উম্মত, মুসলিহাম বাইনাল ফিআতাইন ইত্যাদি প্রণিধাণযোগ্য লক্বব মুবারক।

হযরত ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং চার ত্বরীকায় বাইয়াত করাতেন। তিনি হযরত আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ
দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার হাতে বাইয়াত হন। উনার উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারকের মধ্যে কয়েকটি লক্বব হলো ইমামুল হিন্দ, আরিফুর রব্বানী, হুজ্জাতুল ইসলাম ইত্যাদি।
 
১১১৪ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ১১৭৬ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন
তিনি ত্রয়োদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের
অনুসারী এবং চার ত্বরীকার নিসবত প্রাপ্ত মুহম্মদীয়া ত্বরীকার ইমাম তিনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিভিন্ন সুন্নত মুবারক জিন্দা করেন।  এখন পর্যন্ত তিনিইএকমাত্র মুজাদ্দিদ যিনি খেলাফত কায়েম করেন এবংজিহাদ করতে করতে বালাকোটে শাহাদত লাভ করেন। হযরত আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট তিনি বাইয়াত হন। ছাহিবু ইলমে লাদুন্নী, মুজাহিদে আযম,  আমিরুল মুমিনীন ইত্যাদি উনার উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারক।
১২০১ হিজরীতে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলী শহরের বিখ্যাত সম্ভ্রান্ত সাইয়্যিদ পরিবারে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ১২৪৬ হিজরীতে বালাকোট প্রান্তরে শহীদ হন।

হযরত ইমাম আবূ বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
তিনি চতুর্দশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং চার ত্বরীকার নিসবত প্রাপ্ত। তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বহু সুন্নতকে মুসলমানের মাঝে জিন্দা করে গেছেন। হযরত শাহ ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরফ থেকে তিনি খিলাফত প্রাপ্ত ছিলেন। তাঁর ৪১ টির বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারকগুলো হলো রঈসূল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাস্সিরীন, ইমামুল মুসলিমীন, ক্বাইয়্যুমুয্ যামান, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ইত্যাদি।
১২৩৬ হিজরীতে তিনি বিলাদত শরীফ এবং ১৩৫৮ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন।

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, আওলাদে রসূল, মাওলানা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ
মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী মুর্শিদ ক্বিবলা অ্লাইহিস সালাম রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা। তিনি তাঁর সম্মানিত মাতা-পিতা উভয় দিক হতে সাইয়্যিদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতমুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বংশধর। তিনি সারাবিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত, গ্রহণযোগ্য ও হক্ব সিলসিলা ফুরফুরা সিলসিলার পীর সাহেব ক্বিবলা হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবুল খায়ের
মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী (যাত্রাবাড়ির হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা) রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হয়ে মাত্র দেড় বছরে চার তরীক্বায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হন এবং স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার চূড়ান্ত সন্তুষ্টি হাছিল করে খিলাফত প্রাপ্ত হন।
তিনি বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতংক, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী হানাফী মাযহাবের অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীল ভিত্তিক মূখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত এবং পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ শহর থেকে পঠিত দৈনিক আল ইহসান উনার প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষক
তিনি বিশ্বের মুসলমানদেরকে ছহীহ্ আক্বীদা ও সুন্নতের আমলে অভ্যস্ত করার লক্ষ্যে তাঁর তাজদীদী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উনার অনবদ্য তাজদীদ সমূহ
১) সকল প্রকার তন্ত্র-মন্ত্র (যেমন গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র) ভ্রান্ত মতবাদ (যেমন নাস্তিক্যবাদ, মার্ক্সবাদ, ল্যালিনবাদ, লিংকনবাদ ইত্যাদি)-এর মূলৎপাটন করে ইসলামী খিলাফত তথা খিলাফত আলা মিনহাযুন নবুয়্যা কায়েম করা।
) ভোট, নির্বাচন, হরতাল, অবরোধ, লংমার্চ,ছবি সংক্রান্ত সকল ফিতনা (ছবি তোলা, আঁকা,রাখা, টেলিভিশনে ইসলামী, অনৈসলামী প্রোগ্রাম করা ইত্যাদি), সকল প্রকার গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, মুর্তি ইত্যাদি হারাম থেকে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে
রাখা।
) মুসলমানদেরকে সকল প্রকার বিজাতীয়-বিধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান (যেমন
পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাস্ট নাইট, হিজরী নববর্ষ, ভ্যালেন্সটাইন ডে, ফার্স্ট
এপ্রিল, মে ডে, ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে, ফ্রেন্ডস ডে ইত্যাদি) থেকে ফিরিয়ে ইসলামী পর্বগুলো (যেমন আশুরা, আখেরী চাহার শোম্বাহ, ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ফাতিহা ইয়াজদাহম,  রজব মাসের পহেলা রাত্রি, লাইলাতুল
রগায়িব, লাইলাতুল মিরাজ, লাইলাতুম মুবারাকা/লাইলাতুল নিসফে মিন শাবান অর্থাৎ শবে বরাত, লাইলাতুল ক্বদর/শবে ক্বদর, লাইলাতুল ঈদাইন/দুই ঈদের
রাত্রি ইত্যাদি) পালনে অভ্যস্ত করে তোলা।
) উম্মতে মুহম্মদীকে সকল বিদায়াত-বেশরা কাজ থেকে ফিরিয়ে সুন্নতের
আমলে অভ্যস্ত করা।
) ইহুদী-নাছারা তথা সকল বিধর্মী এবং উলামায়ে  ছুদের তথা দুনিয়াদার আলেমদের সমস্ত ঈমান বিধ্বংসী নীল নকশাকে মুসলমানদের কাছে ফাঁস
করে দেয়া। ইত্যাদি।

মুজাদ্দিদগণ প্রত্যেকেই উনাদের স্ব স্ব যামানার ইমাম মুজতাহিদ হন। আর
এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার যামানার
ইমামকে চিনলো না সে জাহিলিয়াতের মৃত্যূর ন্যায় মৃত্যূবরণ করলো। (মুসলিম
শরীফ, আক্বঈদে নাসায়ী) আর উনাদের বিরোধিতা প্রসঙ্গে হাদীসে কুদসী শরীফে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি কোন ওলীআল্লাহর সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে স্বয়ং আমি (আল্লাহ পাক) তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করি। (বুখারী শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, সাবধান! নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাকের ওলী তাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তা-পেরেশানীও নেই। (সূরা ইউনূছঃ ৬২)
সুতরাং যামানার ইমাম উনাকে চিনে উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়া ফরজ।
বিষয়টি অনুধাবণ করতে পারলেই প্রচলিত  বদ ও কুফরীমূলক আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কার মুলক আমল হতে খালিছ তওবা করে, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ছহীহ্  আক্বীদা সন্মানিত সুন্নত মুবারক উনার আমল সমুহে অভ্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মারিফাত হাছিল করা সম্ভব। কাজেই আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে যামানার ইমাম উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়ার তৌফিক দান করুন। (আমীন)


No comments:

Post a Comment