Time ****** KMT(+3.00)

মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম

নাম মুবারক:
খলীফাতুল্লাহখলীফাতু রসূলিল্লাহইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ ত্বরীক্বতইমামুল  আইম্মাহমুহইস সুন্নাহ,মাহিউল বিদ্য়াতকুতুবুল আলমমুজাদ্দিদে আযম,  হুজ্জাতুল ইসলামছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর,ক্বাইয়্যুমে আযমহাবীবুল্লাহগাউছুল যমক্বাবিউল আউয়ালইমামুল আযমআওলাদুর রসূল,সাইয়্যিদুনা হযরত  ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।

ঠিকানা:
আউটার সার্কুলার রোডরাজারবাগ শরীফঢাকা-১২১৭ বাংলাদেশ।

জন্মস্থান
ঢাকাবাংলাদেশ।

বংশ পরিচয়:
মুজাদ্দিদে আযম উনার মুবারক বংশ পরস্পর সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীনখাতামুন  নাবিয়্যীন,হাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পৃক্ত।  পিতা-মাতার  দিক  থেকে তিনি যথাক্রমে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ইমাম হুসাইন  রদ্বিয়াল্লাহু  তায়ালা আনহু উনার  সাথে যুক্ত।  কারণে তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে   সম্পর্কযুক্ত। রক্ত মুবারকের ধারাবাহিকতায় সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী  ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী। অর্থাৎ তিনি আওলাদুর রসূল


পথভ্রষ্ট  গোমরাহীতে নিমজ্জিত মানুষকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে সুলতানুল হিন্দ,গরীবে নেওয়াজ,হাবীবুল্লাহহযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতি রহমতুল্লাহি  আলাইহি  বিভিন্ন দেশ হিজরত  সফর শেষে আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক  ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সদয় নির্দেশে ছয়শত হিজরীর মাঝামাঝি   সময়ে আজমীর শরীফে তাশরীফ আনেন। তাঁরই অন্তরঙ্গ সঙ্গী  যামানায়  আল্লাহ পাকউনার খাছ  লক্ষ্যস  মাদারজাদ ওলীআওলাদুর রসূলহযরত  সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি  আলাইহিও আজমীর শরীফ  তাশরীফ আনেন। হিদায়েত দানের কাজে নিমগ্ন হয়ে তিনি আজমীর শরীফ থেকে  যান  এবং সেখানেই ইন্তিকাল করেন। তাঁর অধস সন্তান হযরত সাইয়্যিদমুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এগারশ’ হিজরীর শেধার্ধে হিদায়েতের  আলো নিয়ে আজমীর শরীফ থেকে চট্টগ্রাম এবং অতঃপর সোনারগাঁও হয়ে  বর্তমান  নারায়ণগঞ্জ জিলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী গ্রামে হিদায়েতের  কেন্দ্র গড়ে তোলেন।তাঁর পুত্র হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালা উদ্দীন রহমতুল্লাহি  আলাইহি।  তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলাহী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র  সাইয়্যিদ মুহম্মদ এলাহী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত সাইয়্যিদ মুহম্মদ  মুখলিছুর রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং তাঁরই পুত্র  মুজাদ্দিদে যম আলাইহিস সালাম।

পিতা-মাতা:
মুজাদ্দিদে যম উনার বুযূর্গ পিতামাতা উভয়েই আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী।  পিতা  ওলীয়ে মাদারজাদ, আফদ্বালুল ইবাদফখরুল আউলিয়ালিসানুল হক্ব,  মুসতাজাবুদ্ দাওয়াতছাহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ছাহিবে  ইসমে যম,  গরীবে নেওয়াজকুতুবুযযামানআওলাদুর রসূলহযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ

মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস খাছ ওলী। তিনি নায়িবে মুজাদ্দিদ,  কুতুবুল আলমআলহাজ্জহযরতুল আল্লামা  আবু  নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই  ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার বিশিষ্ট খলীফা।
ইলমআমল  কামিয়াবীঃ
সূক্ষ্ম মননশীলতাঅনাবিল অনুসাধিৎসামুরাকাবার নিবিষ্টতাগরিচ্ছন্ন ধ্যান ধারণাইলম অর্জনের  আকুলতাআল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লামউনার প্রতি মারিফাত  মুহব্বতের  অতলান্ত গভীরতা এবং মুজাদ্দিদে  আযমসুলভ মানসিকতা তিনি জন্ম সূত্রেই লাভ করেছেন। তিনি  আহলে সুন্নত  ওয়াল জামায়াত-উনার আক্বীদায় পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাসী। ইসলামবিরোধী পুঞ্জীভূত তমসা  দূর করে হিদায়েতের নূরে দুনিয়া আলোকিত করার জন্য আল্লাহ পাক উনার মাঝে সকল গুণ-বৈশিষ্ট্যের  সমাবেশ ঘটিয়েছেন। বিশ বছর  বয়স মুবারকের মধ্যেই তিনি কুরআন শরীফহাদীছ শরীফতাফসীরফিক্বাহ,  উছূলমানতিকবালাগাতফাছাহাতনাহুছরফসাহিত্য,কাব্য,ইতিহাসভূগোল,  দর্শনবিজ্ঞানসহ  ইসলামী ইলম-উনার সকল শাখায় অতুলনীয় ব্যুৎপত্তি অর্জন  করেন। মুজাদ্দিদে যমের জীবনের  আয়োজনইলমআমল  কামিয়াবীর পরিধি ব্যাপকতর। ইলমআমলসমঝ্  মুহব্বত মারিফাত নিজস্ব সম্পদ হওয়া  সত্ত্বেও  আল্লাহ পাক-উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় তিনি আত্মকেন্দ্রীক হতে পারেন না।  মুজাদ্দিদে যমের দায়িত্ব অপার। ইলমে তাছাউফ অর্জনের শরঈ কারণে তিনি কুতুবুল আলমআমীরুশ  শরীয়ত ওয়া রাহনুমায়ে তরীক্বতসুলতানুল আরিফীন, শাইখুল আসাতিযানাজমুল আউলিয়াজামিউল উলুমওয়াল হিকামমুহইস সুন্নাহমাহিউল বিদয়াত। লিসানুল উম্মতরঈসুল মুহাদ্দিছীনতাজুল মুফাসসিরীনফখরুল ফুক্বাহাআল্লামাতুল আইয়ামমুফতিউল যমআশিকু রসূলিল্লাহ  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামশাহ ছূফীআলহাজ্জ,হযরতুল আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ  ওয়াজীহুল্লাহ  নানুপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার নিকট বাইয়াত হয়ে প্রধান খলীফার মর্যাদালাভ  করেন এবং পরিপূর্ণ  কামিয়াবী হাছিল করেন।মুজাদ্দিদে যম কুরআন শরীফহাদীছ শরীফইজমা  ক্বিয়াসের পরিপূর্ণ  অনুসারী।  তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম  পুঙ্খানুপুঙ্ঘরূপে সুন্নতের অনুকরণ   অনুসরণ করেন। মুস্তাহাব  আমলও  তিনি কখনো তরক করেন না। তাঁর ইবাদতে মগ্নতা   ফিকিরের  গভীরতা যেনো গারে  হেরায়  সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীনরউফুর রহীমহাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম  কর্তৃক আল্লাহ পাককে অনুভবের মতো এক উদ্বেলিত  নিরন্তর মনোনিবেশ।

রাসূলে মকবুলহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে নিছবতঃ
মুজাদ্দিদে যম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খাছ নায়িব এবং তাঁর ক্বায়িম মক্বাম।
 তিনি সুন্নত যিন্দাকারী এবং বিদ্য়াত অপসারণকারী। অনুক্ষণ তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম-উনার মুহব্বতে নিমগ্ন। আচরণবিচরণকথাকাজসীরতছূরত  আমলের কোন কিছুতেই  তিনি সুন্নতের খিলাফ কিছু করেন না। দায়িমী নিছবতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার  সদয় ইহ্সান  নির্দেশেই আওলাদুর রসূলমজুাদ্দিদে যম আলাইহিস সালাম-উনার  তাজদীদসহ  যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়।


মুজাদ্দিদ কাকে বলা হয়
ইসলাম মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলাম আল্লাহ পাক-উনার মনোনীতনিয়ামত  সনষ্টিপ্রাপ্ত
পরিপূর্ণ এক দ্বীনি ব্যবস্থা। এতে মানুষকে হাক্বীক্বীভাবে প্রশিক্ষিত  নিবিষ্ট করার কাজে পৃথিবীতে
যুগে যুগে নিয়োজিত থাকেন ওয়ারাসাতুল আম্বিয়াগণ। আল্লাহ পাক-উনার মত এবং তাঁর প্রিয়তম
হাবীবহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রদর্শিত পথে যাঁরা আমরণ ইস্তিক্বামত থাকেন  এবং মানুষকে ইস্তিক্বামত করেনতাঁরাই ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া। অবুঝলক্ষ্যভ্রষ্ট ওবিপথগামী মানুষের  আক্বীদাঅনুভব  অনুসরণকে সুন্নতের বিধানে আল্লাহমুখী করে দেয়ার জন্য এমন মহান ব্যক্তিত্ব দুনিয়ায় সব সময়ই মওজুদ থাকেন।  মহান  আয়াসসাধ্য দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি শতাব্দীতেই  সংষ্কারকের আবির্ভাব ঘটে। এমন সংস্কারককে মুজাদ্দিদ বলা হয়। হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ  আল্লাহ পাক এই উম্মতের হিদায়েতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর প্রারম্ভে এমন এক ব্যক্তিত্ব পাঠিয়ে  থাকেনযিনি উম্মতের জন্য ইসলাম ধর্মের সংষ্কারসাধন করে থাকেন।

মুজাদ্দিদে যম কাকে বলা হয়
কুরআন
 শরীফহাদীছ শরীফইজমা  ক্বিয়াস বিরোধী ভ্রান্ত আক্বীদাআমল  আখলাক নির্মূলে  লক্ষ্যচ্যূত মানুষের ঈমান  আক্বীদা নবায়নসহ তাদেরকে সুন্নত পালনে অভ্যস্ত করে তোলার কাজে  নিয়োজিত ওলীগণকে মুজাদ্দিদে যম বলা হয়। সুন্নত অবলোপনে দুনিয়ালোভী আলিমদের ঘৃণ্য  কারসাজি যখন অব্যাহত থাকেদূর্বলের প্রতি তথাকথিত সবলের উৎপীড়নের মাত্রা যখন সীমা  লঙ্ঘন  করেইনসাফের বাণী যখন নিভৃতে কাঁদে, জালিমের অত্যাচারে মজলুম যখন অতিষ্ঠ হয়দুনিয়াদার  আলিমদের নেপথ্য যোগানদারিতে ইহুদী-নাছারাসহ তাবৎ বিধর্মীরা যখন মুসলমানের ঈমান   আক্বীদা বিনষ্টসহ সমূহ ক্ষতিসাধনে লিপ্ত থাকে এবং তাদের প্রিয় আবাসভূমি পর্যন্ত গ্রাস করতে উদ্যত হয়নিকৃষ্ট  বুদ্ধিজীবি উলামায়ে ছূরা যখন আপন স্বার্থ হাছিলে বিধর্মীদের কূটকৌশলে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়তখনই এসব থেকে পরিত্রানের জন্য একজন মুজাদ্দিদে যমের তাজদীদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে।  মুজাদ্দিদের কর্মপরিধি থেকে মুজাদ্দিদে যম-উনার কর্মপরিধি ব্যাপকতর। মুজাদ্দিদে যমের  প্রভাব বিশ্বব্যাপী।

পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে যম-উনার আগমন এবং তাজদীদের প্রকৃতি  পরিধিঃ
শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রমণে তাওহীদ  রিসালত পরিপন্থী ঈমানআক্বীদা  আমলে মানুষ  গোমরহীতে  নিমজ্জিত হয়। কালের প্রবাহে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত উপলব্ধিনৈতিক অবক্ষয়   বিরূপ জীবনাচরণের মধ্যে বিদ্য়াত-এর জন্ম হয় এবং সুন্নাহ  শরীয়ত বিরোধী কাজের প্রসার ঘটে।  ক্রমান্বয়ে মানুষ শিরক  কুফরীর তমসায় আচ্ছন্ন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে  এমন অবস্থাই  বিরাজমান। মহান আল্লাহ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীবহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লাম-উনার মত-পথের বিপরীত  সাংঘর্ষিক যাবতীয় আক্বীদাআমলআখলাক  রসম-রিওয়াজের  মূলোৎপাটন করে হাক্বীক্বী ইসলাম ধর্ম আবাদের অনূকুল ক্ষেত্র তৈরীর প্রয়োজনে আল্লাহ পাক-উনার  উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় এবং রউফুর রহীমরহমতুল্লিল আলামীনহাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম-উনার সদয় ইহ্সানে পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে যম-উনার প্রয়োজন অনিবার্য
হয়ে উঠে। রিসালতের ধারার ইসলামী রেনেসাঁ (তাজদীদএবং আধ্যাত্ম চিন্তা  ইলমে তাছাউফ- উনার সুষ্ঠু বিন্যাস  প্রয়োগে নিরন্তর নিয়োজিত থাকায় মুজাদ্দিদে যম-উনার মর্যাদা সমধিক।  দুনিয়ার প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে তাঁর তাজদীদের পরিধি ব্যাপক  ভিন্নতর।

পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে যম-উনার পরিচিতিঃ
বর্তমান প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে মানুষের পরিত্রানের জন্য আল্লাহ পাক-উনার মনোনীত এবং কুল  কায়িনাতের মুবারকবাদ সিক্ত খলীফাতুল্লাহখলীফাতু রসূলিল্লাহইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বতইমামুল আইম্মাহমুহ্ইস সুন্নাহমাহিউল বিদ্য়াতকুতুবুল আলম, হুজ্জাতুল ইসলামছাহিবু  সুলত্বানিন্ নাছীরক্বাইয়্যুমে যমহাবীবুল্লাহগাউছুল যম, ক্ববিউল আউয়ালইমামুল যমআওলাদুর রসূলসাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী  ওয়াল কুরাইশী মুজাদ্দিদে যম আলাইহিস সালামই হলেন পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদে।  তাঁর মর্যাদামরতবাশানমানইজ্জত  ঐতিহ্যের অত্যুঙ্গ সোপান কেবল আল্লাহ পাক  এবং রসূলে পাক  ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লামই সম্যক অবহিত। অগণিত লক্ববের মধ্যে তাঁর একটি মূল লক্বব হলো   মুজাদ্দিদে যম

তাজদীদের ক্ষেত্রঃ
মুজাদ্দিদে যমের তাজদীদের মূল লক্ষ্য  ক্ষেত্র কোন জনপদের ভৌগোলিক সীমানা অথবা অবকাঠামো নয়। লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরের নোংরা অনুভবঅনৈতিক আচরণ  শরীয়ত গর্হিত  কাজ। ইসলামী পরিভাষায় যার নাম ঈমানআক্বীদাইলমআমল  ইখলাছ। একটি সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডের  মধ্যে জনগণসরকার  সার্বভৌমত্বের সমন্বিত রূপকে রাষ্ট্র বলা হয়। ইসলাম এমন রাষ্ট্র সমর্থন করে না।  কারণইসলাম নির্দিষ্ট কোন সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় ইসলাম সার্বজনীন এবং উনার আবেদন  বিশ্বব্যাপী। ইসলামের কাজ হলোজগৎময় মানুষের অন্তরকে শাণিত করে তোলা এবং তাঁদের মন  মননে  কুরআন শরীফ  সুন্নাহ শরীফের সমন্বয়ে সৃষ্ট ইলমে তাছাউফের নির্যাস প্রবেশ করিয়ে দেয়া।  অর্থাৎ  মানুষকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং পৃথিবীব্যাপী “খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়া
প্রতিষ্ঠিত করা।  লক্ষ্যে মুজাদ্দিদে যম-উনার তাজদীদের ক্ষেত্র গোটা বিশ্বের সকল মানুষ। বিপন্ন   পথহারা  মানুষের হিদায়েতের জন্য তিনি বেমেছাল রূহানী কুওওয়ত সম্পন্ন আলোকবর্তিকা। অন্যসব ধর্ম   জাতিগোত্র,বর্ণ নির্বিশেষে অপামর মানুষের জন্যও তিনি মনোনীত হাদী। পরিপূর্ণরূপে  ইলমে ফিক্বাহ   ইলমে তাছাউফ অনুসরণে মানুষকে আল্লাহওয়ালা করে তোলা এবং জগৎব্যাপী ইনসানিয়াত  প্রতিষ্ঠায়  পঞ্চদশ শতকে তিনি আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার শ্রেষ্ঠতম উপহার।
আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আহকামের প্রতি জগৎব্যাপী মানুষের  অনীহাভ্রান্ত আক্বীদাসুন্নতের প্রতি অবজ্ঞা এবং ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে তিনি  বেদনাক্লিষ্ট হয়ে পড়েন।  বেদনাবোধই তাঁর অপ্রতিরোধ্য তাজদীদের ভিত্ রচনা করে।

তাজদীদের প্রণালীঃ
বিপর্যস্ত আক্বীদাকুফরী  নাস্তিকতার ঘোর দুর্দিনে আল্লাহ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার খাছ লক্ষ্যস মুজাদ্দিদে যম হাক্বীক্বী হিদায়েতের জন্য  বিশ্ববাসীকে  ডাক দিয়েছেন।  লক্ষ্যে তাঁর মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত মাসিকআল বাইয়্যিনাত”   দৈনিক “আল ইহ্সান” পত্রিকার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিশ্বময় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।  বাতিলের  মুখোশ উম্মোচন  বাতিলকে পর্যুদস্ত করে হক্ব মত-পথ প্রতিষ্ঠায়  দুটি পত্রিকার অমিয়  আহ্বানে  মানুষ দুনিয়াদার আলিমইসলামের শত্রু  বাতিলকে চিনতে  বুঝতে শিখ্ছে। মানুষের ইছলার  জন্য  এর  পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কিতাব রচনা করে ইসলামের হক্ব বক্তব্য তুলে  ধরছেন।  একইভাবে  সহজ-সরল এবং হৃদয়গ্রাহীভাব  ভাষায় নিয়মিতভাবে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ওয়াজ-নছীহত    তালীম তালক্বীন-উনার মাধ্যমে আপামর মানুষের মনে ইসলামী জয্বা সৃষ্টি করছেন। দেশ-বিদেশের  অগণিত মানুষ তাঁর মুরীদ হচ্ছে। অসংখ্য বিধর্মী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। তাঁর যিকির-ফিকিরের  তালীমে লক্ষ লক্ষ মুরীদের অন্তর ইছলাহ হচ্ছে। ইলমে তাছাউফে দীক্ষিত হয়ে অগণিত মানুষ  সত্যের  দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবলুপ্ত সুন্নত জিন্দায় মানুষকে হক্ব মত-পথে ফিরিয়ে আনতে তাঁর বিশ্বময়  অতুলনীয় অবদান ইতোমধ্যেই মানুষ জেনে ফেলেছে।


কতিপয় তাজদীদের বিষয়ঃ
মুজাদ্দিদে যমের তাজদীদের মূল বিষয় হলোকুরআন শরীফ  সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বদ্ আক্বীদাআমলঅন্যায়অবিচারের মূলোৎপাটন। ইসলাম বিরোধী যাবতীয় বিশ্বাস  কার্যকলাপই তাঁর তাজদীদের  ক্ষেত্র। দুনিয়ালোভী আলিমদের মনগড়া ফতওয়ার কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ সরাসরি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ বিরোধী আক্বীদা  আমলে লিপ্ত।মুজাদ্দিদে যম শরীয়তের মূল দলীলঅর্থাৎ  কুরআন  শরীফহাদীছ শরীফইজমা  ক্বিয়াসের ভিত্তিতে সঠিক আক্বীদা  আমল তুলে ধরছেন এবং ইসলাম  ধর্মে প্রবেশকৃত সকল কুফরী,  শিরক  বিদ্য়াত অপসারণের কাজে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন। 

কতিপয় হারাম  নাজায়িয বিষয়ের মূলোৎপানে মুজাদ্দিদে যম
বেপর্দা
ছবিগণতন্ত্রখেলাধুলানারী নেতৃত্বমুসলমানের মৌলবাদ দাবীব্লাসফেমী আইন,নবী-রসূল  আলাইহিস্সালামছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং আওলিয়ায়ে কিরামগণকে  দোষারোপ করাটিভিভিসিআরভিডিওহরতাললংমার্চজন্ম নিয়ন্ত্রণসুদ-ঘুষ, রোযা রেখে  ইনজেকশনইনহেলারস্যালাইন ইত্যাদি নেয়ামাযহাব মানাবিজাতীয়  বিধর্মী যাবতীয় আমল ইত্যাদি।

মুজাদ্দিদে যমের বিরোধিতাঃ
বলা হয়, “প্রত্যেক হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামঅর্থাৎ প্রকৃত হাদীর বিরোধিতার জন্য একজন ফিরাউন  অর্থাৎ একজন বিরোধী রয়েছে। তদ্রুপ প্রত্যেক ফিরাউনঅর্থাৎ গোমরাহকে হিদায়েতের জন্য একজন  হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম অর্থাৎ প্রকৃত হাদী থাকেন।” বাতিল পন্থীরা আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব  ওলীগণের  বিরোধিতায় লিপ্ত থাকে একথা নুতন নয়বিস্মিত হওয়ার মতোও নয়। কারণ ইহুদী-নাছারাদের  মনোনীত এজেন্ট দুনিয়াদার আলিমদের গোপন  প্রকাশ্য কারসাজি মুজাদ্দিদে যমের অপ্রতিরোধ্য  হিদায়েতের কারণে নিষ্প্রভ হয়। কায়েমী স্বার্থ রক্ষায় বাতিলপন্থীরা অন্যায়  দলীলবিহীন বিরোধিতায়  হক্ব মিটিয়ে ফেলার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকে। কিন্তু সবসময় হক্ব বিজয় হয় আর নাহক্ব নিশ্চিহ্ন হয়।   মর্মে আল্লাহ পাক বলেনׂতারা (বাতিলপন্থীরাচায় মুখের ফুৎকারে আল্লাহ পাক মনোনীত হাদীকে  মিটিয়ে দিতে। অথচ আল্লাহ পাক তাঁর হাদীকে অবশ্যই কামিয়াবী দান করবেন। যদিও কাফির বা  বাতিলপন্থীরা তা পছন্দ করে না।׃ (সূরা ছফ-এখানে যা ফিকিরের তা হলো, সুন্নত  আমলের অনেক  বিষয় ওলীআল্লাহগণের হিম্মত  অনুশীলনের পর্যায়ভুক্ত থাকে না। তবে মাহবুব ওলীগণের প্রত্যাশিত   অপ্রত্যাশিত অনেক সুন্নতের আমল আল্লাহ পাক-উনার অবারিত রহমত এবং রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সদয় ইহ্সানে পূর্ণতা পেয়ে যায়।  কারণে তাবলীগীওহাবীখারিজীদেওবন্দীরেযাখানীজামাতী, লা মাযহাবীসহ যাবতীয় বাতিল ফিরক্বাসমূহের নাহক্ব বিরোধিতা  ওলীআল্লাহ গণের কাম্য।এতে তাঁদের তাজদীদ পূর্ণতার পথে প্রবল গতিবেগ পায় এবং তাঁদের মানশানইজ্জতঐতিহ্যও মর্যাদা নিরন্তন বৃদ্ধি পায়। মুজাদ্দিদে যম আলাইহিস সালামউনার ক্ষেত্রে  হুবহু তাই ঘটেছে।


No comments:

Post a Comment