আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ্। বাংলাদেশ সম্পর্কে জানুন। এখানে রয়েছে ইসলামী বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাণ্ডার যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জানা অত্যাবশ্যক।***
যে কোন রোগের চিকিৎসা সেবা সহ অনলাইনে ফ্রি ডাক্তারের সাথে পরামর্শের সুযোগ ***
ডাঃ আহমদ ইমতিয়াজ ডি.এইচ.এম.এস, বি.এইচ.এম.সি (ঢাকা) মোবাইল - 01914440430 ই-মেইলঃ drahmadimtiaj@gmail.com ***

সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম

পবিত্র আয়াত শরীফ  ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই প্রমাণিত যেনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা অবশ্যই ঈমানদার  সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তিত্ব

পবিত্র কালামে পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وتقلبك فى الساجدين.
অর্থ: “আমি আপনাকে সিজদাকারী (তাওহীদপন্থীঈমানদার মুত্তাক্বীগণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করেছি।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
তাফসীরে মাদারিক শরীফ  জুমাল শরীফ উনাদের গ্রন্থকার  পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলেনএখানে আখিরী রসূলসাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীনখাতামুন নাবিইয়ীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুধু সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারাই নন বরং উনার সকল পূর্বপুরুষ  পূর্ব মহিলা উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার তাওহীদভুক্ত বলে ঘোষণা দেন। প্রকৃতপক্ষে উনার পূর্বপুরুষ  পূর্বমহিলা উনারা সকলেই খালিছ ঈমানদার  সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
 প্রসঙ্গে আখিরী রসূলনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لـم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات على ان جميع ابائه صلى الله عليه وسلم وامهاته صلى الله عليه وسلم الى حضرت ادم و حضرت حواء عليهما السلام ليس فيهم كافر.
অর্থ: “আমি সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক হতে পবিত্রা রেহেম শরীফ উনাদের মাঝে স্থানান্তরিত হয়েছি। আমার সকল পূর্বপুরুষ  পূর্বমহিলা আলাইহিমুস সালাম  আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম  হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম উনাদের পর্যন্ত যাঁরা অতীত হয়েছেনউনাদের কেউই কাফির ছিলেন না।” (নূরে মুহম্মদীমাওয়াহেব শরীফযারকানী শরীফ)
 পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফই প্রমাণ করে যেমহান আল্লাহ পাক উনার রসূলনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ  পূর্বমহিলা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নবী  রসূল। আর যারা নবী-রসূল ছিলেন না উনারা সকলেই ছিলেন উনাদের যুগের সব চাইতে শ্রেষ্ঠসম্ভ্রান্তমর্যাদাশীল  মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ  মকবুল বান্দা  বান্দিগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র পুরুষ  পবিত্রা মহিলাগণ উনাদের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায়  যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। চাই পিতা উনার দিক থেকে হোন কিংবা মাতা উনার দিক থেকে হোন উনাদের কেউই মুশরিক বা কাফির ছিলেন না। এমন কি উনাদের মধ্যে কেউ চারিত্রিক দোষেও দোষী ছিলেন না। প্রত্যেকেই পূতঃপবিত্র চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন।  প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা আছেلـم يلتق ابواى قط على سفاح.
অর্থ: “নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম  পূর্বমহিলা আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা কেউই চারিত্রিক দোষে দোষী ছিলেন না।” সুবহানাল্লাহ!
এর দ্বারা প্রমাণিত হয়নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষপূর্বমহিলাগণ উনারা শুধু ঈমানদারই ননবরং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাহবুব বান্দা-বান্দী উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ  পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যেনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি সর্বযুগে যুগশ্রেষ্ঠ বান্দা-বান্দী অর্থাৎ তাওহীদপন্থীসিজদাকারীঈমানদারমুত্তাক্বী  সচ্চরিত্রবান উনাদের মাধ্যম দিয়ে যমীনে তাশরীফ এনেছেন। তাহলে নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা কি করে কাফিরমুশরিক হতে পারেননাঊযুবিল্লাহ!
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যেনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দেহ মুবারক উনার সবকিছু পাক  তা গলধঃকরণ নাজাত হাছিলের কারণ হলেযাঁদের মাধ্যমে তিনি এসেছেন উনাদের দেহাবয়বের কি হুকুম হবে।  প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছেউহুদের ময়দানে কিছু হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক উনার ক্ষতস্থান হতে নির্গত রক্ত মুবারক যাতে যমীনে না পড়তে পারে সেজন্য উনারা তা চুষে চুষে পান করেছিলেন। এতদ্বশ্রবণে তিনি উনাদেরকে বললেনআপনাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে গেল। অর্থাৎ আপনারা নিশ্চিত জান্নাতী। এছাড়া যে সকল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারকে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন উনাদের ক্ষেত্রেও তিনি উক্ত সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
যেমনপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فقال عليه الصلاة والسلام من مس دمى لـم تصبه النار.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীনখাতামুন নাবিইয়ীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেনআমার নূরুন নাজাত মুবারক (রক্ত মুবারকযার রক্তের সাথে মিশেছেউনাকে জাহান্নামের আগুন কখনো স্পর্শ করবে না।” (আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ বিল মিনাহিল মুহম্মদিয়া লিল আল্লামাতিল কুসত্বলানী ২য় জিঃ ৪২৬পৃষ্ঠা)
এখন কথা হলোনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুন নাজাত মুবারক (রক্ত মুবারক), পবিত্র নূরুল গইব মুবারক (ইস্তিঞ্জা মুবারকস্বল্পকালীনস্বল্প পরিমাণ পান করার কারণে কোনো ব্যক্তির জন্য যদি জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় আর জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়তাহলে খোদ নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ সময় যাঁর বা যাঁদের পবিত্র রেহেম শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করলেন এবং এর পূর্বে যাঁর বা যাঁদের ললাট মুবারকে অবস্থান মুবারক করলেনঅর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম এবং সম্মানিত পিতা  মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা কি জান্নাতী হবেন নাঅবশ্য অবশ্যই উনারাই জান্নাতী। সুবহানাল্লাহএতে সামান্যতম সন্দেহ যে পোষণ করবে মূলত সেই জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্যসমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম  হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা ইজমা করেছেন যেযে মাটি নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক স্পর্শ করেছে তা পবিত্র আরশে আযীম উনার থেকেও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি মর্যাদাবান  সম্মানিত। সুবহানাল্লাহবিশ্বখ্যাত ফতওয়ার কিতাব ‘ফতওয়ায়ে শামী’ ৩য় -ের ‘যিয়ারত’ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-
ان التربة التى اتصلت الـى اعظم النبى صلى الله عليه و سلم افضل من الارض والسـماء حتـى الـعرش الـعظيم
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক- যে মাটি মুবারক বা যা কিছু স্পর্শ করেছে সে মাটি মুবারক উনার মর্যাদা যমীনআসমান এমনকি আরশে আযীম উনার থেকেও অনেক বেশি।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে পিতা-মাতা  পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা ধারণ করেছেন এবং যাঁদের শরীর মুবারক উনার স্পর্শ মুবারক ছিলেন উনাদের ফযীলত কত বেশি এবং উনারা কতটুকু সম্মানিত তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আর বেহেশতে উনাদের সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে দুনিয়াবাসী কোনো মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও  সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা অবশ্যই জান্নাতী

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক ঘোষণার বহুপূর্বে এবং হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে প্রায় পাঁচশত বছর পরে উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যাঁরা কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনার আমল পাননি, যাঁদের নিকট পবিত্র দ্বীন উনার দাওয়াত পৌঁছেনি এবং যাঁরা দুই জন হযরত নবী আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইন্তিকাল বা বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সময়টাকে বলা হয় ফিতরাত যুগ। কার আযাব হবে আর কার আযাব হবে না- প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا.
অর্থ: “হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করা ব্যতিরেকে আমি কাউকে শাস্তি দেই না।” (পবিত্র সূরা বনী ইসরাইল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
ولولا ان تصيبهم مصيبة بما قدمت ايديهم فيقولوا ربنا لولا ارسلت الينا رسولا فنتبع ايتك ونكون من الـمؤمنين.
অর্থ: “যারাফিতরাতযুগের উনাদের কৃতকর্মের জন্য যখনই কোনো মুছীবত আসত তখন তারা বলত, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কেনো কোন রসূল প্রেরণ করেননি, আমরা উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অনুসরণ করতাম এবং ঈমানদার হতাম।” (পবিত্র সূরা কাছাছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)
উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুশরিকদের নাবালক সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে বলেছেন, তারা জান্নাতবাসী। কেননা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ঘোষণানুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যাদের নিকট পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছেনি তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না (যদি তারা কুফরী শিরিকী না করে থাকে) (মাসালিকুল হুনাফা লিস সুয়ূতী)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের বিষয়টিও তদ্রƒপ। উনারা কোনো প্রকার কুফরী শিরকী করেননি। অর্থাৎ উনারা উভয়ে পবিত্র দ্বীনে হানীফ উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে কায়িম ছিলেন। উনারা কখনো তাওহীদবিরোধী কোনো আমল করেছেন এমন কোনো প্রমাণ মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে কেউই পেশ করতে পারবে না। বিষয়ে সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা একমত পোষণ করেছেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদুল বাশার, মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আফদ্বালুন নাস-আফদ্বলুন নিসা, মালিকাতুল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক পবিত্রতা মুবারক

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضرت طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَـمــِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَوْ أَدْرَكْتُ وَالِدَيَّ أَوْ أَحَدَهُمَا وَأَنَا فِىْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَرَأْتُ فِيْهَا بِفَاتِحـَةِ الْكِتَابِ تُنَادِىْ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ
অর্থ: ‘হযরত ত্বলক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি আমি আমার ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে তথা আমার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং আমার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের দুজনকে অথবা উনাদের দুজনের একজনকে দুনিয়ার যমীনে পেতাম অর্থাৎ উনারা যদি সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ না করতেন, আর আমি যদি সম্মানিত ইশা উনার নামায (ফরয নামায) মুবারক- দাঁড়াতাম এবং সম্মানিত সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। আর এমতাবস্থায় উনারা আমাকে এই বলে আহ্বান করতেন, হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক- সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজন আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক- উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
অপর বর্ণনায় এসেছে-
لَوْ دَعَانِىْ وَالِدَيَّ اَوْ اَحَدُهُمَا وَاَنَا فِى الصَّلَاةِ لَاَجَبْتُهٗ
অর্থ: ‘যদি আমার ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা তথা আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দুজন অথবা উনাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে এই আবস্থায় আহ্বান করতেন যে, তখন আমি সম্মানিত নামায (ফরয নামায) মুবারক আদায় করতেছি, তাহলে আমি অবশ্য অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক- সাড়া দিতাম। সুবহানাল্লাহ!’ (শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ /৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, কাশফুল খফা /১৬০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ /৫৫১, কানযুল উম্মাল ১৬/৪৭০, জামউল জাওয়ামি১৬৮/১৩, মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিস সুয়ূত্বী ৩৭ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)
স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে কায়িনাতবাসীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম তথা উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান, মালিকুল জান্নাহ, আবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং পবিত্রতা মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ!
যেখানে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা বেকারার-পেরেশান কিভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া যায়, কিভাবে উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক উনার ধুলো মুবারক নেয়া যায়, আর সেখানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন, যদি উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করতেন আর উনারা উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত নামায মুবারক পড়া অবস্থায় আহ্বান মুবারক করতেন, তাহলে স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে উনাদের সম্মানিত আহ্বান মুবারক- সাড়া দিতেন এবং বলতেন, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজন আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক- উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
তাহলে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান এবং পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি কত বেমেছাল, সেটা কি কায়িনাতের কেউ কখনো চিন্তা-ফিকির করে মিলাতে পারবে? কস্মিনকালেও নয়। সুবহানাল্লাহ!’
সেটাই মুজাদ্দিদে যম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আসসাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি স্পষ্টভাবে সমস্ত বিশ্ববাসীকে, সমস্ত কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এক কথা মুবারক- উনারা শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছে সমস্ত কিছুর অধিকারী উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু জান্নাতীই নন; বরং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিক। সম্মানিত জান্নাত মুবারক উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন কখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক- দয়া করে প্রবেশ করবেন। উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক- প্রবেশ করলেই সম্মানিত জান্নাত মুবারক ধন্য হয়ে যাবেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার নামকরণের বিষয়টি স্বার্থক হবে। সুবহানাল্লাহ! মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টিই করেছেন, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, যারা বলতে চায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ঈমনদার ছিলেন না। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! উনারা জান্নাতী নন; জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তারা কি বলতে পারবে যে, শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে, উনার সৃষ্টি জগতে এমন কেউ আছে কি, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত নামায মুবারক- থাকা অবস্থায় আহ্বান করার দুঃসাহস দেখাবে আর সেই আহ্বানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে সাড়া দিবেন? নাঊযুবিল্লাহ! কস্মিনকালেও নয়। বরং যে এটা চিন্তা-ফিকির করবে সেও কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন, যদি উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করতেন আর উনারা উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামায মুবারক পড়া অবস্থায় আহ্বান করতেন, তাহলে স্বয়ং যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নামায মুবারক ছেড়ে দিয়ে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে উনাদের আহ্বান মুবারকে সাড়া দিতেন এবং বলতেন, লাব্বাইক, হে আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, হে সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক- উপস্থিত, হাযির। সুবহানাল্লাহ!’
তাহলে কি এখান থেকে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে গেল না যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা শুধু ঈমনাদারই নন; বরং উনাদের মাক্বাম, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরে, সমস্ত কায়িনাতবাসীর ঊর্ধ্বে। আর উনারা শুধু সম্মানিত জান্নাতীই নন; বরং উনারা হচ্ছেন সম্মানিত জান্নাত উনার মালিক? সুবহানাল্লাহ! অবশ্যইÑ এখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে সে কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত যারা বলবে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ঈমানদার ছিলেন না; নাউযুবিল্লাহ! বরং উনারা ঈমান ব্যতীত সম্মানিতা বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন নাউযুবিল্লাহ! এবং উনারা জান্নাতী নন; নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চিরমালঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবী করে তাহলে তাদের প্রতি মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে। আর যদি কাফির হয় তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। যার পরিণতি চির লানত চিরজাহান্নাম। তারা ইবলীসের ন্যায়; ইবলীসের চেয়েও চরম মালঊন। তাদেরকে লানাতুল্লাহি আলাইহি বলতে হবে।
এই প্রসঙ্গে দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবআল হাওই লিল শরীফ উনার ২য় -ের ৮১ পৃষ্ঠায় এবং মাসালিকুল হুনাফা উনার ৩৬ পৃষ্ঠায়, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবসুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম -ের ২৬০ পৃষ্ঠায়, ইমাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ১০৯৮ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবগমযু উয়ূনিল বাছায়ির ফী শরহিল আশবাহি ওয়ান নাযায়ির উনার ৫ম -ের ৪৯২ পৃষ্ঠায়, হযরত ইমাম ইবনে আবিদীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ১২৫২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবআল উকুদুদ দুররিয়্যাহ উনার ৭ম - ৪২২ পৃষ্ঠায়উল্লেখ করেছেন,
وَسُئِلَ حَضْرَتْ اَلْقَاضِىُ اَبُوْ بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِىّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَحَدُ اَئِمَّةِ الْمَالِكِيَّةِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ اِنَّ اَبَا النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى النَّارِ فَاَجَابَ بِاَنَّ مَنْ قَالَ ذٰلِكَ فَهُوَ مَلْعُوْنٌ لِقَوْلِهٖ تَعَالٰى: {اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِى الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ} [الأحزاب: ۵۷] قَالَ: وَلَا اَذًى أَعْظَمُ مِنْ اَنْ يُقَالَ عَنْ اَبِيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّهٗ فِى النَّارِ.
অর্থ: ‘হযরত ক্বাযী আবূ বকর ইবনুল আরবী তিনি ছিলেন মালিকী মাযহাব উনার একজন বিশ্বখ্যাত ইমাম। উনাকে সুওয়াল করা হয়েছিলো এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে, যে বলে থাকে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! অতঃপর জবাবে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এই কথা বলবে নিশ্চয়ই সে মালঊন, তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লানত। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দেয় তাদের উপর স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া এবং আখিরাতে তথা আবাদুল আবাদের তরে লানত বর্ষণ করেছেন।’ (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৭)
অতঃপর তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে জাহান্নামীবলাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সবচেয়ে বড় কষ্ট দেয়া। উনাদের জন্য এর চেয়ে আর কোনো বড় কষ্ট হতে পারে না।
ইমাম আবূ মুহম্মদ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহম্মদ হাম্বলী মুক্বাদ্দাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ইবনে কুদামাহ হিসেবে প্রসিদ্ধ তিনি (বিছাল শরীফ : ৬২০ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবআল মুগনী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল শায়বানী উনার ২০তম -ের ১৬৯ পৃষ্ঠায়উল্লেখ করেন,
وَمَنْ قَذَفَ اُمَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ مُسْلِمًا كَانَ اَوْ كَافِرًا يَعْنِىْ اَنَّ حَدَّهُ الْقَتْلُ وَلَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهٗ نَصَّ عَلَيْهِ حَضْرَتْ اَحْمَدُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ.
অর্থ : ‘আর যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক- অপবাদ দিবে, উনার প্রতি দোষারোপ করবে, উনার দুর্নাম করবে (তিনি ঈমানদার ছিলেন না, নাউযুবিল্লাহ! তিনি ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন নাউযুবিল্লাহ! এবং তিনি জাহান্নামী নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!) সে নামধারী মুসলমান হোক অথবা কাফির হোক তাকে কতল করতে হবে। অর্থাৎ নিশ্চয়ই তার হদ হচ্ছে কতল। তাকে কতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। তার তাওবা কবূল হবে না। (অবশ্যই সে চিরজাহান্নামী, চিরমালঊন হবে) আর এই সম্মানিত ফতওয়া মুবারক উনার উপর সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম তৃতীয় হিজরী শতক উনার মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছ তথা সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।’ (আল মুগনী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল শায়বানী ২০ - ১৬৯ পৃষ্ঠা)
দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবমাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৩৭ পৃষ্ঠায় এবং অপর বিশ্বখ্যাত কিতাবআল হাওই উনার ২য় - ২৮০ পৃষ্ঠায়’, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাবসুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম -ের ২৬১ পৃষ্ঠায়’, ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাততারীখুল ইসলামউনার ৭ম -ের ৯৮ পৃষ্ঠায়উল্লেখ করেন,
حَضْرَتْ نَوْفَلُ بْنُ الْفُرَاتِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَكَانَ عَامِلًا لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ رَجُلٌ مّـِنْ كُتَّابِ الشَّامِ مَأْمُوْنًا عِنْدَهُمُ اسْتَعْمَلَ رَجُلًا عَلٰى كُورَةِ الشَّامِ وَكَانَ أَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ فَبَلَغَ ذٰلِكَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلٰى اَنْ تَسْتَعْمِلَ رَجُلًا عَلٰى كُوْرَةٍ مّـِنْ كُوَرِ الْمُسْلِمِيْنَ كَانَ أَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ؟ قَالَ أَصْلَحَ اللهُ أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَمَا عَلَيَّ! كَانَ أَبُو النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْرِكًا وَفِىْ رواية وَمَا يَضُرُّهٗ ذٰلِكَ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ قَدْ كَانَ أَبُو النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِرًا فَمَا ضَرَّهٗ فَغَضِبَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ غَضَبًا شَدِيْدًا فَقَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ: اٰهٍ ثُمَّ سَكَتَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهٗ فَقَالَ أَأَقْطَعُ لِسَانَهٗ؟ أَأَقْطَعُ يَدَهٗ وَرِجْلَهٗ؟ أَأَضْرِبَ عُنُقَهٗ؟ ثُمَّ قَالَ لَا تَلِىْ لِىْ شَيْئًا مَّا بَقِيْتُ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى فَقَالَ جَعَلْتَ هٰذَا مَثَلًا فَعَزَلَهٗ.
অর্থ: ‘হযরত নওফিল ইবনে ফুরাত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ৮ম খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একজন বিশিষ্ট আমিল। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার মসনদ মুবারক- অধিষ্ঠিত, ওই সময় শাম দেশের একজন কাতিব ছিলো। সে উমাইদের নিকট অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলো। সে শাম দেশের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিলো, যার পিতা ছিলো জিন্দীকের অভিযোগে অভিযুক্ত। এই সংবাদটি যখন আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমত মুবারক- পেশ করা হলো, তখন তিনি সেই কাতিবকে আহ্বান করলেন এবং বললেন, তোমার ধারণা কি, তোমার কি হলো যে, সম্মানিত মুসলমান উনাদের এলাকাসমূহের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিয়েছো, যার পিতা জিন্দিকের অভিযোগে অভিযুক্ত? সে বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমীরুল মুমিনীন উনাকে ইছলাহ হাদিয়া করুন, এতে আমার দোষ কী! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনিতো মুশরিক ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! অন্য বর্ণনায় এসেছে, তখন ওই ব্যক্তি বললো, আমি যাকে কাজে নিয়োগ দিয়েছি (তার পিতা জিন্দিক) তাতে তার সমস্যা কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনিতো কাফির ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! এতেতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোনো ক্ষতি হয়নি। নাঊযুবিল্লাহ! এই কথা শুনে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত কঠিনভাবে রেগে গেলেন, তার প্রতি কঠিন অসন্তুষ্ট হলেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হায়! অতঃপর তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। (তিনি হতবম্ভ হয়ে গেলেন, স্তবদ্ধ হয়ে গেলেন।) তারপর তিনি মাথা মুবারক উত্তোলন করে বললেন, আমি কি তার জিহ্বা কেটে দিবো না? আমি কি তার হাত পা কেটে দিবো না? আমি তার ঘাড়ে প্রহার করবো না, তার গর্দান উড়েয়ে দিবো না? অতঃপর তিনি তাকে বললেন, আমি যতদিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান করবো, তুমি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে কোনো কাজ করতে পারবে না। অপর বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এই দৃষ্টান্ত দিচ্ছো, এটা বলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে সাথে সাথে বরখাস্ত করে দিলেন।’ (ইবনে আসাকির, আল ওয়াফী বিল ওফাইয়াত /১২৬, যম্মুল কালাম আহলুহু /৩৩ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা পূর্ব থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব মাহবুব ছিলেন

আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে অনেকেই হক্ব তালাশী ছিলেন। উক্ত আহলে কিতাব উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ليسوا سواء من اهل الكتاب امة قائمة يتلون ايت الله اناء اليل وهم يسجدون.
অর্থ: “উনারা সবাই সমান নন। আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছেন যাঁরা রাতের একাংশে অবিচলভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং পবিত্র সিজদাহ করেন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৩)
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে যমীনে তাশরীফ আনয়ন করার পূর্বে উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম এবং উনার সকল পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম পূর্ব মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছাড়াও আরো অনেকেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করতেন এবং উনারা সত্য পথের উপর অর্থাৎ পবিত্র দ্বীনে হানীফ উনার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে সকল মানুষই মুশরিক ছিলো দাবি আদৌ সত্য নয়। কারণ বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথমাংশ স্পষ্টতই প্রমাণ বহন করছে যে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আগমন পূর্ব সময়ে সকল মানুষ এক সমান ছিল না।
তিবরানী শরীফউনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণ মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং উনারা পাক-নাপাকীতেও বিশ্বাসী ছিলেন। যদি উনাদের মধ্যে কারো নাপাক স্পর্শ করতো, তাহলে অযু-গোসল করে পবিত্র হতেন, এমনকি উনারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীনে বিশ্বাসী হয়ে আমল করতেন। উনাদের নাম মুবারক হলেন- () সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম, () সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম, () হযরত আসওয়াদ বিন সারারা বিন মাইরুর আনছারী, () হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামা () হযরত আবূ কাইস বিন সারমা প্রমুখ। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম সাইয়্যিদুল কাওনাইন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফে অবস্থানকালীন সময় উনার সাথে জলীলুল ক্বদর হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে স্বপ্নে কথোপকথনের বর্ণনা


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের একজনের উপর অপরজনকে প্রধান্য দিয়েছি।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-২৫৩)
অন্যত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি আপনাদেরকে কিতাব হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে প্রদত্ত কিতাবকে সত্য বলে প্রতিপাদনকারী হিসেবে একজন রসূল অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগমন করবেন। আপনারা উনার প্রতি ঈমান আনবেন এবং উনাকে পেলে খিদমত করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি অঙ্গীকার স্বীকার গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, হ্যাঁ- আমরা স্বীকার করে নিলাম। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-৮১)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ সম্পর্কে আল্লামা সুবুকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আগত হযরত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে এবং এমন কোন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা অতিবাহিত হননি যাঁদের কাছ থেকে উনার সম্পর্কে অঙ্গীকার নেয়া হয়নি।
মূলত, কোনো হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি এবং কোনো হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি যতক্ষণ না উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র ঈমান না এনেছেন অর্থাৎ উনারা সকলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় আর্বিভাবের পূর্বেই উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে ধারাবাহিকভাবে মুবারক স্বপ্নে সে সুসংবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
এখন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম জবানী মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক উনার বার্তা সম্পর্কে অন্যান্য হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তা শুনব।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, যখন আমি আমার প্রাণপ্রিয় কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র রেহেম শরীফে ধারণ করলাম, ধারণ করার প্রথম মাস হলো পবিত্র রজবুল আছাম। সে মাস উনার মধ্যে একসময় আমি একরাত্রে স্বপ্নের আবেশে ছিলাম। তখন আমার কক্ষে প্রবেশ করলেন এক ব্যক্তি যিনি ছিলেন লাবন্যময় চেহারা বিশিষ্ট সুঘ্রাণে ভরপুর এবং আলোকোজ্জ্বল। তিনি বলছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকে স্বাগতম। আমি (হযরত হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে প্রশ্ন করলাম: আপনি কে? তিনি বললেন, আমি মানব জাতির পিতা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি মূলত, রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন যিনি রবিয়া মুদার গোত্রের ফখর (গৌরবের কারণ) যিনি সাইয়্যিদুল বাশার।সুবহানাল্লাহ!
যখন দ্বিতীয় মাস (পবিত্র শাবান শরীফ) সমাগত হলো- তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত শীছ আলাইহিস সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন, যিনি রহস্যের উন্মোচনকারী উনাকে এবং ছহিবে হাদীছ শরীফ।সুবহানাল্লাহ!
তৃতীয় মাস (পবিত্র রমাদ্বান শরীফ) যখন আগমন করলো তখন আমার নিকট এলেন (স্বপ্নে) এক ব্যক্তি। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া নাবিআল্লাহ! আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত ইদরীস আলাইহিস সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিনি সাইয়্যিদ উনাকে পবিত্র রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন।সুবহানাল্লাহ!
চতুর্থ মাস (পবিত্র শাওওয়াল শরীফ) যখন আগমন করলো তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। নিশ্চয় আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন যিনি সাহায্য বিজয়ের ছাহিব বা অধিকারী।সুবহানাল্লাহ!
পঞ্চম মাস (পবিত্র যিলক্বদ শরীফ) যখন আগমন করলো তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া ছফওয়াতাল্লাহ! হে মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন! আপনার প্রতি সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত হূদ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন প্রতিশ্রুত দিবসের (হাশরের দিনের) শাফায়াতে উজমার যিনি অধিকারী বা মালিক হবেন উনাকে।
ষষ্ঠ মাস (পবিত্র যিলহজ্জ্ব শরীফ) যখন আগমন করলো তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া রহমাতাল্লাহ্! হে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত, আপনার প্রতি সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন মহাসম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।
সপ্তম মাস (পবিত্র মহররমুল হারাম শরীফ) যখন আগমন করলো তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত রসূল, আপনার প্রতি সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম। আমি বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন সবিশেষ লাবণ্যময় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।
অষ্টম মাস (পবিত্র মাহে ছফর শরীফ) যখন আগমন করলো তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন। তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকা ইয়া খইরাতাল্লাহ্! হে মহান আল্লাহ পাক উনার সমূহ কল্যাণ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত মূসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম! আমি বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন যার উপর পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হবে উনাকে।
যখন নবম মাস (পবিত্র রবিউল আউওয়াল শরীফ) আগমন করলো, তখন এক ব্যক্তি আমার নিকট আগমণ করলেন। তিনি বললেন, ইয়া খাতামা রুসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার আগমন নিকটবর্তী ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহাস সালাম। আমি (হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম) বললাম, আপনার অভিপ্রায় কি? তিনি বললেন, হে হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আপনি রেহেম শরীফে ধারণ করেছেন মহাসম্মানিত নবী মহিমান্বিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। আপনার থেকে দূর হয়ে গেল দুঃখ, কষ্ট-রোগ-যন্ত্রণা। (আন নিমাতুল কুবরা আলাল আলাম, ইবনে হাজার হায়ছামী)

No comments:

Post a Comment