Time ****** KMT(+3.00)

নামাজের সময়সূচী ও মাসয়ালা মাসায়েল

নামাজের সময়সূচী, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা




ওয়াক্তশুরুশেষ
সাহরীর শেষ সময়-০৪:২৫
ফজর০৪:৩০০৫:৪৩
ইশরাক০৬:০৭০৯:৩৩
চাশত্০৯:৩৪১০:৫৩
জাওয়াল১১:৫৪যোহর নামায পড়ার
পূর্ব পর্যন্ত
যোহর১১:৫৪০৪:১৮
আছর০৪:১৯০৫:৪৩
মাগরিব০৬:০৭০৭:১৭
আওয়াবীনবাদ মাগরিব০৭:১৭
ইশা০৭:১৮০৪:২৫
তাহাজ্জুদ১১:১৬০৪:২৫
আগামীকাল ফজর০৪:৩১০৫:৪৩
আগামীকাল সূর্যোদয়০৫:৪৪-
আজ সূর্যোদয়০৫:৪৪-
আজ সূর্যাস্ত০৬:০৪-

মহান
আল্রাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই নামায নির্দিষ্ট সময়ে পড়া মুমিনের উপর ফরয করা হয়েছে

নামাজ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার স্তম্ভ বা খূঁটি। প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমান নর ও নারীর জন্য অত্যাবশ্যক।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে.“নামাজ বেহেস্থের চাবি।” অন্যত্র হাদীষ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,“নামাজ মানুষকে অশ্লীল কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে।”
আর তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ কোন প্রকার গাফলতি না করে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে নামাজ সমূহ আদায় করতঃ মহান আল্রাহ পাক ও উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তষ্টি রেযামন্দি হাছিল করা।
ফজরের নামাজ
সুবহি সাদিক হতে শুরু করে সর্যাদয়ের পূর্বে মূহুর্ত পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত থাকে।
ফজরের নামাজ রাকয়াত। যথা:-
     ১) ২ রাকায়াত সুন্নত
     ২) ২ বাকায়াত ফরজ

ফজরের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল ফাজরি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।


ফজরের ২ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল ফাজরি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

জামায়াতের ক্ষেত্রে
ইমাম সাহেব, মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার। পাঠ করার পূর্বে আলা ইমামুল্লিমান হাজার ও মাইয়্যাফজরুন পাঠ করবেন।

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল ফাজরি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা আলা ইমামুল্লিমান হাজার ও মাইয়্যাফজরুন মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

অপরদিকে, মুক্তাদি অর্থাৎ সাধারণ মুসল্রিগণ যার ইমাম সাহেবের পিছনে ইক্তিদা করছেন তারা, মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার। পাঠ করার পূর্বে ইক্বতাদাইতু বি হ-যাল ইমাম পাঠ করবেন।

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল ফাজরি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা ইক্বতাদায়িতু বি হা-যাল ইমাম মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

ফজরের উক্ত দুই রাকায়াত সুন্নত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্বাদা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবীয়্যিন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্রাহ হুজুর পাক ছল্রাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্রাম কখনও ছেড়ে দেননি।

সুতরাং আল্রাহ পাক না করুন যদি কেউ অসুস্থতার কারণে কিংবা অন্য কোন কারণে ঘুম খেকে সজাগ হয়ে দেখলেন যে ফজরের ওয়াক্ত পার হয়ে গেছে তবে সর্যাদয়ের ২৩ মিনিট পর ক্বাযা আদায় করে নিবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে দুই রাকায়াত সুন্নত, অতঃপর দুই রাকায়াত ফরজ নামাজের ক্বাযা আদায় করতে হবে।

ক্বাযা নামাজ আাদায়ের নিয়তে
ক্বাযা নামাজ আাদায়ের নিয়তে মনে মনে ক্বাযা নামাজ আদায় করছেন এরকম ধারণা থাকতে হবে।
নিয়ত জানা থাকলে নিয়ত করে নেওয়াটাই উত্তম। এক্ষেত্রে, ফউতি শব্দটি যোগ করে ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা   বললেই নিয়ত শুদ্ধ হবে। ফউতি না বলে ক্বাযায়ি কেউ কেউ বলে থাকেন। এছাড়া বাংলায় এভাবে নিয়ত করলেও চলবে।

আমি ফজরের দুই রাকাআত ক্বাযাকৃত ফরজ নামাজ ক্বিবলামুখী হয়ে আদায় করিতেছি আল্লাহু আকবার।

অথবা

আমি ফজরের দুরাকায়াত বা জোহর, আছর, এশার চার রাকায়াত বা মাগরিব, বিতর তিন রাকায়াত ফরজ/ওয়াজিব নামায ক্বিবলামুখী হয়ে কাজ্বা আদায় করতেছি, আল্লাহু আকবার
    
আর যদি পিছনের অনেক দিনের অনেক ক্বাযা নামাজ থাকে তাহলে, যে ওয়াক্তের নামাজ আদায় করছেন সেই মোতাবেক নিয়ত করুন। তবে, ধরে নিন এটা আপনার জীবনের প্রথম অথবা জীবনের শেষ ক্বাযা নামাজ। যদি জীবনের প্রথম ধরে, শুরু করেন তাহলে এভাবে আদায় করতে করতে এক সময় যত ক্বাযাই থাকুক না কেন তা শেষ হয়ে যাবে। একই ভাবে, জীবনের শেষ ক্বাযা নামাজ ধরে নিয়ে আদায় করতে থাকলেও ধীরে ধীরে ক্বাযাকৃত প্রথম ক্বাযা নামাজটিও একদিন আদায় হয়ে যাবে। এক সময় দেখবেন মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে আর কোন ক্বাযা নামাজ অবশিষ্ট নেই।

ক্বাযা নামাজের ক্ষেত্রে হিসেব রাখুন। ধরুন, আপনার তিন বছরের নামাজ ক্বাযা রয়েছে। আপনি ওয়াক্তিয়া নামাজের আগে পরে প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তেই এক ওয়াক্তের ক্বাযা আদায় করতে পারেন। তবে ই’শার ক্বাযা আদায়ের সাথে সাথে বিতরের ক্বাযা নামাজও আদায় করতে হয়। কেননা বিতর নামাজ ওয়জিব।  
তাহলে খুব সহজেই তিন বছরের ক্বাযা নামাজ পরবর্তী তিন বছরে আদায় হয়ে যাবে।

এছাড়া অন্যভাবেও ক্বাযা নামাজ আদায় করা যেতে পারে। অবসর মূহুর্তে বা রাত্রিতে তাহাজ্জুদের সময় এক বা একাধিক দিনের ক্বাযা নামাজ আদায় করা যেতে পারে। তবে একাধিক দিনের নামাজ একদিনে আদায় করলে খুব যত্ন করে হিসেব রাখতে হবে। অন্যথায়, হিসেব এলোমেলো হয়ে আপনি বিভ্রন্তিতে পড়তে পারেন।  

আসলে শুরু করা্টাই বড় কথা। একদিকে শয়তান অপরদিকে নফস আপনাকে অনবরত নেক কাজে বাঁধা দিচ্ছে। মনে রাখবেন, ওদেরকে উপেক্ষা করতে পারলেই আপনি কামিয়াব। তাছাড়া ক্বাযা নামাজ, রোযা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আপনার ঋণ। খালিশ তাওবা করে স্বীয় ঋণ পরিশোধে গাফলতি না করে এক্ষুণি ততপর হউন। মনে রাখবেন, চেষ্টা বান্দার তরফ থেকে, আর আল্রাহ পাক তা পুরা করবেন। মহান আল্রাহ পাক আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন।     

যোহরের নামাজ
সর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে একটু হেলে পড়লেই যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয এবং মাটিতে খাড়াভাবে পুতে রাখা লাঠির ছায়া দ্বিগুণ পরিমান হলেই যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়।
যোহরের নামাজ ১২ রাকয়াত। যথা:-
     ১) ৪ রাকায়াত সুন্নত
     ২) ৪ বাকায়াত ফরজ
     ৩) ২ রাকায়াত সুন্নত
     ৪) ২ রাকায়াত নফল

যোহরের ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিজ যুহরি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।


যোহরের ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিজ যুহরি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।


যোহরের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিজ যুহরি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল নাফলি মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

তবে, নাফলি এর পরিবর্তে সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা বলা অধিক ফজিলতের কারণ। কেননা, নফলের চেয়ে সুন্নতের মর্যাদা অধিক।তাছাড়া সকল নফল ইবাদতই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুকরণ করেই করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বলতে হবে

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।


জুমুয়ার নামাজ
ইয়াওমাল জুমুয়াতি অর্থাৎ শুক্রবার দিন য়োহরের নামাজের ওয়াক্তই জুমুয়ার নামাজের ওয়াক্ত। তবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্রাহ হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওযা সাল্রাম জুমুয়ার নামাজ সাধারণত যোহর নামাজ অপেক্ষা প্রায় ১ থেকে সোয়া ১ ঘন্টা দেরীতে আদায় করেছেন। কাজেই জুমুয়ার নামাজ কিছুটা দেরীতে আদায় করাই খাছ সুন্নত।
ঐদিন যোহর নামাজের পরিবর্তে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব এবং অতঃপর ২ রাকায়াত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয় যা কেবলমাত্র জামায়াতের সহিত আদায়যেগ্য কোনক্রমেই একা একা পড়া যাবে না। এছাড়া যোহরের নামাজের ন্যায় জুমুয়ার নামাজের আগে ও পরে কিছু সুন্নত নামাজ রয়েছে যা সুন্নতি মুয়াক্কাদা অর্থাৎ ছেড়ে দেওয়া য়াবে না, ছেড়ে দিলে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।

জুমুয়ার নামাজ ১২ রাকায়াত| যথা:-
১) ৪ রাকায়াত ক্বাবলাল জুমুয়া (সুন্নতি মুযাক্কাদা)
২) ২ রাকায়াত ফরজ
৩) ৪ রাকায়াত বাদাল জুমুয়া (সুন্নতি মুযাক্কাদা)
৪) ২ রাকায়াত সুন্নাতুল ওয়াক্ত (সুন্নতি মুযাক্কাদা)

৪ রাকায়াত ক্বাবলাল জুমুয়ার নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল ক্বাবলাল জুমুয়া সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

জুমুয়ার ২ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসকিত্তা আন জুম্মাতি ফরদ্বো যহরী বি আদায়ি রাকাতাই ছলাতিল জুমুয়াতি ফারদ্বুল্রা-হি তায়ালা ইক্বতাদাইতু বি হা-যাল ইমাম মুতাওয়াজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্লহু আকবার। 

৪ রাকায়াত বাদাল জুমুয়ার নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল বদাল জুমুয়া সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

২ রাকায়াত সুন্নাতি ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি ওযাক্ত সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

এছাড়া মসজিদে প্রবেশ করে ২ বাকায়াত তাহিয়্যাতুল অজু ও ২ রাকায়াত দুখলুল মাসজিদ। সুন্নত নামাজের নিয়তে আদায় করা বিশেষ ফজিলতের কারণ। যা সময় ও সুযোগ থাকলে যে কোন দিন বা যে কোন সময় মসজিদে প্রবেশ করে আদায় করা যেতে পারে।

তাহিয়্যাতুল ওজু নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল তাহিয়্যাতুল ওজু সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

দুখলুল মসজিদ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল দুখলুল মাসজিদ সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।
বি.দ্রঃ আল্লাহ পাক না করুন কোন বিশেষ কারণে কেউ জুমুয়ার জামায়াত না পেলে একা একা যোহরের নামাজ আদায় করে নিবেন। তবে ছলাতুল জুমুয়ার পরিবর্তে ঐ ওয়াক্তের যোহরের নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা যাবে না।

আছরের নামাজ
মাটিতে খাড়াভাবে পুতে রাখা লাঠির ছায়া দ্বিগুণ পরিমান হলেই আছরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের ২৩ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত আছরের ওয়াক্ত থাকে। তবে, আল্রাহ পাক না করুন যদি কেউ অসুস্থতার কারণে ঘুমিয়ে থাকেন কিংবা অন্য কোন বিশেস কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আছরের নামাজ আদায় করতে পারলেন না। তাহলে সূর্য়াস্তের পূর্বে কেবলমাত্র ঐ্ দিনের আছরের নামাজ আদায করতে পারবেন।আছরের নামাজ ক্বাযা করতে হবে না।

আছরের নামাজ রাকয়াত। যথা:-
     ১) ৪ রাকায়াত সুন্নত
     ২) ৪ বাকায়াত ফরজ
    
আছরের ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল আছরি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

আছরের চার রাকায়াত সুন্নত নামাজ সুন্নতি ক্বিফায়া যা নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনও পড়েছেন আবার কখনও ছেড়ে দিয়েছেন।কাজেই উক্ত চার রাকায়াত সুন্নত নামাজ বাধ্যতামূলক নয়। আদায় করা ফজিলতের কারণ, আবার সুন্নতের খেয়ালে ছেড়ে দেওয়াতেও ফজিলত রয়েছে। সুবহানাল্রাহ। তাই আদায় করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে সুন্নতের খেয়ারে ছেড়ে দেওয়া আফযল এবং উত্তম।   

আছরের ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল আছরি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

মাগরিরের নামাজ
সূর্যাস্তের পর থেকে ওয়াক্ত শুরু হয। হানাফী মাযহাব মতে সূর্যাস্ত হতে ১ ঘন্টা ‍১২ মিনিট মাগরিবের ওয়াক্ত থাকে।তবে, বিনা ওযরে বিলম্ব করা সুন্নতের খিলাফ।
  
মাগরিরের নামাজ রাকয়াত। যথা:-
     ১) ৩ রাকায়াত ফরজ
     ২) ২ বাকায়াত সুন্নত
     ৩) ২ রাকায়াত নফল
মাগরিরের ৩ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা ছালাছা রাকতাই ছলাতিল মাগরিবি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।


মাগরিরের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল মাগরিবি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল নাফলি মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

তবে, নফলের চেয়ে সুন্নতের মর্যাদা অধিক বিধায় এভাবে নিয়ত করাটা অধিক ফজিলতের কারণ।

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

আওয়াবীনের নামাজ
মাগরিবের নামাজের পর আওয়াবীনের ওয়াক্ত। সময় ও সুযোগ থাকলে দুই দুই রাকায়াত করে মোট ৬ রাকায়াত আওয়াবীনের নামাজ আদায় করা সুন্নত এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিশেষ সন্তষ্টি লাভের মাধ্যম।

আওয়াবীনের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল আওয়াবীন সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

ঈ’শার নামাজ
মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হতেই ঈ’শার ওয়াক্ত শুরু হয়। অর্থাৎ আকাশে লালিমা দেখা দেওয়ার পর খেকে সুবহি সাদিকের পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত ঈ’শার ওয়াক্ত থাকে।
ঈ’শার নামাজ ১৭ রাকায়াত। যথা:-
১) ৪ রাকায়াত সুন্নত
২) ৪ রাকায়াত ফরজ
৩) ২ রাকায়াত সুন্নত
৪) ২ রাকায়াত নফল
৫) ৩ রাকায়াত বিতর
৬) ২ রাকায়াত নফল
ঈ’শার ৪ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল ঈ’শায়ি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

আছরের ন্যায় ঈ’শার চার রাকায়াত সুন্নত নামাজও সুন্নতি ক্বিফায়া যা নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনও পড়েছেন আবার কখনও ছেড়ে দিয়েছেন।কাজেই উক্ত চার রাকায়াত সুন্নত নামাজ বাধ্যতামূলক নয়। আদায় করা ফজিলতের কারণ, আবার সুন্নতের খেয়ালে ছেড়ে দেওয়াতেও ফজিলত রয়েছে। সুবহানাল্রাহ। তাই আদায় করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে সুন্নতের খেয়ারে ছেড়ে দেওয়া আফযল এবং উত্তম।   

ঈ’শার ৪ রাকায়াত ফরজ নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা আরবায়া রাকতাই ছলাতিল ঈ’শায়ি ফারদ্বুল্লা-হি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

ঈ’শার ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল ঈ’শায়ি সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল নাফলি মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

তবে, নফলের চেয়ে সুন্নতের মর্যাদা অধিক বিধায় এভাবে নিয়ত করাটা অধিক ফজিলতের কারণ।

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

২ রাকায়াত নফল নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল নাফলি মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

তবে, নফলের চেয়ে সুন্নতের মর্যাদা অধিক বিধায় এভাবে নিয়ত করাটা অধিক ফজিলতের কারণ।

নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

বিতরের ৩ রাকায়াত ওয়জিব নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা ছালাছা রাকতাই ছলাতিল বিতরি ওয়জিবুল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

দূআয়ে কুনুত
বিতর নামাজের ৩য় রাকায়াতে সূরা ফাতিহা অন্য কিরআত পড়ার পর, আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত করার ন্যায় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে পূনঃরায় হাত বেধে এই দোয়া পড়তে হয়
"আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা'ঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়া নু'মিনু বিকা ওয়া না তা ওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখ লা, ওয়া নাত রুকু মাইয়্যাফ জুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস', ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখ'শা যাবাকা ইন্না আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুল হিক "
অর্থ- হে আল্লাহ, আমারা আপনার নিকট সাহায্য চাই। আপনার নিকট গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা কেবল মাত্র আপনার উপরেই ভরসা করি। সর্বপ্রকার কল্যান মংগলের সাথে আপনার প্রশংসা করি। আমরা আপনার শোকর আদায় করি, আপনার দানকে অস্বীকার করি না।আপনার নিকট ওয়াদা করছি যা, আপনার অবাধ্য লোকদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক রাখব না-তাদেরকে পরিত্যাগ করব হে আল্লাহ, আমরা আপনারই দাসত্ব স্বীকার করি। কেবলমাত্র আপনার জন্যই নামাজ,কেবল আপনাকেই সিজদা করি এবং আমাদের সকল প্রকার চেষ্টা সাধনা কষ্ট স্বীকার কেবল আপনার সন্ততুষ্টিরজন্যই আমরা কেবল আপনারই রহমত লাভের আশা করি, আপনার আযাবকে আমাওরা ভয় করি। নিশ্চয়ই আপনার আযাবে কেবল কাফেরগনই নিক্ষিপ্ত হবে

২ রাকায়াত হালক্বী নফল নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।

সকল নফল নামাজের একই নিয়ত এবং একই নিয়মে আদায় করতে হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের পর এই দুই রাকায়াত নফল নামাজ সব সময় বসে বসেই আদায় করেছেন বিধায় উক্ত দুই রাকায়াত নফল নামাজ হালক্বী নফল হিসেবে মশহুর।

আর এ কারণে, হালক্বী নফল নামাজ বসে আদায় করাটাই খাছ সুন্নতে এবং অধিক ফজিলতের কারণ পক্ষান্তরে দাড়িয়ে পড়া সুন্নতের খিলাফ।  

তাহাজ্জুদের নামাজ
মধ্যরাতের পর হতে সুবহি সাদিকের পূর্ব মূহুর্ত পযর্ন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত থাকে। দুই দুই রাকায়াত করে কমপক্ষে চার থেকে বার রাকায়াত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সুন্নত এবং মহান আল্রাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিশেষ সন্তষ্টি রেযামন্দি লাভের উসিলা বা মাধ্যম। ঈ’শার নামাজ আদায় করে কিছু সময় ঘুমিয়ে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সুন্নত তবে যারা দেরীতে ঘুমান কিংবা ঘুম খেকে উঠে নামাজ আদায় করতে পারবেন কিনা সন্দেহ থাকলে. রাত্র সাড়ে এগারটার পর তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে নেওয়া যেতে পাবে।

তাহাজ্জুদের ২ রাকায়াত সুন্নত নামাজের নিয়ত
নাওয়াইতু আন উসাল্রিয়া লিল্রা-হি তায়ালা রাকতাই ছলাতিল তাহাজ্জুদ সুন্নতি রাসুলিল্রাহি তায়ালা মুতওযাজ্জাহান ইলা জাহতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি আল্রহু আকবার।



সহজ নামাজ শিক্ষা


অযুর নিয়ম
"বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
পবিত্রতা লাভের উদ্দেশে এবং আল্লাহ্' পাকের ইবাদত ও সন্তুষ্টির লক্ষে আমি ওযু করছি।
প্রথমে দুহাত কব্জি পর্যন্ত- তিনবার ধৌত করার পর
মুখে নাকে তিনবার পানি দিয়ে কুলি করা নাক পরিষ্কার করা

অতঃপর মুখমন্ডল ধৌত করা (কপালের উপর চুল গজানোর স্থান থেকে নিয়ে দাড়ির নিম্নভাগ, এবং এক কান থেকে নিয়ে অপর কান পর্যন্ত-)

এরপর দুহাতের আঙ্গুলের শুরু থেকে কনুই পর্যন্ত- তিন বার ধৌত করা প্রথমে ডান হাত অতঃপর বাম হাত

আবার নতুন করে দুহাত পানি দিয়ে ভিজিয়ে তা দ্বারা মাথা মাসেহ্ করা দুহাত মাথার অগ্রভাগ থেকে নিয়ে পিছন দিকে ফিরায়ে অতঃপর অগ্রভাগে নিয়ে এসে শেষ করা তারপর দুকান মাসেহ্ করা দুহাতের দুই তর্জনী কানের ভিতরের অংশ এবং দুবৃদ্ধাঙ্গলী দিয়ে বাহিরের অংশ মাসেহ্ করা এর জন্য নতুনভাবে পানি নেয়ার দরকার নেই

অতঃপর দুপা টাখনুসহ তিনবার ধৌত করা প্রথমে ডান পা, তারপর বাম পা
পা ধৌত করার সময় বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলি দ্বারা পায়ের আঙ্গুলগুলি নীচ থেকে খিলাল করা মুস্তাহাব সুন্নত এবং খিলাল করার পর পায়ের আঙ্গুলির নীচে যে খাঁজ থাকে তা কনিষ্ট থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি পর্যন্ত উক্ত বাম হাতের কনিষ্ট আঙ্গুলি দ্বারা টেনে দেওয়াটাও মুস্তাহাব সুন্নতের অর্ন্তভূক্ত।

ওজু শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে এই দোয়া পড়লে জান্নাতের দরজাসমূহ ঐ ব্যক্তির জন্য খুলে দেওয়া হয়।

أَََشْهَدُ أَنْ لا إلَه إِلّا الله وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্‌দুহু ওয়া রাছুলুহু।


অজুর ফরজ সমুহ:

. সমস্ত মুখমন্ডল একবার ধোয়া।
 কনুই সহ উভয় হাত একবার ধোয়া।
. মাথা মসেহ করা।
. টাখনু সহ উভয় পা একবার ধোয়া

বি:দ্র:-কোন ফরজ বাদ পড়লে অজু হবেনা।কিন্তু সুন্নত বাদ পড়লে অজু হয়ে যাবে তবে সুন্নতের সওয়াব থেকে মাহরুম হবে

অজুর সুন্নত সমুহ:

-বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে অজু শুরু করা
. কবজি সহ উভয় হাত তিন বার ধোয়া
. কুলি করা
. নাকে পানি দেওয়া
. মেসওয়াক করা
. সমস- মাথা একবার মসেহ করা
. প্রত্যেক অঙ্গ তিন বার করে ধোয়া
. কান মসেহ করা
. হাতের আঙ্গুল সমুহ খেলাল করা
১০. পায়ের আঙ্গূল সমুহ খেলাল করা
১১. ডান দিক থেকে অজু শুরু করা
১২. ক্বোরানে বর্নিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করা
১৩. গর্দান মসেহ করা
১৪. অজু শুরুতে মেসওয়াক করা
১৫. দুই কান মসেহ করা
১৬. এক অঙ্গের পানি শুকানোর পুর্বেই অন্য অঙ্গ ধৌত করা

বি:দ্র: পুরুষের ঘন দাড়ি থাকলে মুখমন্ডল ধোয়ার পর ভিজা হাতে তিন বারদাড়ি খিলাল করতে হবে

অজুর মাকরূহ সমুহ

. অযুর সুন্নত সমুহের যে কোন সুন্নত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে অযু মাকরূহহবে
. প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করা
. মুখমন্ডল ধৌত করার সময় সজোরে মুখে পানি নিক্ষেপ করা
. বিনা ওজরে বাম হাত দ্বারা কুলি করা  নাকে পানি দেওয়ার সময় ডান হাতে নাক পরিস্কার করা
. অপবিত্র স্থানে অযু করা
,. মসজিদের মধ্যে অযু করা,তবে কোন পাত্রের মধ্যে অযু করা জায়েয
. কফ্কাশী বা নাকের ময়লা অযুর পানির মধ্যে নিক্ষেপ করা
. বিনা কারনে অন্যের সাহায্য নেওয়া
৯.অযু করে কিংবা গোসল করে কোন ইবাদত না করে সেই অযু থাকা  অবস্থায় নতুন অযু করা মাকরূহ

অযু ভঙ্গের কারন সমুহঃ

. প্রসাব-পায়খানা করলে
. পায়খানার রাস্তা দিয়ে বায়ু নির্গত হলে
. শরীরের কোন অংশ থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে
. নিদ্রামগ্ন হলে।
. মুখ ভরে বুমি করলে
. নামাযের মধ্যে সশব্দে হাসলে

বি:দ্র: অসুস্থ ব্যাক্তি যাদের দাঁত থেকে রক্ত আসে কিংবা প্রায়ই লিঙ্গের মুখে পানি চলে আসে তারা চিকিৎসা কালীন সময়ে ভালভাবে একবার অযু করে ঐ অযুর দ্বারা এক ওয়াক্তের নামাজ সমূহ আদায় করতে পারবেন। তবে সম্ভব হলে অযু করার পর অতিরিক্ত কাপড় থাকলে পাক সাফ কাপড় পরিধান করা নেওয়াটা তাক্বওয়া।  



জায়নামাজের দোয়াঃ
নামাজের জন্য
দাঁড়িয়েই পড়তে হয়,
ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ্ হিয়া লিল্লাজি, ফাত্বরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল্ আরদ্বা হানি-ফাওঁ ওয়ামা-আনা মিনাল মুশরিকী-
অর্থ-নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ পাক উনার দিকে মুখ করলাম, যিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবিকই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই
এরপর নামাজের নিয়াত করে তাক্কবীরে তাহরীমা (আল্লহু আকবার) পাঠ করতে হবে।
নামাজের সংকল্প করাটাই নামাজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব সুন্নতের অর্ন্তভূক্ত। (মনে মনে যা কেবলমাত্র নিজে শ্রবণ করা যায় বা উপলব্ধি করা যায়)
সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া'লা
(
রাকাত হলেরাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
(
রাকাত হলেছালাছা রাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
(
রাকাত হলেআর্ বায় রাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
(
ওয়াক্তের নামফাজ্ রি/ জ্জুহরি/'ছরি/মাগরবি/ইশাই/জুমুয়া'তি
(
কি নামাজ তার নামফরজ হলে ফারদ্বুল্ল-হি/ ওয়াযিব হলে ওয়াজিবুল্ল-হি/ সুন্নত হলে সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তায়া'লা/নফল হলে নাফলি
(
সমস্ত নামাজেইমুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা'বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার


বাংলায় নিয়াত করতে চাইলে বলতে হবে, আমি আল্লাহ্' উদ্দেশ্যে ক্বিবলা মুখী হয়ে,
ফজরের নামাজ হলে বলতে হবে ফাজরি             
জোহরের আসরের হলে বলতে হবে যোহরি
মাগরিবের হলে বলতে হবে মাগরবি
ঈ’শার হলে বলতে হবে ঈ’শায়ি
জুময়ার হলে বলতে হবে জুময়াতি
বি'তরের হলে বলতে হবে বি’তরি
তারাবির হলে বলতে হবে তারাবি
তাহাজ্জুদের হলে বলতে হবে তাহাজ্জুদ
ইশরাকের হলে বলতে হবে ইশরাক
চাশতের হলে বলতে হবে চাশত
আওয়াবীনের হলে বলতে হবে আওয়াবীন
(ছলাতুল হাযত অথবা যে নামাজ হয় তার নাম)
রা'কায়াত/ ৩ রা’কায়াত/ রা’কায়াত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)
ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করছি, আল্লাহু আকবার

আল্লাহু আকবার বলা যাবে না। বলতে হবে আল্ল-হু আক্ বার কেননা আল্লাহ পাক শব্দের লামকে মোটা বা পোর করে পড়তে হয়।

আক্বামত
জামায়াতে নামাজ আদায়ের লক্ষে ইমাম সাহেবর পিছনে দণ্ডায়মান মুসল্লিগণের মধ্য হতে একজন নিম্নক্তো কালাম মুবারকগুলো জোরালোভাবে উচ্চারণ করে থাকেন। যা আক্বামত নামে পরিচিত।
আল্ল-হু আক্ বার (৪বার)
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২বার)
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল্লাহ‌ (২বার)
হাইয়া আলাস্ সালাহ (২বার)
হাইয়া আলাল্ ফালাহ (২বার)
ক্বদ্‌-কামাতিস ছলাহ্ (২বার)
আল্ল-হু আক্ বার (২বার)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২বার)

আক্বামতের জবাব
আক্বামতের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। ইমাম সাহেব সহ উনার পিছনে সমবেত মুসল্লিগণ তা শ্রবণ করত অনুরুপ কালাম সমূহ মনে মনে বলবেন।
তবে, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল্লাহশ্রবণে প্রতিবারই চোখে বুছা দিবেন এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুল্লাহ না বলে বলবেন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
হাইয়া আলাস্ সালাহ এবং হাইয়া আলাল্ ফালাহ এর পরিবর্তে বলবেন    লা হাওল ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা
ক্বদ্‌-কামাতিস ছলাহ্ এর পরিবর্তে বলবেন
আক্বামাহা ওয়া আদ্বামাহা


নামাজের নিয়ত ও তাকবীরে তাহরীমা
নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়াত করা। মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব সুন্নত যা কেবলমাত্র নিজে শুনা বা অনুধাবন করা।
সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া'লা
    (
 রাকায়াত হলেরাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
    (
 রাকায়াত হলেছালাছা রাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
    (
 রাকায়াত হলেআর্ বায়  রাক্ 'য়াতাই ছলাতিল
    (ওয়াক্তের নামফাজ্ রিজ্জুহরি/'ছরি/মাগরিবি/ইশাই/জুমুয়া'তি
    (কি নামাজ তার নামফারদ্বুল্লা-হি/ওয়াজিবুল্ল-হি/সুন্নাতি রসূলিল্লাহি/নাফলি
    (সমস্ত নামাজেইতায়া'লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা'বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার

নামাজের নিয়ত শিখে নেওয়াটা কোন কঠিন কাজ নয়। তবে মুখস্ত না হওয়ার পর্যন্ত মাজুর হিসেবে এভাবে বাংলায়ও নিয়ত করা যেতে পারে

আমি মহান আল্লা-হ্ পাকে' উদ্দেশ্যে ক্কেবলা মুখী হয়েফজরের/জোহরের/আসরের/মাফরিবের/ঈশার/জুময়ার/বি'তরের/তারঅবি/তাহাজ্জুদের (অথবা যে নামাজ হয় তার নাম) 'কাত/৩র'কাত/ 'কাত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করলামআল্ল-হু আকবার 
নামাযের পূর্বে অযু করা ফরজ। অযু ব্যতীত নামাজ পড়া জাযেজ নেই। তবে ওযর থাকলে তাওয়ামুম করে নিলেও চলবে।অযু ব্যতীত সিজদা করা হারাম।

ছানা
হাত বাধার পর (নাভীর উপর বাম হাতের উপর ডান হাত বেধে, মহিলাদের ক্ষেত্রে বুকেরে উপর অনুরূপভাবে হাত বেধে) ছানা পাঠ করতে  হয়।
সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গয়রুক
অর্থ-হে আল্লাহ পাক ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কেহই ইবাদতের যোগ্য নয়

তাআউজঃ
আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম
অর্থ-বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি


তাসমিয়াঃ 
বিসমিল্লাহির রহ্‌মানির রহিম
অর্থ-পরম দাতা দয়ালু আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করছি

এরপর সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে হয়,


আয়াত নং الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আলহামদু লিল্লাহি রব্লিল লামিন
অর্থ-সমস্ত প্রসংশা একমাত্র আল্লাহ পাক উনার জন্য

আয়াত নং الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
আর রহহমানির রহিম
অর্থ-যিনি পরম করুনাময় মহান দয়ালু

আয়াত নং مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
মালিকি ইয়াওমিদ্দিন
অর্থ-যিনি বিচার দিনের মালিক

আয়াত নং إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
ইয়্যা কানাবুদু ওয়াইয়্যা-কানাস তাঈন
অর্থ-আমরা যেন আপনারই এবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি

আয়াত নং اهدِنَـا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম
অর্থ-আপনি আমাদের  সরল  পথ দেখান

আয়াত নং صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ
সিরাত্বাল্লাযিনা আন মতা আলাইহিম
অর্থ-তাদের পথ যাদের আপনি নিয়ামত (অনুগ্রহ) দান করেছেন
(আল্লাহ পাক অনত্র ইরশাদ করেন নিয়ামত দান করা হয়েছে নবী, সিদ্দিক, শহীদ সলেহগণকে)সুবহানাল্লাহ। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে নবীদের পাওয়া যাবে না। আর আল্লাহ পা্ক উনার জন্য স্বীয় জীবনটাকে বিলিয়ে দেওয়া বা শাহাদত বরণ করার জন্য অন্তর পরিশুদ্ধ করা চাই। আর সেজন্য কামিল মুর্শিদ বা হক্কানী ওলী আল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত করে উনার সোহবত ইখতিয়ার করতে এবং উনার তরতীব মুতাবিক যিকির ফিকির করতে হবে। আর এই আয়াতে কারীমে সেই ওলী আল্লাহ উনাদের কথাই বলা হয়েছে উনাদের সংস্পর্শে আসলে সাধারণ মানুষ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত লাভে ধন্য হতে পারবেন।

আয়াত নং غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلا الضَّالِّينَ َ

গাইরিল মাগদুবে আলাইহিম ওয়ালাদ্ব দ্বো-য়াল্লিন
অর্থ-তাদের পথ নয়,যারা অভিশপ্ত পথভ্রষ্ট। (ইহুদী নাসারা মুজুসী মুশরিক)

ক্বিরাত করা
সূরা ফাতিহা শরীফ তিলাওয়াতের পর পবিত্র কুরআন শরীফ হতে   কমপক্ষে ছোট তিন আয়াত শরীফ অথবা যে  কোন একটি বড় আয়াত শরীফ যা ছোট তিন আয়াত শরীফের সমপরিমান অথবা পূণাঙ্গ একটি সূরা পাঠ করতে হবে
প্রথম রাকায়াতে পবিত্র কুরআন শরীফ হতে যে কোন আয়াত শরীফ ক্বিরাত করলে পরবর্তী রাকায়াতে ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে পরবর্তী যে কোন আয়াত শরীফ ক্বিরাত করা যাবে এক্ষেত্রে এক আয়াত বা একাধিক আয়াত শরীফ  পাঠ না করে অর্থাৎ ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী আয়াত শরীফ থেকে ক্বিরাত আরম্ভ করলে শরীয়তে কোন বাধা নেই।
নামাজে ক্বিরাত করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ পবিত্র কুরআন শরীফের শেষ দশটি শুরা পাঠ করে থাকেন। কারণ উক্ত শুরা গুলি সহজ কিন্তু শেষের দশটি শুরা শরীফের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতায় একটি শুরা শরীফ বাদ দিয়ে পরবর্তী রাকায়াতে অন্য শুরা ক্বিরাত করা জায়িয নেই। বাদ দিলে বা ছেড়ে গেলে কমপক্ষে দুইটি শুরা ছেড়ে ক্বিরাত করতে হবে।যেমন: প্রথম রাকায়াতে সূরা ফীল-আলাম তারা ক্বিরাত করা হলে এর পর দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ ক্বিরাত করতে হবে। দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ এর পরিবর্তে সূরা মাউন ক্বিরায়াত করা যাবে না। এক্ষেত্রে ছেড়ে যেতে চাইলে দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা কুরাইশ ও সূরা মাউন উভয় সূরার পরবর্তী ধারাবাহিকতায় যে কোন সুরা ক্বিরাত করা যাবে। যেমন সূরা কাওছার ক্বিরাত করা যেতে পারে। অন্যথায় নামাজ শুদ্ধ হবেনা। আর এ করনেই উক্ত শুরা শরীফ সমূহের ধারাবাহিকতা জেনে নেওয়া অত্যাবশ্যক। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো:-


সূরা ফীল- আলাম তারা
সূরা কুরাইশ- লী ইলাফি কুরাইশীন
সূরা মাউন- আরওয়াই তাল্লাযী
সূরা কাওছার-ইন্না আত্বইনা
সুরা কাফিরূন-কূল ইয়া আয্যুহাল কাফিরুন
সূরা নছর-ইযা যা আ নাছরুল্লাহি
সূরা লাহাব-তাব্বত ইয়াদা আবি লাহাবিয়্যিউ
সূরা ইখলাছ-কূল হু ওযাল্লহু আহাদ
সূরা ফালাক্ব- কূল আয়্যুযু বি রব্বিল ফালাক্ব
সূরা নাস- কূল আয়্যুযু বি রব্বিন নাস

ক্বিরাতিল ইমাম ক্বিরাতি মুক্তাদী
জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম নিজের এবং মুক্তাদীর পক্ষ থেকেই ক্বিরাত করে থাকেন বিধায় আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক যারা ইমাম সাহেবের পিছনে ইক্তিদা করবেন তাদের সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন সূরা ক্বিরাত পাঠ  করার কোন আবশ্যকতা থাকেনা।

রুকূ
ক্বিরাত শেষে আল্লাহ আকবার (اَللَّهُ اَكْبَرُ) বলে রুকূতে যাওয়া  স্বীয় হস্তদ্বয় হাটুদ্বয়ের উপর রেখে পিঠকে প্রসারিত করে স্থিরভাবে রুকূ করা
রুকুতে ৩/৫/৭ নিম্নক্তো তাছবীহ পাঠ করতে হয়।
 سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ))
ছুবহানা রব্বীয়াল আযীম
অর্থঃ আমি মহান প্রতিপালক উনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি

রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
রুকূ হতে উঠে সোজা হয়ে দাড়ানোর সময় বলতে হবে
( سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ)
ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ
অর্থঃ প্রশংসাকারীর প্রসংশা আল্লাহ পাক  শ্রবন করছেন
একাকী কিংবা জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইমাম ও মুক্তাদী  সকলকেই  পাঠ করতে হবে
অতঃপর ইমাম সাহেব সোজা হয়ে দাঁড়ালে বলতে হবে
 رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ))
রব্বানা লাকাল হাম্
অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! সকল প্রশংসা আপনার জন্য


সিজদাহ
অতঃপর আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ করতে হবে
মুখমণ্ডলের দুই পাশে দুই হাত ক্বিবলা বরাবর মাটিতে অবনত রেখে এমনভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে এমনভাবে সিজদাহ করতে হবে যেন প্রথমে নাক ও কপাল মাটিতে স্পর্শ করে।
অতঃপর রুকুর ন্যায় সিজদাহ –এর ক্ষেত্রেও  ৩/৫/৭ নিম্নক্তো তাছবীহ পাঠ করতে হয়।
(سُبْحَانَ رَبِّيَ الاَعْلَى)
ছুবহানা রাব্বীয়াল লা
অর্থঃআমি আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি
আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ থেকে মাথা উঠাতে


জলসাঃ
(দুই সিজদাহ মাঝখানে বসা)
প্রথম সিজদাহ সিজদাহ তাসবীহ পাঠ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ‘আল্লাহ আকবারবলে স্বীয় মাথা মুবারক উত্তলন করে  দুই সিজদাহ মাঝখানে সোজা স্থির হয়ে বসতেন এবং এই দূ পাঠ করতেন,
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَ ارْحَمْنِى وَ اهْدِنِىْ وَ عَافِنِىْ وارْزُقْنِىْ

উচ্চারণঃ আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী

অর্থঃহে আল্লাহ পাক! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হিদায়াত দান করুন, মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং জীবিকা দান করুন
এক্ষেত্রে দু’আ জানা না থাকলে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমান সময় স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব

এই দূ পাঠ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ আকবার বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন এবং প্রথম সিজদাহ মতই দ্বিতীয় সাজদায় তাসবীহ পাঠ করতেন অতঃপর আল্ল-হু আকবার বলে সিজদাহ থেকে স্বীয় মাথা মুবারক উঠাতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতেন

দ্বিতীয় রাকাআতঃ
দ্বিতীয় রাকাআতে প্রথম রাকাআতের ন্যায় সবকিছু করতেন, তবে ছানা আউযুবিল্লাহ পাঠ করতেন না একথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, প্রত্যেক নামাযের প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা। তবে দ্বিতীয় কিংবা শেষ রাকায়াতে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে কওমায় বা উক্ত বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করতে হয়।)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার রাকাআত বা তিন রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম দুই রাকাআত শেষে  কওমায় তাশাহ্*হুদ পাঠের জন্য বসার সময় দুই সিজদাহ মাঝখানে বসার ন্যায় বসতেন (বুখারী)


তাশাহুদঃ
আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস্ ছলাওয়াতু ওয়াত্বায়্যিবাতু আস্ সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবিউ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আস্-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলিহীন আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আব্‌দুহু ওয়া রাসূলুহু
অর্থঃ আমাদের  শ্রদ্ধা, আমাদের নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ পাক উনার জন্য হে নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার প্রতি সালাম। আপনার উপর আল্লাহ পাক উনার  রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক আমাদের আল্লাহ পাক উনার নেক বান্দাদের উপর উনার রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল্লাহ পাক উনার  বান্দা এবং রাসুল


তাশাহ্হুদ পাঠ করার সময় আশহাদু আল্লাইলাহা বলা মাত্রই ডান হাতের শাহাদত আঙ্গুলি খাড়া/ উঠানো মুস্তাহাব সুন্নত। অতঃপর ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহা’ম্মাদান আব্‌দুহু ওয়া রাসূলুহু পড়তে পড়তে আঙ্গুলি নামাতে হবে।

তাশাহ্হুদ পাঠ করার পর আল্ল-হু আকবার বলে চার বা তিন রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের বাকী নামাযের জন্য পূনঃরায় দাঁড়াতে হবে

তৃতীয় রাকাআতঃ
তৃতীয় রাকাআতে দ্বিতীয় রাকাআতের ন্যায় সবকিছু করতেন
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা।দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে দাড়ান।
তবে তিন রাকায়াত নামাজের ক্ষেত্রে ইহাই শেষ রাকায়াত। আর তাই এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে তাশাহুদ এবং দরূদ শরীফ এবং দু’আ মাসুরা পাঠ করে যথারীতি প্রথমে ডান দিকে অতঃপর বাম দিকে সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

চতুর্থ রাকাআতঃ
চতুর্থ রাকাআতে প্রথম রাকাআতের ন্যায় সবকিছু করতেন।
(অর্থাৎ সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর নিয়মানুয়ী ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে ক্বিরাত শেষ করে রুকু, সোজা হয়ে দাড়ানো, সিজদাহ করা, সোজা হয়ে বসা, পূনঃরায় সিজদাহ করা। চতুর্থ কিংবা শেষ রাকায়াতে দ্বিতীয় সিজদাহ এর পর সোজা হয়ে না দাড়িয়ে সোজা হয়ে বসে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ এবং দু’আ মাসুরা পাঠ করতে হয়।)

শেষ বৈঠক সালাম ফেরানোঃ
তাশাহ্হুদ পাঠের জন্য শেষ বৈঠকে বসা ওয়াজিব তবে বসার সময় ডান পা খাঁড়া রেখে বাম পায়ের  উপর বসা এভাবে বসে প্রথমে আত্যাহিয়াতু পাঠ শেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর (দরূদ শরীফ) সালাত পাঠ করতে হবেযা দরূদে ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) নামে মশহুর।

দরূদ শরীফঃ
আল্লহুম্মা ছল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিও ওয়া আ’লা আ’লি মুহা’ম্মাদিন কামা ছল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ আল্লহুম্মা বারিক আ’লা মুহা’ম্মাদিও ওয়া আ’লা আ’লি মুহা’ম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ’লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ

অর্থ-হে আল্লাহ পাক, দয়া রহমত করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তার বংশধরদের উপর নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান হে আল্লাহ পাক, বরকত নাযিল করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার বংশধরদের উপরনিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য সম্মানের অধিকারী

দরূদ পাঠ শেষে দূ মাসুরা পাঠ করতে হবে(বুখারী),

দূ মাসুরাঃ
আল্লহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসী জুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ্ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর্ রহীম

অর্থ-হে  আল্লাহ পাক, আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি  কিন্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না অতএব হে আল্লাহ পাক অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল দয়ালু

অতঃপর প্রথমে ডান দিকে পরে বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতে হবে

জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কতিপয় জরুরী মাসয়ালা

১। ডানে বামে দেখে টাখনু (পায়ের গোড়ালীর কাছাকাছি বাইরের দিকে উচুঁ হাড়) বরাবর ঠিক রেখে কাতার সোজা করা এবং ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। 


২। আকামত চলাকালীন সময়ে আক্বামত দাতা ব্যাতীত সকলে বসে থাকা এবং হাইয়া আলাস ছালাহ বললে উঠে দাঁড়ায়ে কাতার সোজা করা মুস্তাহাব। তবে এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবকে দায়িত্ব নিয়ে কাতার সোজা করায়ে অতঃপর নামাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় ওয়াজিব তরকের গুনাহে সকলেই গুনাহগার হবে।


৩। আক্বামত চলাকালীন সময়ে নামাজে উপস্থিত হয়ে ইমাম সাহেবের সাথে সাথে  আল্লহু আকবার বলা ফরজ। যা তাকবীর ওয়ালা নামে খ্যাত। এছাড়া একা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও নিয়ত করে আল্লহু আকবার (তাকবীবে তাহরীমা) উচ্চারণ করতঃ হাত বাঁধা ফরজ। (মনে মনে কিংবা উচ্চ - আওয়াজে) অন্যথায় ফরজ তরকের কারণে 
নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে।

৪। ফজর, মাগরিব ও  CÕkvi  নামাজ উচ্চ আওয়াজে এবং যোহর, আসর নামাজ মনে মনে আদায় করা সুন্নত।


৫। কোন কারণে যদি কেউ পবে এসে জামায়াতে শরীক হয়ে থাকেন অর্থাৎ জামায়াত শুরু হয়ে থাকে এবং নিয়ত উচ্চারণ করার সময় না থাকে তাহলে শুধু ্আল্লহু আকবার বলে হাত বেঁধে নামাজে শরীক হওয়া যাবে। তবে হাত বেঁধে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে। অতঃপর  ইমাম সাহেবের সাথে রুকুতে যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে রকুতে ইমাম সাহেবের সাথে কমপক্ষে এক তাসবীহ পাঠ করা চাই (তিন তাসবীহ-ই পাঠ করতে হবে) অন্যথায় উক্ত রাকায়াত জামাতের সঙ্গে আদায় হয়নি বিধায় শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর তিনি সালাম ফিরাবেন না ববং দাঁড়ায়ে নামাজের ঐ রাকয়াত একা আদায় করে নিবেন। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

৬। কোন কারণে যদি কেউ পবে এসে জামায়াতে শরীক হয়ে থাকেন অর্থাৎ জামায়াত শুরু হয়ে থাকে এবং এক রাকায়াত/দুই রাকায়াত/ তিন রাকায়াত অতিবাহিত হয়ে যায় তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর তিনি সালাম ফিরাবেন না ববং দাঁড়ায়ে নামাজের ঐ রাকয়াত সমূহ একা আদায় করে নিবেন। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

৭। কেউ যদি দুই রাকায়াত নামাজে এক রাকায়াত না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরায়াত করতে হবে।  অতঃপর  রুকু, সিজদাহ করে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে। 

৮। দুই রাকায়াত নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।  

৯। জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব ব্যতীত কেউ সুরা ফাহিহা কিংবা অন্য কোন সূরা পাঠ করবেন না। কেননা, আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক ক্বিরাতিল ইমাম ক্বিরাতি মুক্তাদী। অর্থাৎ ইমাম সাহেব নিজের ও মুসল্রিগণের (মুক্তাদীর) পক্ষ খেকে ক্বিরায়াত করে থাকেন। তবে দেরীতে নামাজে শরীক হওয়ায় এক বা একাধিক রাকায়াত না পাওয়ার কারনে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। উক্ত রাকায়াত সমূহ ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর দাঁড়ায়ে একা আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা ও ক্ষেত্রবিশেষে অন্য সূরা মিলায়ে ক্বিরআত করতে হবে। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১০। কেউ যদি চার রাকায়াত নামাজে এক রাকায়াত/ দুই রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করলে্ই চলবে। অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কারণ সে তিন রাকয়াত নামাজ পেয়ে থাকলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকয়াত ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে। চতুর্থ
রাকায়াতটি তার জন্য তৃতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে ইতিমধ্যেই আদায় হয়ে গেছে। কাজেই না পাওয়া এক রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য চতূর্থ  রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কেননা ফরজ নামাজের শেষের দুই রাকায়াতে সূরা মিলানের ্আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে। 

১১। অনুরুপভাবে, চার রাকায়াত নামাজে দুই রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করলে্ই চলবে। অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। কারণ সে দুই রাকয়াত নামাজ পেয়ে থাকলে তৃতীয়  চতুর্থ রাকয়াত ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় রাকায়াত যা ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে। কাজেই না পাওয়া দুই রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য তৃতীয় ও  চতূর্থ  রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১২। তবে, চার রাকায়াত নামাজে তিন রাকায়াত নামাজ না পায় সেক্ষে্ত্রে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার সময়  সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরাযাত করতঃ এক রাকায়াত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ সে চতুর্থ রাকায়াত  (ইমাম সাহেবের পিছনে আদায় করা হয়েছে) যা ঐ ব্যাক্তির জন্য প্রথম রাকায়াত। এবং এটি তার দ্বিতীয় রাকায়াত। অতঃপর তাশাহুদ পাঠ করে আল্লহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে এবং  না পাওয়া বাকী দুই রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য তৃতীয় ও  চতূর্থ রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১৩। চার রাকায়াত নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।  

১৪। মাগরিবের নামাজে কেউ এক রাকায়াত না পেলে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা এক রাকায়াত নামজ আদায় করার সময় কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। 

১৫। অনুরূপভাবে মাগরিবের নামাজে  কেউ দুই রাকায়াত না পেলে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে।ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা এক রাকায়াত নামজ আদায় করার সময় সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য কোন সূরা ক্বিরাযাত করতঃ এক রাকায়াত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ এটি তার দ্বিতীয় রাকায়াত। অতঃপর তাশাহুদ পাঠ করে আল্লহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াবে এবং  না পাওয়া অবশিষ্ট রাকায়াত নামাজ ঐ ব্যাক্তির জন্য শেষ রাকায়াত যেখানে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করলেই চলবে অন্য সূরা মিলানোর আবশ্যকতা নেই। অতঃপর শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরূদ শরীফ দু্আ মাসুরা পাঠ করতঃ ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে যথারীতি নামাজ শেষ করতে হবে।

১৬। মাগরিবের নামাজে  শেষ বৈঠকে কেউ শরীক হলে ঐ ব্যাক্তি জামায়াতের ফজিলত লাভ করবে। তবে, শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করার পর চুপ করে বসে থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর  দাঁড়ায়ে একা অবশিষ্ট নামজ আদায় করার যে হুকুম সেভাবে আদায় করতে হবে।  

১৭। নামাজ ধীর স্থির ভাবে হুজুরীর সাথে আদায় করতে হবে। কোন প্রকার তাড়াহুড়া করা কিংবা দায় সারা ভাব নিয়ে নামাজ আদায় করলে তা কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে সূরা মাউন উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “ফাওয়াই লুল লিল মুসাল্লিন“ অর্থ ঃ মুসল্লিদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এখানে প্রশ্ন আসতে পাবে যারা নামাজ পড়েন তারাইতো মুসল্লি, তাহলে তাদেরকে কেন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে ? জবাব হচ্ছে, তারা আল্লাহ পাক উনার সন্তষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেনি। পক্ষান্তরে তারা দায়সারা বা লোক দেখানো নামাজ আদায় করেছে। কাজেই একা হউক কিংবা জামায়াতে হউক সর্ব প্রকার খেয়াল বাদ দিয়ে কমপক্ষে মাহান আল্লাহ পাক উনার সামনে দণ্ডায়মান আছি একথা স্মরণ রেখেই নামাজে দাড়াতে হবে এর্ং উনার সন্তষ্টির লক্ষেই নামাজ আদায় করতে হবে।

১৮। নামাজের প্রত্যেকটি ধাপ যেমান: রুকু, রুকুতে সময় নিয়ে তাসবীহ পাঠ করা,  অতঃপর ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ। 
বলে সোজা হয়ে দাড়ান এবং কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমান সময় দাড়িয়ে খেকে অতঃপর আল্লহু আকবার বলে সিজদাহ করা। সিজদাহে সময় নিয়ে তাসবীহ পাঠ করা। অনুরূপ ভাবে সিজদাহ থেকে উঠে জলছায় স্থির হয়ে সময় নিয়ে বসা এবং দ্বিতীয় সিজদাহ করা। পররর্তী রাকায়াতে প্রথমে সোজা হয়ে দাড়াতে অতঃপর সূরা ফাতিহা , অন্য সূরা ক্বিরআত করতে হবে।
(এক তাসবীহ পরিমান সময় বলতে বুঝায় এক তাসবীহ পাঠ করতে যে সময় লাগে ঐ সময়।) নামাজে যদি কারও এক স্থানে এমনটি তরক হয়ে য়ায় তাহলে ওয়াজিব তরকের কারনে সিজদায়ে সাহু আদায় করত নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্ত দুই বা ততোধিক বার ওয়াজিব তরক করলে নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নামাজ পূণঃরায় আদায় করতে হবে।

১৯। নামাজের কোন একটি ওয়াজিব অনিচ্ছাকৃত ছেড়ে গেলে, 
তিন রাকায়াত বা চার রাকায়াত বিশিষ্ট নামাজে 
দ্বিতীয় রাকায়াত শেষে জলছায় বসে তাশাহুদ পাঠ করার পর ভুল বশত দরূদ শরীফ পাঠ করে ফেললে, 
ভূল বশত দ্বিতীয় রাকায়াত শেষ করে জলছায় না বসে দাড়িয়ে গেলে অল্প দাড়ালে বসে পড়ে তাশাহুদ পাঠ করতে হবে। কিন্ত সোজা হয়ে দাড়িয়ে গেলে কিংবা সূরা ক্বিরআত আরম্ভ করে থাকলে তা চালিয়ে যেতে হবে। সিজদাহে সাহু দিতে হবে।
ঐ সকল ক্ষেত্রেই শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করে ডান দিকে অাস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ বলে এক সালাম ফিরায়ে আল্লহু আকবার বলে সিজদাহে যেতে হবে এবং যথারীতি পর পর দুই সিজদাহ করে পূণঃরায় তাশাহুদ, দুরূদ শরীফ, দুআ মাসুরা পাঠ করে  সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করতে হবে। এভাবে সিজদায়ে সাহু আদায় করত নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।      

২০। মহিলাদের বসার তরতীবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরহিজগার আলিমা মহিলাদের থেকে সরসরি জেনে নেওযাটািই উত্তম।

২১। অসুস্থ ব্যাক্তির জন্য সন্মানিত শরীয়তে বিশেষ ছাড় রয়েছে। অসুস্থ ব্যাক্তি বসে বসে কিংবা তাও সম্ভব না হলে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন। অতিরিক্ত অসুস্থ ব্যাক্তি যার পক্ষে কোন অবস্থায় নামাজ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না, তিনি সুস্থতা লাভ করার পর উক্ত নামাজ সমূহের ক্বাজা আদায় করলেই চলবে। কোন কাফ্ফারা আদায় করতে হবে না। 

২২। অসুস্থ ব্যাক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করা কিংবা দাড়িয়ে নামাজ আদায় করা বাধ্যবাধ্যতা থাকে না। তথাপি কেউ যদি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন তা নিঃসন্দেহে ভাল। অসুস্থ ব্যাক্তি মসজিদে গিয়ে দাড়িয়ে নামাজ না পড়তে পারলে বসে বসে জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে মসজিদে চেযারে বসে নামাজ আদায় করা কোন অবস্থায় শরীয়তসম্মত হবেনা। কেননা মসজিদে চেয়ারে বসাটাই চরম বেয়াদবী। আর বেয়াদব সমস্ত কিছু থেকেই মাহরূম। কাজেই, আল্লাহ পাক না করূন কারও যদি  শারীরিক অবস্থা চরম খারাপ হয়, তাহলে সে মসজিদে না গিয়ে, বাসায় বসে বসে কিংবা শুয়ে শুয়ে ইশারায় নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বাড়ীতে চেয়াবে বসাতে কোন অসুবিধা নেই।    
  
মুনাজাত:
মুনাজাত নামাজের অংশ নয়। এমনটি অনেকেই বলে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে কথাটা সত্যি। তবে পবিত্র কুরআন শরীফ হাদীস শরীফে কোথাও এমনটি কেউ দেখাতে পারবেনা যেখানে বলা হয়েছে যে নামাজের পর মুনাজাত করা যাবে না। বরং হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “ফরজ নামাজের পরে দু’আ কবুল হযে থাকে।”  আরও ইরশাদ হয়েছে, “মুনাজাত ইবাদতের মূল বা সারাংশ।”  by‡i gyRvmmvg, nvexeyjøvn ûRyi cvK Qjøvjøvû AvjvBwn &Iqv mvjøvg উনি দুই হাত মুবারক উত্তোলন করে মুনাজাত করেছেন। সুতরাং মুনাজাত করাটা অদব ও খাস সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। বরং না করাটা জিহালতী, বিয়াদবী ও অহংকারীত্ব প্রকাশ করা যা কোন মুমিন মুসলমানের কাজ হতে পারে না। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে চাইলে উনি খুশী হন, আর না চাইলে উনি গোস্সা করেন। মহান আল্লাহ পাক না করূন, উনার রোশানলে পড়লে কারও কোন প্রকার ইবাদত মোটেই কবুলযোগ্য হবে না। আর তাই ইবাদত বন্দেগীতে সর্বচ্চো বিণয়ী হওয়া অত্যাবশ্যক। মাহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সর্বচ্চো বিণয়ী হয়ে উনার ইবাদত বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা তাওাফক দান করুন। (আমীন)

সুরা ফাতিহা 


بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيم
الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِين
الرَّحمـنِ الرَّحِيم
مَـالِكِ يَوْمِ الدِّين
إِيَّاك نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِين
اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّين
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ই্‌য়াকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাইন। ইহ দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল লাযিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দুয়ালিন।


অর্থ-পরম করুণাময়  অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
mg¯Í cÖmsmv gnvb Avjøvn&& cvK Dbvi whwb m„wóRM‡Zi cÖwZcvjZ
whwb cig `qvjy cig Kiæbvgq
whwb wePvi w`i‡mi gvwjK
Avgiv AvcbviB Bev`Z Kwi Ges Avcbvi wbKUB mvnvh¨ cÖv_©bv Kwi
Avgv‡`i‡K mij c_ cÖ`k©b Kiæb, †mB mg&¯Í †jvK‡`i c_ hv‡`i‡K Avcwb wbqvgZ `vb K‡i‡Qb
(A_©vr bex wmwÏK knx` I m‡jn hv‡`i‡K wbqvgZ `vb Kiv n‡q‡Q|)

Zv‡`I c‡L bq, hviv Awfkß MRecÖvß Ges c_fªó| (A_©vr Bû`x, bvmviv, wn›`y, gyRmx, gykwiK)

নামাজে বহুল পঠিত পবিত্র কুরআন শরীফ উনার শেষ দশটি ছোট সুরা দেওয়া হল।সুরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করার পর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এই সুরা গুলি পাঠ করার নিয়ম।

সূরা ফীল 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলাম তারা কাইফা ফাআলা রাব্বুকা বিআছহা বিল ফীল
আলাম ইয়াজ আল
কাইদাহুম ফী তাদলীলিওঁ ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বাইরান আবাবীল ,তারমীহিম বিহিজারাতিম মিন সিজ্জীলিন।
ফাজা আলাহুম কাআছ ফিম মাকূল।


অর্থ-পরম করুণাময়  অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাত্ করে দেননি?
তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।
অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন


সূরা কুরাইশ 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
লি-ঈলাফি কুরাইশিন। ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতায়ি ওয়াস সাইফ। ফাল ইয়াবুদু রাব্বা হাযাল বাইত। আল্লাযি আত আমাহুম মিন জুয়েঁউ ওয়া আমানাহুম মিন খাউফ।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
কোরাইশের আসক্তির কারণে, আসক্তির কারণে তাদের শীত গ্রীষ্মকালীন সফরের। অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন

সূরা মা’উন
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
অর্থ-পরম করুণাময়  অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আর-আইতাল্লাজী ইউকাজ্জিবু বিদ্দিন
ফাযা লাকাল্লাজী ইয়াদুউল ইয়াতীম
ওলা ইয়া হুদ্দো আলা ত্বয়ামীল মিছকীন
ফা্ওয়াই লুল লীল মুছাল্লিনাল লাজী নাহুম
আং ছলাতিহিম ছাহুন
আল্লাজীনাহুম ইউরয়্যুনা ওয়া ইয়াম নায়্যুনাল মা’উন। 

আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়
এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।
অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে
এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না
সূরা কাওসার 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ইন্না আতাইনা কাল কাওসার। ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ান হার। ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ

সুরা কাফিরুন 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
কুল ইয়া আইউহাল কাফিরূন। লা 'বুদু মাতাবুদুন। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ। ওয়া লা আনা আবিদুনা মা আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মাআবুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালীয়া দ্বীন।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম কর্মফল আমার জন্যে

সূরা নাসর 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু। ওয়ারা আইতান নাসা ইয়াদ খুলুনা ফি দিনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু। ইন্নাহুকানা তাওওয়াবা।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য বিজয় এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী

সূরা লাহাব 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
তাব্বাৎ ইয়াদা আবি লাহাবেউ ওয়াতাব্বা মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব। ছাইয়াছলা নারান জাতা লাহাবিউ ওয়ামরা আতুহু হাম্মালাতাল হাতাব। ফী জীদিহা হাবলুম মিম মাছাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করেতার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি

সূরা ইখলাস 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুলহু আল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই

সূরা ফালাক 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মাখালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা অক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্‌ফাসাতি ফিল্‌ উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে

সূরা নাস 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুল আউযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস। মিন শাররীল ওয়াস ওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযি ইউওয়াস ভিসু ফী সুদুরিন্নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার। মানুষের অধিপতির, মানুষের প্রভুর, তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে

এছাড়া বহুল পঠিত আরো কয়েকাট ছোট সুরা দেওয়া হল।
সূরা আসর 
বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ওয়াল আসরি। আন্নাল ইনসানা লাফী খুস্‌রিন। ইল্লাল্লাযীনা আমানু ওয়া আমিলুস সালিহাতি। ওয়া তাওয়াসাও বিল কাককি। ওয়া তাওয়াসাও বিল সাবর।

অর্থ-পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের




শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

bvIqvBZz Avb Dmvwjøqv wjjøv-wn Zvqvjv ivKvZvB Qjvতিল লাইলাতুম মুবারাকা mybœvwZ ivmywjjøvwn Zvqvjv gyZIqv¾vnvb Bjv RvnwZj K¡vewZk kvixdvwZ Avjøû AvKevi|


অর্থ: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শবে বরাত এর দু’রাকাআত সুন্নত নামাযের নিয়ত করছি- আল্লাহু আকবার।


পবিত্র শবে ক্বদর-এর নামাযের নিয়ত

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة اليلة القدر سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রকা’আতাই ছলাতিল লাইলাতিল ক্বদরি সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তা’য়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার। 


অর্থ: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লাইলাতুল ক্বদর এর দু’রাকাআত সুন্নত নামাযের নিয়ত করছি- আল্লাহু আকবার।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন                     “পবিত্র শবে ক্বদর”

ছলাতুত্‌ তাসবীহ নামাজের নিয়ত
bvIqvBZz Avb Dmvwjøqv wjjøv-wn Zvqvjv Avievqv ivKvZvB Qjvতুত্‌ তাসবীহ mybœvwZ ivmywjjøvwn Zvqvjv gyZIqv¾vnvb Bjv RvnwZj K¡vewZk kvixdvwZ Avjøû AvKevi|
سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر
উচ্চারণ: “সুব্হানাল্লাহি ওয়ালহাম্দু লিল্লাহি ওয়ালা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।”
প্রতি রাকায়াতে ৭৫ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে অর্থাৎ চার রাকায়াত নামাযে মোট ৩০০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে।
পবিত্র ছলাতুত্ তাসবীহ নামায উনার নিয়ম
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন                     “ছলাতুত্‌ তাসবীহ”


ঈদুল ফিতর-এর নামাযের নিয়ত
نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة العيد الفطر مع ستة تكبرات واجب الله تعالى اقتديت بهذا الامام متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر .

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রকা’আতাই ছলাতিল ঈদিল ফিতর মা’আ সিত্তাতি তাকবিরতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা ইক্বতাদাইতু বি হা-যাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল ক্বা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবার। 


বাংলায়: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতর-এর ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।


ঈদুল আদ্বহা-এর নামাযের নিয়ত


নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রকা’আতাই ছলাতিল ঈদিল আদ্বহা মা’আ সিত্তাতি তাকবিরতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা ইক্বতাদাইতু বি হা-যাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল ক্বা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবার।

বাংলায়: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল আদ্বহা-এর ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।

No comments:

Post a Comment